ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
Nagad desktop

শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম
শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরেক আসামি পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার এবং দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ অধীনে মোট পাঁচ অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো হচ্ছে- ১. গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান, ৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ৪. রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা ও ৫. আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো।

এর মধ্যে তিনটিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার দ্বিতীয় আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে রাজধানীর চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। এই দুই ঘটনায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে মামলার তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের। তার উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। রায় উপলক্ষে এদিন সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার অন্য দুই সদস্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল মামলার শুরু থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন।

মামলার পাঁচটি অভিযোগের সব কটিই প্রমাণ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগ ‘প্ররোচনা, হত্যার নির্দেশ এবং বলপ্রয়োগ থামাতে ব্যর্থতার’ দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয় শেখ হাসিনার।

দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একসঙ্গে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে দ্বিতীয় অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, এই অভিযোগের ক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন ‘নিরস্ত্র আন্দোলনকারীর’ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য দায়ী করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। আর পঞ্চম অভিযোগে একই দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ষষ্ঠজনকে জীবিত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ আনা হয়।

চানখাঁরপুলে ছয়জন নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পঞ্চম অভিযোগের আশুলিয়ায় পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও চানখাঁরপুলে ছয়জন নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পঞ্চম অভিযোগের আশুলিয়ায় পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতায় দায় প্রমাণিত হয়েছে। তবে তার দণ্ড কমিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়, ঘটনার ‘সম্পূর্ণ ও সত্য বিবরণ’ দেওয়ার মাধ্যমে ‘অবদান’ এবং ‘ঘটনা স্বীকার করায়’ রাজসাক্ষী হিসেবে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় তিন বিচারক এজলাসে আসেন। রায় পড়া শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মামলা-সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানান, রায়টি মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠার। এরপর রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান বিচারকরা। বেলা ১টা ৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল অঙ্গনসহ পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকালীন বিভিন্ন ঘটনায় করা মামলায় এটিই প্রথম রায়। এ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাস থেকে সরাসরি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

এদিন শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর পাওয়ামাত্র ট্রাইব্যুনালের ফটকের সামনে উল্লাস শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলা হয়েছিল। এরপর ৩৯৭ দিনের মাথায় প্রথম কোনো মামলার রায় এল।

এই মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয় গত ৮ অক্টোবর। এরপর যুক্তিতর্ক শুরু হয় গত ১২ অক্টোবর, আর সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে ‘যুগান্তকারী’ ও ‘ভবিষ্যতের জন্য বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এজলাসে উপস্থিত থেকে রায় শোনেন তিনি। এ সময় চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশনের সদস্যরা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণা শেষে গণমাধ্যমকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা মনে করি এই রায় শহিদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এ দেশের মানুষের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি, সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায় পরিশোধের স্বার্থে একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় জনমানুষের মনে প্রশান্তি আনবে এবং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আদালত এই মামলার দুজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন আসামি রাজসাক্ষী হওয়ায় সার্বিক বিবেচনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার সাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। ‘ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ে’র জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী, আসামিরা যেদিন গ্রেপ্তার হবেন, সেদিন থেকেই তাদের সাজা কার্যকর হবে। রাষ্ট্র আইনিভাবে যা করা সম্ভব, তাই করবে।

রায় থেকে তিনি জানান, শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই মামলায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিষয় ছিল না। তাই এ বিষয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি।

রায় শোনা শেষে বের হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতির প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে অপরাধী যতই ক্ষমতাশালী হোক, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে যত বড় অপরাধী হোক, অপরাধের জন্য তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জটিল অপরাধের বিচার করতে সক্ষম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যে ১ হাজার ৪০০ তরতাজা তরুণ জীবন দিয়েছেন, এ রায়ের ফলে তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তিই প্রসিকিউশনের প্রাপ্তি। একটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই জাতিকে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার আমাদের যে ক্ষুদ্র প্রয়াস, সেটা যদি সফল হয়, সেটাতেই আমাদের সাফল্য।’

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যে ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ এখানে দেখানো হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো আদালতের মানে এই সাক্ষ্য-প্রমাণ উতরে যাবে। পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আজ যেসব আসামিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তারা একই শাস্তি দেবেন।’

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘কষ্ট’ পাচ্ছেন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন। তিনি আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষেও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী।

এজলাসে বসে রায় শোনার পর বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমার আসামির সাজা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। আমাকে কষ্ট দিবে না? এটিই স্বাভাবিক। এটিই আমার বক্তব্য।’

আইনি দিক তুলে ধরে এ আইনজীবী বলেন, ‘আমার পক্ষে এই মামলায় কোনো আপিলের সুযোগ নাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার মক্কেলরা এসে ট্রাইব্যুনালের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন অথবা তারা কোনোভাবে গ্রেপ্তার হবেন। এর আগ পর্যন্ত আপিল বিভাগে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা তো দেখেছেন যে আমাকে রায়ের কপিও ট্রাইব্যুনাল দেবেন না বলেছেন। এই যে দেবেন না, সেটাও আইনে আছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে আমির হোসেন বলেন, ‘আমার যুক্তিতর্ক নেয়নি তা তো বলব না। আমার যুক্তিতর্ক তো ওনারা নিয়েছেন। অনেক কিছু তো নিয়েছেন। নেওয়ার পরে ট্রাইব্যুনালের কাছে মনে হয়েছে, আমার যুক্তির চাইতেও ওনাদের যুক্তি আরও বেশি শক্তিশালী। সেটা মনে করে তারা সেইভাবে রায় দিয়েছেন। অতএব আমারটা নেয়নি, এটা আমি বলব না। আমি বলব, এই রায়ে আমি কষ্ট পাচ্ছি।’

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামি সোহেল রানার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান। এটিই ছিল গোপনীয় এই জবানবন্দির প্রথম প্রকাশ্য পাঠ।

গ্রেপ্তারের পর দোষ স্বীকার করে সোহেল রানা জবানবন্দিতে বলেন, “আমার নাম সোহেল রানা। আমি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনজন ভাড়াটিয়া থাকেন। সকালে তারা কাজে বের হয়ে যান। আমি নিয়মিত নেশা করি।”

তিনি আরও বলেন, “পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা বাসার বাইরে এলে আমি তাকে ডাকি। সে আসার পর তাকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। সে চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরি এবং ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ঘর থেকে ছুরি এনে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কাটার চেষ্টা করছিলাম। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। আমি ভয় পেয়ে সেলাই রেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।”

যুক্তিতর্ক শুনানিতে বর্তমানে আসামিপক্ষের বক্তব্য চলছে। শুনানির শুরুর আগে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছেন।

অমিয়/

আদালতে রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ঘাতক সোহেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:০০ পিএম
আদালতে রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ঘাতক সোহেল
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে  আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামি সোহেল রানার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান। এটিই ছিল গোপনীয় এই জবানবন্দির প্রথম প্রকাশ্য পাঠ।

গ্রেপ্তারের পর দোষ স্বীকার করে সোহেল রানা জবানবন্দিতে বলেন, “আমার নাম সোহেল রানা। আমি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনজন ভাড়াটিয়া থাকেন। সকালে তারা কাজে বের হয়ে যান। আমি নিয়মিত নেশা করি।”

তিনি আরও বলেন, “পাশের বাসার আট বছরের শিশু রামিসা বাসার বাইরে এলে আমি তাকে ডাকি। সে আসার পর তাকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। সে চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরি এবং ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ঘর থেকে ছুরি এনে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কাটার চেষ্টা করছিলাম। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। আমি ভয় পেয়ে সেলাই রেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।”

যুক্তিতর্ক শুনানিতে বর্তমানে আসামিপক্ষের বক্তব্য চলছে। শুনানির শুরুর আগে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অসুস্থতা বোধ করলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছেন।

অমিয়/

মা ও বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতে দেশে রয়েছে কঠোর আইন

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
মা ও বাবার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতে দেশে রয়েছে কঠোর আইন
ছবি: এআই
যে মা-বাবা সন্তানদের জীবন গড়তে নিজেদের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সেই মা-বাবার অনেকেই আজ সন্তানের নূন্যতম ভরণ-পোষণ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। এমন সামাজিক বাস্তবতায় পিতা-মাতার অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশে রয়েছে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩’।
 
এই আইনে ‘ভরণ-পোষণ’ বলতে মা-বাবার খাওয়া-দাওয়া, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং তাদের সময় বা সঙ্গ দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
 
আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেরা আলোচনা করে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন। এছাড়া প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
 
মা, বাবা অথবা উভয়কে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। নিয়মিত রাখতে হবে তাদের  স্বাস্থ্যের খোঁজখবর। প্রত্যেক সন্তান তার দৈনিক, মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত পিতা-মাতাকে প্রদান করবে।
 
আইনের ৪ ধারায় দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের বিষয়ে বলা হয়েছে, পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ভরণ-পোষণ দিতে সন্তান বাধ্য থাকবে। এটি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসেবেই গণ্য হবে।
 
৫ ধারায় বলা হয়েছে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার শাস্তি সম্পর্কে, কোনো সন্তান এই আইনের ৩ ও ৪ নং বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ড হতে পারে।
 
এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করেন, তবে তিনিও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য হবেন। এই অপরাধের জন্যও সমপরিমাণ অর্থাৎ অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
 
আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ আমলে নেবে না। তবে মামলা-মোকদ্দমার বাইরে আপস-নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনের ৮ ধারায়।
 
এর অধীনে আদালত প্রাপ্ত অভিযোগটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাঠাতে পারবেন। 
 
তারা উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিরোধটি মীমাংসা করবেন এবং এটি আপস-নিষ্পত্তি আদালত কর্তৃক অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
 
আরো পড়ুন>>
 
আমান/

সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান কারাগারে

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান কারাগারে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিতে আসাদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মুজিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মাহমুদ।

প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম এ তথ্য জানান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল্লাহ। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুজির পরেও পাননি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১১ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা। পরে এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১নং সেক্টরের একটি বাসা থেকে মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

জলিল উজ্জ্বল/সালমান/

এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি
সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা সাত মামলার মধ্যে এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।

তবে আরও ছয় মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি মো.খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  

এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি মো.খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা সাত মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন দীপু মনি। এরপর হাইকোর্ট আদেশের জন্য এদিন ঠিক রাখেন।

ডা. দীপু মনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও সহিংসতার নির্দেশনাসহ প্রায় ৩৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

রিফাত/