ঢাকা ৭ বৈশাখ ১৪৩১, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কার্যকর মার্চ থেকে

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩১ পিএম
বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কার্যকর মার্চ থেকে

বিদ্যুতে ভর্তুকি থেকে বের হওয়ার জন্য আবারও বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এবার প্রতি ইউনিট সর্বনিম্ন ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। 

মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুতে বছরে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির কথা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুতে ভর্তুকি থেকে বের হওয়ার জন্য দাম সমন্বয় করা হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।’

তাছাড়া গ্যাসের দামও সমন্বয় করা হবে জানান প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশেও দাম বাড়ানো হবে, দাম কমলে গ্যাসের দাম কমানো হবে। এই সমন্বয়ও মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কার্যকর করা হবে।’

অমিয়/

জিডিপিতে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১০ পিএম
জিডিপিতে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : খবরের কাগজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে পেছনে ফেলে জিডিপিতে পৃথিবীর ৩৫তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। এ সরকার গঠনের সময় ২০০৯ সালে ৬০তম দেশ ছিল বাংলাদেশ। ১৫ বছরের অভিযাত্রায় অনেক ইনডেক্সে ভারতকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে আমাদের দেশ।’ 

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ১৪তম এসএমই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির পর পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজিটিভ জিডিপি হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশও। পাকিস্তান আজকে আমাদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন করেছেন সে জন্যই সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া নারীরা ঘরে বসে ফেসবুক ও সিনেমা দেখা বাদ দিয়ে যদি ছোট ছোট কাজ করেন তাহলে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিছু পণ্য আছে যেগুলো বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সেগুলোর বিষয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ আয়তনে পৃথিবীর ৯২তম দেশ অথচ ধান উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম। আমাদের এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।’ 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, আমাদের জাতীয় সংসদের স্পিকার একজন নারী, বিরোধীদলীয় উপনেতা একজন নারী। নারীর কারণে আমরা সম্মানিত। নারীরা যাতে হস্তশিল্পে এগিয়ে যায়, সে জন্য এলাকাভিত্তিক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

উইমেন চেম্বার সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, মহিলা সংসদ সদস্য দিলওয়ারা ইউসুফ, শামিমা হারুন লুভনা, দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. মাহবুবুল আলম। 

এ বছর মেলায় ইরান, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ স্টল এবং ১৫টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে ওমেন জোন, ফুডকোর্ট জোন এবং হস্তশিল্পজাত পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দিয়ে আলাদা জোন রাখা হয়েছে। মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, এফবিসিসিআই এবং আইএলও প্রগ্রেস প্রজেক্ট। মেলা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। 

তৃণমূলের অপরাজিতারা ভবিষ্যৎ নারী ক্ষমতায়নের প্রতিচ্ছবি: স্পিকার

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
তৃণমূলের অপরাজিতারা ভবিষ্যৎ নারী ক্ষমতায়নের প্রতিচ্ছবি: স্পিকার
ছবি : সংগৃহীত

সব বাধা মোকাবিলা করেই নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আর কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে শিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। কারণ তৃণমূলের নারীদের নিয়ে গঠিত অপরাজিতা নেটওয়ার্কের এই নারীদের মাঝে ভবিষ্যতে নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। সংগ্রামী এসব নারী সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অপরাজিতা নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় অপরাজিতা সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জলবায়ু ও পরিবেশের বিপর্যয় প্রতিরোধের আন্দোলনে অপরাজিতা নেটওয়ার্কের নারীদের সংযুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরাজিতা নেটওয়ার্ক ৯ হাজার নারীকে একটি সমন্বিত কণ্ঠস্বর ও প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। এটাকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে কাজ করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে এই নেটওয়ার্ককে আরও এগিয়ে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারীদের এগিয়ে নিতে সহজ ঋণপ্রাপ্তি, আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের এগিয়ে নিতে কার্যকর আইনি মডেল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘নারীরা তাদের সংগ্রাম ও যোগ্যতার জন্য বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করলেও এখনো নারীরা কিছু ক্ষেত্রে অবহেলিত। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারীকে সংগ্রামের মাধ্যমে সম্মানজনক স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে পুরুষদের সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

খান ফাউন্ডেশন, ডেমোক্রেসিওয়াচ, প্রিপ ট্রাস্ট ও রূপান্তর-এর যৌথ উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি শরীফা খানম। সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার। আলোচনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের নির্দেশনা অনুসারে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ ভাগ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ১৬ জন নারীকে অগ্রগামী অপরাজিতা হিসেবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের পথিকৃৎ অপরাজিতা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মেলনে দেশের ১৬টি জেলার ৩০০ জন অপরাজিতা, নারী নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আবেদনের বাইরে থাকা নিউজ পোর্টাল বন্ধ হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৪ পিএম
আবেদনের বাইরে থাকা নিউজ পোর্টাল বন্ধ হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতেই নিবন্ধিত ও নিবন্ধন আবেদনের বাইরে থাকা সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। 

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ২১৩টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল আছে। এর বাইরে ২১৩টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন আছে। এই ৪২৬টির পাশাপাশি আরও কতগুলো নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, সেগুলোর ছাড়পত্রও হয়েছে। সেগুলোর একটি তালিকা আছে। এসব ছাড়াও আরও কতগুলো আছে, যেগুলো আবেদন করেছে, প্রক্রিয়াধীন আছে, তবে ছাড়পত্র হয়নি। সব কটির তালিকা করতে বলা হয়েছে। এ তালিকা বিটিআরসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে থাকা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো অনিবন্ধিত। সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার দাবি ছিল সাংবাদিকদের। অনলাইন গণমাধ্যম কমিটি, প্রেসক্লাবসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনও একই দাবি করেছে। সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তারপর নতুন করে যারা আবেদন করবে, তখন তা চালু হবে। আবেদন না করলে চালু হবে না। আবেদন করলে নিবন্ধন পাওয়ার আগ পর্যন্ত চালু থাকবে। তারপর যদি ছাড়পত্র না হয়, তখন আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জন্য একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া ও স্বাধীন হওয়া দেশ বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার মুক্ত গণমাধ্যম, সাংবাদিকতার একটি চমৎকার পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এর জন্য যা যা উপকরণ লাগে সে বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করতে চাই এবং তার মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি যারা তারাই উপকৃত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্যপ্রবাহ অবারিত করতে চাই। সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলোকে আমরা জবাবদিহির আওতায় আনতে চাই। তথ্য অধিকার আইন যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই সংসদে পাস হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়ার অধিকার, আইনগতভাবে যেটি নিশ্চিত করা হয়েছে সেটিকে বাস্তবেও আমরা আরও বেশি নিশ্চিত করতে চাই। এ ক্ষেত্রে শুধু আইন করলেই হবে না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক রূপান্তর করতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য অধিকার আইনকে আরও সুদৃঢ় করার এবং তথ্য কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়টি আমরা ভাবছি।’

বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আপনি কতটা সফল, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘১০০ দিন খুবই অল্প সময়, বড় রকমের সফলতা দাবি করার জন্য। অনেক কাজ এগিয়েছে, কাজ যখন প্রক্রিয়াধীন থাকে সেটাকে প্রকাশ করা যায় না, ফলাফলটা যখন আসবে তখন করা যাবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।

ভুটান ভ্রমণে ফি কমতে পারে বাংলাদেশিদের

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
ভুটান ভ্রমণে ফি কমতে পারে বাংলাদেশিদের
ছবি : সংগৃহীত

পর্যটকদের জন্য ভুটানে ভ্রমণ ফি কমানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার তৃতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এমন অনুরোধ করা হয়। ভুটান বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় এফওসি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভুটান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব পেমা চোডেন।

উভয় পররাষ্ট্রসচিব পারস্পরিক স্বার্থের সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পর্যটন, সংস্কৃতি, শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন তারা। ভুটানের রাজার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সময় গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং সমঝোতা স্মারকগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন এবং দ্রুত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। দুই পক্ষ পর্যটন বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সহযোগিতা, আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব থিম্পুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সারি ও আবাসিক নির্মাণ প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখতে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। ভুটানকে বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল যান চলাচল চুক্তি (বিবিআইএন এমভিএ) কাঠামোতে পুনরায় যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব। 

২০২২ সালে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি নামে ভুটানে আসা পর্যটকদের জন্য ২০০ ডলার ফি আরোপ করে দেশটির সরকার। তবে ২০২৩ সালে এ ফি কমিয়ে ১০০ ডলারে আনা হয়। এ ফি বাংলাদেশি পর্যটকদেরও দিতে হয়। তবে ভারতের পর্যটকদের জন্য এ ফি নেওয়া হয় মাত্র ১২০ রুপি বা ১৫ ডলারের মতো।

দেশীয় অন্যান্য খেলায়ও যেন খুদে খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম
দেশীয় অন্যান্য খেলায়ও যেন খুদে খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

অন্যান্য খেলার পাশাপাশি দেশীয় খেলাতেও সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোমলমতিদের মেধা বিকাশের সুযোগ হবে। শুধু ফুটবল বলে নয়, আমাদের দেশীয় অনেক খেলা আছে, এ ছাড়া অন্যান্য খেলাও রয়েছে। তাতে আমাদের খুদে খেলোয়াড়রা যেন সুযোগ পেতে পারে। কারণ খেলাধুলার মধ্য দিয়েই আমাদের ছেলেমেয়েদের মেধা বিকাশের সুযোগ হবে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই সরকারে এসেছি, তখনই চেষ্টা করেছি ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি অনুরাগী করে তুলতে। কেননা খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। ডিসিপ্লিন শেখায়, আনুগত্য শিক্ষা দেয় এবং সেই সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এই খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে পারি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সব ধরনের খেলাধুলার বিকাশে তার সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে। যাতে প্রতিটি উপজেলাতেই খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমি চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবে। সবাই শিক্ষা-দীক্ষা, খেলাধুলা সব দিক থেকে আরও বেশি উন্নত হবে। সারা বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে চলব। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে আমাদের আজকের এই সোনার ছেলেমেয়েরা। সবার প্রতি আমার অভিনন্দন ও আশীর্বাদ রইল।’

প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে এসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৩-এর চূড়ান্ত খেলা উপভোগ করেন। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম টেপুরগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-১ গোলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ চরগোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২-১ গোলে রংপুরের মিঠাপুকুর তালিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রধানমন্ত্রী দুটি টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলায় বিজয়ী এবং বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, প্রাইজমানির চেকের রেপ্লিকা এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পুরস্কার প্রদান করেন। টেপুরগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাহমুদা আক্তার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট এবং একই বিদ্যালয়ের রিশা আক্তার সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল লাভ করে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন জামালপুরের মাদারগঞ্জ চরগোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. সাজ্জাদ হোসেন গোল্ডেন বুট এবং মো. আকাশ গোল্ডেন বল লাভ করে।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বক্তৃতা করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১০ সাল থেকে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ২০১১ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর নামে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করে আসছে। চার মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এবারের এ দুটি টুর্নামেন্টে পুরুষ ও প্রমিলা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৫৪টি স্কুলের ১১ লাখ ১১ হাজার ১৮ জন ছাত্র ও ৬৫ হাজার ৩৫৪টি স্কুলের ১১ লাখ ১১ হাজার ১৮ জন ছাত্রী ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছে।