ইসরায়েল-ইরান সংঘাত প্রতিনিয়তই আন্তজার্তিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা আর উত্তেজনা যোগ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ইরানের পক্ষে রাশিয়ার কড়া সতর্কবার্তা এলো।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে’এবং এই অঞ্চলে বিপজ্জনক উত্তেজনার সূত্রপাত করবে- ইসরায়েলকে সতর্ক করে এমন বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। এমন বললেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল প্রেস সেক্রেটারি এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অব দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিস দিমিত্রি পেসকভ।
ইসরায়েল -ইরান চলমান সংঘাতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত এটিই রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য।
শুক্রবার (২০ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গের কনস্টানটাইন প্রাসাদে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্কাই নিউজকে বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন অগ্রহণযোগ্য। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন,এই ধরনের পদক্ষেপ দেশটিতে চরমপন্থী মনোভাব উস্কে দেবে।
এরপর তিনি ইসরায়েলে সতর্ক করে বলেন,‘যারা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার কথা বলছেন তাদের এটা মনে রাখা উচিত এই অনর্থ ঘটালে তারা প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবে যেটি পরবর্তীতে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’
এমন সময় ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই কঠিন হুঁশিয়ারি আসলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ইরানি এই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা এবং সরকার পতনের বিষয়ে মন্তব্য এসেছে।
পেসকভ আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বিশ্বব্যাপী বিপজ্জনক। সংঘাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাব্না আরও বিপজ্জনক। এটি কেবল সংঘর্ষের আরেকটি বৃত্তই নয় বরং এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির নানান দিক উন্মোচন করবে।’
খামেনি নিহত হলে রাশিয়া কি প্রতিশোধ নেবে?-জানতে চাইলে কিছুটা কৌশলী হয়ে পেসকভ বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ইরানে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ পরিণতি ডেকে আনবে। যেটি পরবর্তীতে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। ’
আন্তজার্তিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনিকে হত্যা করলে সেটি শুধু ইরানকে নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ ইউরেশিয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তুলবে। এমনকি এটি চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক নতুন ধরনের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
তাছাড়া, রাশিয়া আশঙ্কা করছে- ইসরায়েল-ইরানের টানা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ফলে তেহরানের ইসলামি সরকার পতনের মুখে পড়তে পারে, যা রাশিয়ার আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
সুলতানা দিনা/