সুদানের উত্তর কর্দোফান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রদেশটির রাহাদ শহরের কাছে যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে এই হামলা চালানো হয়।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসকদের সংগঠনটি এই ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ এবং একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। উত্তর কর্দোফান রাজ্য সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবারের এই হামলার ঠিক আগের দিন শুক্রবারও ওই অঞ্চলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) ত্রাণবাহী কনভয় ও জ্বালানি ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরএসএফ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানায়, এল-ওবেয়েদ শহরের দিকে যাওয়ার পথে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো হামলার শিকার হয়।
যুক্তরাষ্ট্রও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘‘দুর্ভিক্ষকবলিত মানুষের জন্য পাঠানো খাবার ধ্বংস করা এবং মানবিক কর্মীদের হত্যা করা একটি জঘন্য কাজ। ট্রাম্প প্রশাসন এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।’’
উল্লেখ্য, সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই গৃহযুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে পদার্পণ করছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন এবং একাধিক অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/