ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

কুসিক উপনির্বাচন, মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিলেন ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
কুসিক উপনির্বাচন, মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিলেন ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) কুসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে চার হেভিওয়েট প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। 

তারা হলেন- দুইবারের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনিরুল হক সাক্কু, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগসমর্থিত প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও গত সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার। 

তবে এদিন মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেননি। তার পক্ষে নেতা-কর্মীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেন। তিনি ছাড়া বাকি তিন প্রার্থীই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, মেয়র পদে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আগামী ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮২ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ২৮ হাজার ২৭৮ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। 

কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনে প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। আপিলের সময়সীমা ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কুসিকের তৃতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ এবং সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত। এরপর থেকে প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই : ড. ইউনূস

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৭ পিএম
আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই : ড. ইউনূস
ছবি : সংগৃহীত

নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠন না করতে পারাসহ এ ধরনের আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে উল্লেখ করে আমানপোর জানতে চান, এসব অভিযোগ আনার কারণ কী। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, এ নিয়ে দেশের ও দেশের বাইরের যেসব আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, তারা সবাই সম্মত হয়েছে যে, এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই। তারা এ ধরনের কোনো মামলা এর আগে দেখেননি ও পরিচালনা করেননি। এটা এক ধরনের হয়রানি।

বারাক ওবামার মতো ডজন ডজন নোবেলজয়ী আপনার বিরুদ্ধে বিচারিক হয়রানি বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন। এসব মামলার পরিণতি কি হতে পারে? আপনি কি জেলে যেতে পারেন?

আমানপোরের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাকে ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আমাকে ফের জামিন দিতে পারে, নয়তো আমিসহ অন্য যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তারা সবাই জেলে যেতে পারি। দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আরেকটি নতুন মামলা হচ্ছে। আমাদের দুর্নীতি, মানি লন্ডারিংসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। ওই মামলায় সাজার মেয়াদ আরও দীর্ঘ। আমরা জানি না এসব কখন শেষ হবে।’

শেখ হাসিনা কি তাকে রাজনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভাবছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস ‘আমি জানি না’। রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওয়ান ইলেভেনে তাকে সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

ক্রিস্টিয়ান আমানপোর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জানতে চান, গত কয়েক দিন ধরে আমরা দেখলাম এবং জানলাম যে আপনার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আপনি বলবেন যে, আসলে কী হচ্ছে? কী হচ্ছে বিজনেসের ক্ষেত্রে। কারণ আপনি বলেছেন সেগুলো জোর করে দখলে নিয়েছে।

জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, হ্যাঁ। ভয়াবহ সব ঘটনা ঘটছে। ৩৫ জনের একটি দল আমাদের ভবনে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমরা যে সামাজিক ব্যবসাগুলো তৈরি করেছিলাম, যার অনেকটি দেশের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যবসা, সেই ভবন থেকে পরিচালিত হয়। কী হচ্ছে সেখানে, এটা নিয়ে সবাই ভয় পাচ্ছিলেন, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তারা তখন জানায় যে, তারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এসেছেন। তারা কিছু কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। তাদের দাবি এগুলো গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এবং এ জন্য তারা এখন সেগুলো নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন এবং তারা এসব কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিচ্ছেন।

আমানপোর জানতে চান, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। সেখানে কিছুই জোর করে বা বেআইনিভাবে করা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে। তাহলে কেন এটা ঘটছে? আপনাকে কি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে? আপনাকে কি বলা হয়েছে যে, এটা কেন হচ্ছে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আপনার যদি কোনো দাবি থাকে, কোনো আইনি ইস্যু থাকে, তাহলে সেগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু সেগুলোর জন্য আপনি হঠাৎ জোর করে কোনো ভবনে ঢুকে যেতে পারেন না এবং বলতে পারেন না যে এগুলো আমরা নিয়ে নিচ্ছি।

ক্রিস্টিয়ান আমানপোর প্রশ্ন করেন, তারাই কি এখন সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে? নাকি আপনি আপনার প্রপার্টি ফিরে পেয়েছেন? কী অবস্থা এখন সেগুলোর?

জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা সেগুলো ফিরে পেয়েছি। আমরা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছি। সেখানে আমরা আমাদের ভবনে দেশের সব গণ্যমাধ্যমকর্মীকে আসার অনুরোধ করি এবং কী ঘটছে সেগুলো বিস্তারিতভাবে জানাই। তারপর থেকে আমরা আমাদের ভবনের নিয়ন্ত্রণে আছি এবং তারা আর আসেনি।’

সম্প্রতি রাশিয়ার কারাগারে দেশটির বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমানপোর ড. ইউনূসের কাছে জানতে চান আপনি কি বিদেশে থাকার প্রস্তাব পেয়েছেন?

উত্তরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি অনেক বিদেশি বন্ধুর কাছ থেকে এই দেশ ছেড়ে তাদের দেশে চলে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছি। তারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং আমার কাজ যাতে সারা বিশ্বে চলতে পারে তার সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে এগুলো শুরু করেছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আমি শিক্ষকতা করতাম। তারপর আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি। দেশে ফিরে আমি যা করেছি, তা সবই সাধারণ মানুষের জন্য। আমি দুর্ভিক্ষ দেখেছি, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দেখেছি। যে কারণে আমি চিন্তা করেছি গরিব মানুষ যেন উপকৃত হয়। এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা, এটাই আমার জীবন। যার ফলে ক্ষুদ্র ঋণ এসেছে এবং বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে।’

 

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় একিউআই স্কোর ২৭৪ নিয়ে বিশ্বের ‘সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের শহরের তালিকায় উঠে এসেছে ঢাকা।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসকে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

চীনের শেনইয়াং, কিরগিজস্তানের বিশকেক এবং চীনের উহান যথাক্রমে ১৯৪, ১৭৬ এবং ১৬৯ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। ৩০১+ একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/

বিধি ভেঙে নোটিশ পাচ্ছেন প্রার্থীরা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০১ এএম
বিধি ভেঙে নোটিশ পাচ্ছেন প্রার্থীরা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীসহ তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে জবাবদিহি করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

সূত্র জানায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়ে মিছিল করায় উপনির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন এই শোকজ করেন। এর আগে বিধি ভঙ্গ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি উঠান বৈঠক করায় বাস প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা এবং নবাব ফয়জুন্নেছা উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তারকে শোকজ করা হয়। 

আগামী ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম এবং মহানগর স্বেচ্ছাবেক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। বিরামহীনভাবে নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলেছেন কুসিকের চার মেয়র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এরই মাঝে আসছে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ। এ ছাড়া কোনো কোনো প্রার্থী তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। 

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নগরের রেসকোর্স এলাকায় নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে লোকজন ও সমর্থক নিয়ে মিছিল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে শোকজ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়া প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, ‘আমি যেখানেই যাই মানুষের ঢল নামে। তারপরও আমি আমার নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছি যেন কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচার না চালায়। তবে নির্বাচনি প্রচারে মানুষের অংশগ্রহণ নির্বাচন কমিশনের শিথিলভাবে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।’ 

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উঠান বৈঠক করায় বাস প্রতীকের প্রার্থী তাহসীন বাহার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তারকে শোকজ করে নির্বাচন কমিশন। এই কার্যক্রমের জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তানিমের

এদিকে কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে প্রচার শুরুর পর থেকে পোস্টার-লিফলেট ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন হাতি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম। এ বিষয়ে তিনি পরপর দুই দিন দুটি অভিযোগ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, নগরীর ২ নং ওয়ার্ড, ৩ নং ওয়ার্ড, ৯ নং ওয়ার্ড, ২১ নং ওয়ার্ড ও ২৭ নং ওয়ার্ড এলাকার চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি হাতি প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং কর্মীদের হেনস্তা করেছেন।’

এ বিষয়ে নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি অশুভ শক্তি তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিভিন্ন জায়গায় আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন। তারা কিছুটা ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন। আমি এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’ 

নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি অভিযোগই খুব গুরুত্ব-সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগেও আমরা বাস প্রতীকের প্রার্থীকে এবং একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় শোকজ করেছি। আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচেষ্ট আছে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে আচরণবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ২৭টি ওয়ার্ডে ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে সব প্রার্থী ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। আচরণবিধি অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

জ্বালানি ঘাটতি প্রশমিত করতে অফশোর গ্যাস উত্তোলন বেছে নিয়েছে সরকার

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৪ এএম
জ্বালানি ঘাটতি প্রশমিত করতে অফশোর গ্যাস উত্তোলন বেছে নিয়েছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশের জ্বালানি ঘাটতি প্রশমিত করতে অফশোর গ্যাস উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে  আমাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন। 

মঙ্গলবার (ফেব্রুয়ারি ২৭) সন্ধ্যায় সংসদ ভবন কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার হানি সালেমের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেন তিনি। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার দেশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ দিয়েছে।’ ১৯৯৬ সালে সরকারে তার প্রথম মেয়াদে তিনি বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকে উন্মুক্ত করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের ফলে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এর জন্য দেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশেষ করে, আমরা গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি এবং খাদ্য উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনগণের ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা সব ধরনের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছি।’

আইটিএফসির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী হানি সালেম জানান, অবকাঠামো, আইসিটি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে তারা সর্বাত্মক সহায়তা দেবে।

প্রকৌশলী হানি সালেম বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি চমৎকার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

সালমান/

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ, দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৬

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৫ পিএম
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ, দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে দুই দফায় লাগা আগুনে দগ্ধ হয়েছেন ছয়জন। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিল মসজিদ এলাকার ৫৩ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। 

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মিন্টু মিয়া (৫০), বাচ্চু মিয়া (৪৫), মিন্টু মিয়ার মেয়ে মারিয়া (১৮), মনির হোসেন (৪২), দেলোয়ার হোসেন (৫৭) ও আলী আকবর (৪৫)।

দগ্ধ মিন্টু হাওলাদার জানান, তিনি ওই বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকেন। বাসার বাথরুমে ও রান্নাঘরে মাঝেমধ্যেই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। তবে তিনি অনেক খুঁজেও গ্যাস লিকেজ পাননি। গতকাল সকাল ৮টার দিকে রান্নাঘরে হঠাৎ করেই গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়। এতে তিনি ও প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া দগ্ধ হন।

মিন্টু হালদারের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার জানান, সকালেই তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। সকালের বিস্ফোরণের পর সন্ধ্যায় ওই বাসায় গ্যাসলাইন মেরামতের জন্য স্যানিটারি মিস্ত্রি যান। তখন সেখানে আবারও বিস্ফোরণ ঘটে। এতে স্যানিটারি মিস্ত্রিসহ মিন্টুর মেয়ে মারিয়াও দগ্ধ হন। পরে তাদের নিয়ে আসা হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, মিন্টু হাওলাদারের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকিদের হাত-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দগ্ধ হয়েছে। 

শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজিত কুমার সাহা জানান, শাহজাহানপুরের ঝিল মসজিদের পাশে ৫৩ নম্বর বাড়ির নিচতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের ঘটনায় বেশ কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন।