বগুড়ার গাবতলীতে তোজাম্মেল হক হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শাজাহান কবির এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাছেদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাবুল প্রামানিক (২৮), মানিক (২৮) এবং মিশু (২৭)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পিন্টু মিয়া ওরফে মাজেদুর রহমান (৪০), দেলোয়ার হোসেন দুলু (৫৮) এবং আশিক (২৮)। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কেবল পিন্টু মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক।
এ ছাড়া, দুজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে চলছে। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন শান্ত সাকিদার।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বটিয়াভাঙ্গা এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তোজাম্মেল হককে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মমিন মোল্লা ওইদিনই গাবতলী থানায় মামলা করেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন ১০ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে গাবতলীর বটিয়াভাঙ্গা সড়কের ওপর তোজাম্মেলকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তোজাম্মেলকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের আট বছর পর এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অধিকাংশই পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে তারা অবিলম্বে এই রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
রিপন/এসজি/