ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গী বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গী বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র

সরকারের সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গী হয়েছে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের বাঁশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারি) এর একটি ইউনিট পুরোদমে চালানো হয়। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এবং ২১ অক্টােবর রাত ১২টা থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। দুই ইউনিট মিলে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারকে দেওয়া হবে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট। 

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে বাঁশখালীর (চট্টগ্রাম) গন্ডামারা এলাকায় বৃহৎ ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। 

এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডের সিএফও এবাদত হোসেন ভুঁইয়া জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচের লাগাম ধরে রাখতে একটি ফর্মূলা অনুসরণ করা হয়; তা হচ্ছে সবার আগে কম খরচে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো হয়। এরপর চাহিদার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি খরচে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো হয়। একে লিস্ট কস্ট জেনারেশন বলা হয়।

বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র লিস্ট কস্ট (সাশ্রয়ী তালিকা) অনুযায়ী, সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। এমনকী ভারত থেকে আমদানি করা আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায়ও কম। বাংলাদেশের, পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়িকেও পেছনে ফেলেছে বাঁশখালী। গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৮.২৫৯ ইউএস সেন্টস; যা চুক্তিকালীন (ইউএস ডলার ৭৮ টাকা) গড়ে ৬.৬০ টাকার মতো ছিল।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ওই খরচ অনেকটা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে কয়লার দাম এবং পরিবহন খরচ। তারপরও লিস্ট কস্ট তালিকায় সবার ওপরে থাকছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। আর তাই শীতকালে চাহিদা কম থাকার সময়েও চলছে একইভাবে।

বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালক বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির বলেন, আঞ্চলিক চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালাতে হতো। এখন আর সেগুলোতে হচ্ছে না। এখন কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবমিলিয়ে খরচ পড়ছে ১০ থেকে ১২ টাকার মতো। আর ডিজেলে ২৫ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলে ১৫ টাকা। ডিজেলের সঙ্গে তুলনা করলে প্রতি ইউনিটের খরচ কম পড়ছে ১৩ টাকার মতো। মাসে প্রায় ৮৮ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ইউনিট প্রতি ১৩ টাকা হারে সাশ্রয় ধরলেও সরকারের মাসে সাশ্রয় হবে ১,১৪৪ কোটি টাকার ওপরে। যে কারণে বড় খরচের হাত থেকেও রক্ষা পেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

তাছাড়া, বেসরকারি খাতে এস আলম গ্রুপ এবং সেপকো-থ্রির বিনিয়োগকৃত দেশের সর্ববৃহৎ এই কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪০০ কেভি জিআইএস এনারজাইজেশন করা হয়। ৬৬০ মেগাওয়াটের (প্রতি ইউনিট) দুই ইউনিটের এই প্ল্যান্টে ক্যাপাসিটির কয়লাভিত্তিক সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হওয়ার কারণে এতে পরিবেশ দূষণ হবে না। 

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বেসরকারি একক বিনিয়োগ হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আবার বেসরকারি প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগেও রেকর্ড করেছে গ্রুপটি। বেসরকারিখাতে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়নেও রেকর্ড ছুঁয়েছে। প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন এসেছে প্রকল্পটিতে। আর এস আলম গ্রুপ নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়ন করেছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২৭৫ মিটার উচ্চ রঙিন চিমনি অনেক দূর থেকেও দৃশ্যমান, যা বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চতম। সাগর মোহনায় নির্মাণ করা হয়েছে, বিশেষায়িত জেটি, যেখানে ঘণ্টায় ২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খালাস করা যাবে।

জাহাজ থেকে কয়লা খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। স্ক্রু আনলোডার ব্যবহার করায় কয়লা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দুটি আনলোডার দিয়ে ঘণ্টায় ২ হাজার টন কয়লা জাহাজ থেকে কোল ইয়ার্ডে নেওয়া সক্ষমতা রয়েছে।

কোল ইয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত দুটি কনভেয়ার বেল্টের সক্ষমতা রয়েছে ৪ হাজার মেট্রিক টন। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ঢাকনা যুক্ত কনভেয়ার বেল্ট বসানো হয়েছে। কয়লা ইয়ার্ডের চারপাশে দেওয়া হয়েছে উচু নেটের ঘেরা। দুটি উন্নতমানের এফজিডি (ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজেশন) নির্মাণ হয়েছে, অনেক আগেই। এতে করে ৯৯.৮৭ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব।

অ্যাশ সংরক্ষণের জন্য ২টি সাইলে নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রত্যেকটির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ২ হাজার ৬শ মেট্রিক টন। আর ৮০ একর জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে বিশাল অ্যাশপন্ড। সাইক্লোন কিংবা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতি দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে হেভি ওয়েভ প্রাচীর।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত বছরের ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়।

বাঁশখালী পুরোপূরি উৎপাদনে থাকলে দৈনিক প্রায় সোয়া ৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। দেশীয় কোম্পানি এস আলমের অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৭০ শতাংশ আর চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচ টিজির হাতে রয়েছে ৩০ শতাংশ।

সিএফও এবাদত হোসেন ভুঁইয়া বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। নির্মাণকালেই হাজার কোটি টাকার ওপরে ডিউটি জমা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।

দেশের ভেতর থেকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, করোনার মতো মহাসংকটের সময় যখন কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হচ্ছিল, সেই সময়সহ টানা ৪বছর ধরে ৭ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরুর আগে প্রকল্প এলাকায় বেকারত্বের হার ছিল ৫০ শতাংশ। এখন বেকারত্বের হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান এবাদত হোসেন ভুঁইয়া।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকর্মীদের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঘুরে দেখানো হয়। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানিখাতের সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় প্রথম সারির গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশাসনিক ভবনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালক এএসএম আলমগীর কবির, ভারপ্রাপ্ত সিইও ও হেড অব অপরেশন ওয়াই জিয়ানহুয়ান, সিএফও এবাদত হোসেন ভুঁইয়া, এসএমপি ডিপিডি মো. ফায়জুর রহমান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

> বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু শনিবার

হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিকে অভিযান : বন্ধ ২০টি, ৮টিকে জরিমানা

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৯ এএম
হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিকে অভিযান : বন্ধ ২০টি, ৮টিকে জরিমানা
ছবি : খবরের কাগজ

সারা দেশে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিযানে অনুমোদন না থাকায় ২০টি বন্ধ ও ৮টিকে জরিমানা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে ৭ প্রতিষ্ঠানকে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ১০টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেগুলো হচ্ছে কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক, ইকবাল রোড, মোহাম্মদপুর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। Bangladesh Specialised hospital, Shyamoli All are Ok. শুধু তথ্য কর্মকর্তার নাম ও ছবি টাঙাতে বলা হয়েছে। ইসলাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, কালার কোডেড বিন সঠিক না থাকায় মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। হাইকেয়ার অর্থোপেডিক্স ও জেনারেল হাসপাতাল, শ্যামলী বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শোকজ করতে হবে। এসবিএফ কিডনি কেয়ার সেন্টার, শ্যামলী Full time Nephrology Consultant নিয়োগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে Part time Consultant আছেন। ঢাকা ট্রমা সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতাল, শ্যামলী ডায়াগনস্টিক ল্যাব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরা হাইকেয়ার হাসপাতাল ও হাইকেয়ার নিউরো ও কার্ডিয়াক হাসপাতাল লাইসেন্স না থাকায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর বিচার চাইলেন কামাল মজুমদার

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৯ পিএম
সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর বিচার চাইলেন কামাল মজুমদার
সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত

গত সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর (দীপু মনি) বিরুদ্ধে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ধ্বংস করার অভিযোগ তুলে তার বিচার দাবি করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ দাবি করেন। তবে আলোচনায় কামাল মজুমদার কোথাও দীপু মনির নাম উল্লেখ করেননি। গত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন বর্তমান মন্ত্রিসভার সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি।

সাবেক ওই শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও ঢাকার ডিসির কারসাজিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় বসিয়ে আমার গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গত শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে। ২ হাজার ৩০০ ছেলেমেয়ে ফেল করেছে। আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ২০০ ছেলেমেয়ে জিপিএ-৫ কম পেয়েছে। আমি তার বিচার চাই।’

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা (মিরপুর-কাফরুল) অসংখ্য জামায়াতের নেতা-কর্মী বসবাস করেন। ইতোমধ্যে জামায়াতের আমির (শফিকুর রহমান চৌধুরী) প্রার্থী হয়েছিলেন (২০১৮ সালের নির্বাচনে)। সেখানকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেটি এখন ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রধান শিক্ষক জামায়াতের লোক। তাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। তিনি প্যারালাইসিসে ভুগছেন, কথা বলতে পারেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বারবার বলার পরও তাকে এখনো সরানো হয়নি। কোর্টের পর কোর্ট মামলা তারা করছেন, স্কুলটাকে ধ্বংসের মুখোমুখি নিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান, স্কুলটাকে আপনি রক্ষা করুন। আপনার বরাদ্দ দেওয়া জমিতে আমি তিলে তিলে এ স্কুলটি গড়ে তুলেছি। এটি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমি জানি না কী কারণে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর কুনজর পড়েছে স্কুলটির ওপর। আমি তার বিচার চাই।’

এলিস/এমএ/

রমজানে পণ্যের দামে লাগাম টেনে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১৭ পিএম
রমজানে পণ্যের দামে লাগাম টেনে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে লাগাম টেনে ধরতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যের বিরুদ্ধে গুজব সৃষ্টির বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আশা রাখি।’ এর আগে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, বয়স্ক, বিধবা ও স্বামীর দ্বারা নিগৃহীত নারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসবে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সব কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে আমরা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে সংযত করতে পেরেছি। বিশ্ববাজারে কয়েকটি পণ্য যেমন- জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, গম, সারসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভূত হচ্ছে।’ মূল্যস্ফীতি কমাতে বিভিন্ন শুল্কছাড় প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আলী আজমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করব গুজবে কান দেবেন না। সবাই সচেতন থাকলে গুজব ছড়িয়ে কেউ সমস্যা তৈরি করতে পারবে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে মানুষের খাবার নিয়ে খেলতে না পারে, সে জন্য যথেষ্ট সচেতন রয়েছি। বহু পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয়। আমরা পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে চাই।’ 

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মোবাইল কোর্টসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। তারপরও যদি ইচ্ছাকৃত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজান হচ্ছে কৃচ্ছ্রসাধনের মাস। রমজানে মানুষ যেন কম খাবার গ্রহণ করে, খাদ্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু আমাদের এখানে দেখি খাবার গ্রহণের বিষয়টি একটু বেড়েই যায়। প্রকৃতপক্ষে রমজান হচ্ছে সংযমের মাস। বিশেষ কোনো একটা জিনিস না খেলে হবে না, রোজা রাখা যাবে না বা ইফতার করা যাবে না- এই মানসিকতাটা বদলাতে হবে।’  

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন তাদেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে সবাই সহযোগিতা করলে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা এভাবে নিত্যপণ্যের মূল্য অসৎ উপায়ে বাড়াতে পারবে না। জনগণকে আহ্বান করব, তারা এ বিষয়ে নজর রাখলে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। আর আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি।’  

দুর্নীতির কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না- উল্লেখ করে দুর্নীতি দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বতন্ত্র সংসদ সংসদ সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে।’ 

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে শহিদ মিনার স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। 

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের রমজানে তারাবির নামাজ ও সাহরির সময় বিদ্যুতের সংকট হবে না। বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সময় যদি প্রয়োজন হয়, দিনের কোনো একসময়, যখন চাহিদা কম থাকে, তখন দুই-তিন ঘণ্টা লোডশেডিং করা যায়। এতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, আর বিদ্যুতের সংকট কিন্তু হবে না। বিশেষ করে তারাবি ও সাহরির সময়ে বিদ্যুতের সমস্যা হবে না।’ রমজানে তারাবির নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে নাটোর-১ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

হাতে মাদক দেখলেই চাকরি যাবে পুলিশের : আইজিপি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৯ পিএম
হাতে মাদক দেখলেই চাকরি যাবে পুলিশের : আইজিপি
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের প্যারেড গ্রাউন্ডে বক্তব্য রাখেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্য যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু মামলা দেওয়া হয়। আর পুলিশ সদস্যদের শুধু মাদক খাওয়ার প্রমাণ মিললে চাকরি থাকবে না। চাকরিও যাবে সঙ্গে মামলাও হবে।’ 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজিজ ব্যাজ) ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ইউনিটদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

আইজিপি বলেন, ‘নিয়োগের সময় আমরা প্রতিটি সদস্যকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকি। মাদকাসক্ত হলে পুলিশে কেউ চাকরি পাবে না। কারণ মাদক ও দুর্নীতি সমাজের নীরব ঘাতক। মাদকবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ জয়ী হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে, সেভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণেও সফল হতে হবে। জঙ্গি-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি রয়েছে। যেকোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা সর্বক্ষেত্রে প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ স্মার্ট পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছি। ঘরে বসে আবেদন করতে পারছে, কোথায় পরীক্ষা সেটা জানতে পারছে, ফলাফলও ঘরে বসে পেয়ে যাচ্ছে।’ 

অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ও প্যারেড উপ-কমিটির সভাপতি মো. কামরুল আহসান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবার ৪৮৮ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৩ (আইজিপি ব্যাজ) দেওয়া হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় তিনি ব্যাজপ্রাপ্তদের হাতে সনদও তুলে দেন। এটি পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম চট্টগ্রাম জেলা, দ্বিতীয় কুমিল্লা জেলা এবং তৃতীয় হয়েছে পাবনা জেলা। মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে ‘ক’ গ্রুপে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং সিলেট জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নে ‘ক’ গ্রুপে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, সিলেট জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। বার্ষিক পুলিশ প্যারেড কুচকাওয়াজে প্রথম স্থান অর্জন করেছে এপিবিএন, দ্বিতীয় হয়েছে যৌথ মেট্রো দল এবং তৃতীয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। আর এবারের পুলিশ সপ্তাহের শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে এপিবিএন। দ্বিতীয় হয়েছে যৌথ মেট্রো দল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। 

 

সরকারিভাবে ইফতার পার্টি নয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
সরকারিভাবে ইফতার পার্টি নয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

আসন্ন পবিত্র রমজানে সরকারিভাবে বড় করে ইফতার পার্টি উদযাপন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর বাসসের।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে এবার রমজান মাসে সরকারিভাবে কোনো বড় ইফতার পার্টি উদযাপন করা যাবে না। তিনি বেসরকারিভাবেও এ ধরনের বড় ইফতার পার্টির আয়োজনকে নিরুৎসাহিত করেছেন। কারও যদি দায়-দাবি থাকে, তাহলে যেন সেই অর্থে খাদ্য কিনে গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।’

মো. মাহবুব হোসেন জানান, এ ছাড়া সভায় ‘অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে অনিবাসী ব্যক্তি বা বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান, যারা এখানে ইনভেস্ট করবে, তারা অফশোর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। অফশোর ব্যাংকিং করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। তবে যারা আগেই লাইসেন্স পেয়েছে, তাদের নিতে হবে না। মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড, জাপানি ইয়েন ও চায়নিজ ইয়ান মুদ্রায় ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। এই আইনের আওতায় অফশোর ব্যাংকিং করার জন্য তফসিলি ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো লাইসেন্স গ্রহণ করবে। এরপর অনিবাসী বাংলাদেশে বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত গ্রহণ করতে পারবে, ঋণ দিতে পারবে। ওই আমানত স্বাভাবিক ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারবেন। বিদেশে যে বাংলাদেশি আছেন, তার পক্ষে তার কোনো আত্মীয় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন, সহায়তাকারী হিসেবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন। আইন অনুযায়ী ওই অ্যাকাউন্টে যে লেনদেন হবে, সেই সুদের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো ঋণসীমা বেঁধে দেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যেকোনো পরিমাণ ঋণ নিতে পারবে। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ১৯৮৫ সালে এটি বাংলাদেশে প্রথম ইপিজেডে শুরু হয়, সেখানে কিন্তু কারেন্ট অ্যাকাউন্টের মতো কোনো ইন্টারেস্ট দেওয়া হয় না। সেভিংস অ্যাকাউন্ট যেভাবে পরিচালনা করা হয়, সেভাবেই এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা যাবে। ওই অ্যাকাউন্টে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়া যাবে। এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ে ইন্টারেস্ট দেওয়া হবে। বহু দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ও আর্থিক কাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। তবে শুধু রিজার্ভ বাড়াতেই এটি করা হচ্ছে না; অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে এটি চালু হচ্ছে।’ 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতিসংঘ ও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের ওপর তার রচিত দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন। ‘সকলের তরে সকলে আমরা’তে শেখ হাসিনার জাতিসংঘে দেওয়া ১৯টি ভাষণ এবং সেগুলোর ইংরেজি অনুবাদ স্থান পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রচিত অন্য গ্রন্থ ‘আবাহন’-এ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণগুলো স্থান পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম বই দুটির গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছেন।