ভারত-পাকিস্তান চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহম্মদ আসিম মালিককে দেশটির দশম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
রীতিমতো নজির গড়ে শাহবাজ শরিফের মন্ত্রীসভা এই প্রথম কোনও কর্মরত আইএসআই প্রধানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্বভার দিল।
শাহবাজ শরিফের অত্যন্ত বিশ্বস্ত তিন তারকাখচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ড. মুহম্মদ আসিম মালিক বর্তমানে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার ডিজি পদে কর্মরত আছেন।
পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করা আসিম মালিক পড়ালেখা করেন বেলুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্থলেভেনওর্থে ( ইউ এস আর্মি ইন্সটলেশান্স) ‘মাউন্টেউন ওয়ারফেয়ার‘-এর ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
তাকে একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বভার দিয়ে নিয়োগ করা দেশটির ইতিহাসে এই প্রথমবার ঘটল।
পাহালগাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ায় সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের মতোই বুধবার ( ৩০ এপ্রিল) ভারত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদে ( ন্যাশনাল সিকিউরিটি আডভাইসরি বোর্ড) ব্যাপক রদবদল করে। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা সংক্ষেপে RAW-এর প্রাক্তন প্রধান অলোক জোশিকে এনএসএবি-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
এনএসএবি -তে এখন ৬ সদস্য আছেন। যাদের মধ্যে ৩ জন সেনা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, দুজন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসার এবং একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলা পর্যায়ের। তাদের মধ্যে আছেন দক্ষিণাঞ্চল সেনার অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল একে সিং, অবসরপ্রাপ্ত ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডার এয়ার মার্শাল পিএম সিনহা এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মন্টি খান্না।
অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রাজীবরঞ্জন বর্মা ও মনমোহন সিং এবং আইএফএস বি বেঙ্কটেশ বর্মা এই নতুন পরিষদে আছেন। ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আডভাইসরি বোর্ড প্রথম গঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। এর আগে শেষবার বোর্ড গঠিত হয় ২০১৮ সালে। সূত্র: দ্য ডন এবং হিন্দুস্তান টাইমস
দিনা/