মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে (আগে নাম ছিল আওরঙ্গাবাদ) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে বিতর্ক মিটছেই না। এবার সেখান থেকে আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণ করার জোর দাবি তুলেছে দেশটির একাধিক হিন্দুত্ববাদী দল।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আওরঙ্গজেবের সমাধি সরিয়ে নেওয়া না হলে বাবরি মসজিদের মতোই পরিণতি হবে এই সমাধির। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর গুঁড়িয়ে দেয়া হয় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ।
সোমবার ( ১৭ মার্চ) একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আওরঙ্গজেবকে নিয়ে সমাজতান্ত্রিক পার্টির বিধায়ক আবু আসিম আজমির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই মুঘল বাদশার সমাধি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এর আগে বিজেপির সাতারার সাংসদ তথা ছত্রপতি শিবাজির বংশধর উদয়নরাজে ভোসলেও আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি করেন।
এই দাবিকে কার্যত সমর্থন করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি জানান, স্থানটি এএসআই দ্বারা সুরক্ষিত। তাই এবিষয়ে যে কোনও পদক্ষেপ আইনি পথেই নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের জানান সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুর থেকেই মহারাষ্ট্রব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে তারা। অবিলম্বে ওই সমাধি সরিয়ে না নিলে রাস্তা বন্ধ করার পাশাপাশি এই সমাধি ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেই অবশ্য সমাধি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
কেন এই দাবি উঠেছে সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা দাবি করেন, আওরঙ্গজেবের সমাধি দাসত্ব, পরাধীনতা এবং নৃশংসতার স্মারক হিসেবে কাজ করছে।
তাদের মতে,'মহারাষ্ট্রের সব হিন্দুরা চায় রাজ্য থেকে আওরঙ্গজেবের সমাধি মুছে ফেলা হোক। কারণ তিনি তার বাবাকে জেলে রাখেন, তার ভাইদের হত্যা করেন এবং আমাদের মন্দিরগুলো ধ্বংস করেন। মহারাষ্ট্রে তার সমাধি একটি বিষাক্ত তরবারির মতো।' সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
দিনা/