জাল রেমিট্যান্সের ভূয়া কাগজ দেখিয়ে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করায় সাবেক কর্মকর্তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট বিটি শাখা থেকে জাল রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর ও ভুয়া কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট তৈরি করে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাৎ করে ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। এই সংক্রান্ত মামলায় সাবেক ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।
আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি হলেন ব্যাংকার মো. ফজলে আজিম। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার মাষ্টারপাড়া কলেজ রোড এলাকার একেএম শাহ আলমের ছেলে। তিনি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বহদ্দারহাট বিটি শাখার সাবেক কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ছিলেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মোহাম্মদ রেজাত হোসেন, হামদে রাব্বি মুন্না ও রিপায়ন বড়ুয়া।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, আত্মসাৎ করা ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামি ফজলে আজিম পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা ফজলে আজিমকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে বহদ্দারহাট বিটি শাখায় বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রদানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফজলে আজিম বিভিন্ন ভুয়া রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর তৈরি করেন। পরে জাল কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট ও ট্রান্সফার ভাউচার ব্যবহার করে ব্যাংকের এফডিডি (আলরাজী) খাত থেকে টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ২০১৯ সালের ২০ মার্চ চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
আাবদুস সাত্তার/এসএন