ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

হিরো আলমের ওপর হামলা মামলার প্রতিবেদন ২ জুন

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম
হিরো আলমের ওপর হামলা মামলার প্রতিবেদন ২ জুন
ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম। ছবি : সংগৃহীত

ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় করা এক মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। সদ্যসম্পন্ন একাদশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় এই মামলা করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম প্রতিবেদন দাখিলের এই দিন ধার্য করে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) এ আদেশ দেন। এ দিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যই ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।

রাজধানীর বনানী থানায় ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী সুজন রহমান শুভ। এতে অভিযোগ করা হয়, ওই বছর ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী পরান সরকারসহ প্রতিনিধি রাজীব খন্দকার, মো. রনি, মো. আল-আমিনসহ অনেকে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে থাকেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করে বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতায় হিরো আলম এবং আমিসহ প্রতিনিধিরা বেলা সাড়ে ৩টায় বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাই। প্রার্থীসহ আমরা পাঁচ-ছয়জন ওই কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জন বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের গতিরোধ করে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যে প্রার্থী হিরো আলমকে আক্রমণ করে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় একজন হত্যার উদ্দেশ্যে দুই হাতে হিরো আলমের কলার চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন এবং অন্য একজন তার তলপেটে লাথি মারলে হিরো আলম রাস্তায় পড়ে যান। তখন অন্য বিবাদীরা হিরো আলমকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন এবং টানাহিঁচড়া করেন। ওই সময়ে আমি এবং অন্যরা মিলে হিরো আলমকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তারা আমাকে ও পরান সরকার, রাজীব খন্দকার, রনি ও আল-আমিনকে মারধর করে জখম করেন। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ এবং একতারা প্রতীকের সমর্থনকারীদের সহায়তায় হিরো আলমসহ আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।’

১৪ বছর আগের মাদক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম
১৪ বছর আগের মাদক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড

১৪ বছর আগে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় শাহ আলম নামে এক আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক আবুল কাশেম এ রায় দেন। 

এদিন রায় ঘোষণার আগে শাহ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আসামি জামিনে ছিলেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠান।

জানা যায়, ২০১০ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন এলাকার রড-সিমেন্টের এক দোকানের সামনে আসামি শাহ আলমকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করেন র‌্যাব-৩। ওই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই মাহবুবে খোদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম
বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আসসামছ জগলুল হোসেন এ নির্দেশ দেন। 

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৩ মে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পদ জব্দের নির্দেশ এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোও অবরুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে, গত ২২ এপ্রিল বেনজীরের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রিগ্যান হাইকোর্টে রিট করেন।

সম্প্রতি ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। আর তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি থাকার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। 

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ৩৪ বছর ৭ মাস চাকরি করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা তার আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক।

বেনজীর আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে আয়ের তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, চিঠিতে জানান সুমন। 

এমন পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদককে অনুরোধ করেন তিনি।

আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম
আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!
প্রতীকী ছবি

উচ্চ আদালতের রায়ের পরও দেনমোহরের মামলার কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না মাদারীপুরের বালিয়া গ্রামের সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত এবং পরে হাইকোর্টের রায়ের পরও শেষ হয়েও হলো না বিচার!

মাদারীপুর জেলার বালিয়া গ্রামের অনাথ মেয়ে সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পুলিশে কর্মরত মফিজুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দাবিতে সুবর্ণাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতো।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মে নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। ওইদিন স্বামীসহ পরিবারের লোকজন বর্ণাকে মারধর করে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে এ বিষয়ে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার নম্বর ২১৫/১৭, তারিখ ২৫-০৫-২০১৭। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর এই মামলায় ঘোষিত রায় তার বিপক্ষে যায়।

অপরদিকে মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালতে দায়ের করা মামলায় (নং-২৫/২০১৭) বিবাদী মফিজুল ইসলাম রিপনকে স্ত্রীর মোহরানার টাকা পরিশোধের রায় ঘোষণা করেন বিচারক। 

পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। কিন্তু হাইকোর্ট তার আপিল বাতিল করে সুবর্ণা আক্তারকে প্রাপ্য মোহরানা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

পরে হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করতে পুনরায় মাদারীপুর জেলা আদালতে আবেদন করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। 

মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত মফিজুলকে অনতিবিলম্বে দুই লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

নিম্ন আদালতের এই নির্দেশের পর এই রায়ের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন মফিজুল। পরে চলতি বছরের ২৮ মার্চ ওই আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন মফিজুল ইসলাম রিপনকে প্রাপ্য মোহরানার টাকা প্রতিমাসে পাঁচ হাজার করে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

রায়ে যদি ধরে নেওয়া হয়, বিবাদী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সময়সীমা অনুসরণ করবে তাহলেও এই হারে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করতে আট বছর চার মাস সময় লাগবে। বিভিন্ন অজুহাতে এই সময়সীমা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ফলে প্রক্রিয়াটি অসহায় বাদীর জন্য খুবই কষ্টকর ও হয়রানিমূলক হবে। 

আইনের প্যাঁচে বিবাদী অনির্দিষ্টকাল বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করেন বাদী। 

তিনি মনে করেন, মফিজুল ইসলাম রিপন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নানা অপকৌশলের মাধ্যমে ক্রমাগত ন্যায্য বিচার লাভ ও প্রতিকার লাভের সকল উপায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন সুবর্ণা আক্তার বর্ণা।

এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৫:৪৬ পিএম
এমপি আনার হত্যা, ৩ আসামি রিমান্ডে
ছবি : খবরের কাগজ

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২৪ মে) আদালত এই নির্দেশ দেন। আসামিদের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (আদালতে দায়িত্বরত) এসআই জালাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, রিমান্ড শুনানিতে কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, এই ঘটনাটি নৃশংস। কাউকে এভাবে হত্যা করা যায় ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবশ্যই এ মামলায় রিমান্ড পাওয়া উচিৎ। আর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিলাস্তি রহমান আদালতের কাছে দাবি করেন, এসব ঘটনার কিছুই তিনি জানেন না।

পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার (২৪ মে) তাদেরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম আদালতে এই রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন- শিমুল ভূইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূইয়া ওরফে আমানুল্যা সাইদ, তানভীর ভূইয়া ও শিলাস্তি রহমান।

উল্লেখ্য এমপি আনার গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। ১৩ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আনার।

পরে গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় আনার নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এই সংসদ সদস্যের। তিনদিন পর গত ২২ মে গণমাধ্যমে খবর আসে, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনার খুন হয়েছেন। তবে এখনও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

এদিকে এমপি আনার নিখোঁজের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলায় তিনি কাউকে আসামি করেননি। পরে পুলিশ আটক এই তিনজনকে এই মামলায় আসামি করে।

মামলার এজাহারে ডরিন উল্লেখ করেন, ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সংসদ সদস্য ভবনের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১১ মে ৪টা ৪৫ মিনিটে বাবার সঙ্গে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ পাই।

‘১৩ মে আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি আছে। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। পরে ফোন দেবো।’

‘এ ছাড়াও আরও কয়েকটি মেসেজ আসে। মেসেজগুলো বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজখবর করতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। বাবাকে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবাকে অপহরণ করেছে। বাবাকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি।

মাহমুদুল আলম/এমএ/

 

পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:২৩ এএম
পি কে হালদারের দুই সহযোগীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদারের সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তৎকালীন দুই পরিচালক বাসুদেব ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী পাপিয়া ব্যানার্জিকে ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

তাদের জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এ নির্দেশ দেন আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। শুনানিতে দুদকের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। 

গত ৯ মে পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বাসুদেব ব্যানার্জি ও পাপিয়া ব্যানার্জির ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের বেঞ্চ। জামিনের শর্ত ছিল পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা বিদেশ যেতে পারবেন না।

হাইকোর্টের দেওয়া এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক আবেদন করলে ১৩ মে তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ সংশোধন ও প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে তাদের ৪ জুনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।