ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি অভিশ্রুতি না বৃষ্টি নামে সংশয়

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ১০:৪০ এএম
অভিশ্রুতি না বৃষ্টি নামে সংশয়
অভিশ্রুতি শাস্ত্রী

রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন সংবাদকর্মী অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে দুপুরে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে অভিশ্রুতির লাশ গ্রহণ করতে আসেন শাবলুল আলম সবুজ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে অভিশ্রুতির বাবা হিসেবে দাবি করেন। 

সবুজ জানান, শাস্ত্রীর আসল নাম বৃষ্টি খাতুন। আর মায়ের নাম বিউটি বেগম। তিনি এবং তার স্ত্রী বিউটি বেগমও ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তবে বায়োডাটার তথ্য অনুযায়ী তার নাম অভিশ্রুতি, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী। বাবার নাম অভিরূপ শাস্ত্রী আর মায়ের নাম অপর্ণা শাস্ত্রী। এতে তার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। আর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অভিশ্রুতির লাশ হস্তান্তর নিয়ে সৃষ্টি হয় ধূম্রজাল। 

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বার্ন ইনস্টিটিউটের অভ্যর্থনা কক্ষের সামনে অভিশ্রুতিকে নিজের মেয়ে বলে দাবি করছেন সবুজ। তবে জানতে চাইলে মেয়ের পেশা এবং ধর্মচর্চা নিয়ে কোনো তথ্যই দিতে পারছিলেন না তিনি। মেয়ের সঙ্গে তোলা কোনো ছবিও নেই তার কাছে। এ ছাড়া দুই দিন আগে অভিশ্রুতির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে দাবি করলেও তার ফোনের কললিস্ট চেক করেও মেলেনি সে প্রমাণ। তবে সবুজের দাবি, ‘অভিশ্রুতি আমার মেয়ে। সে আমার তিন মেয়ের মধ্যে বড়। আমার আরও দুটি মেয়ে রয়েছে। নিজের মেয়েকে নিয়ে কেন মিথ্যা বলব?’

অন্যদিকে অভিশ্রুতির বায়োডাটায় দেখা গেছে, সেখানে তিনি বাবার নাম লিখেছেন অভিরূপ শাস্ত্রী এবং মায়ের নাম লিখেছেন অপর্ণা শাস্ত্রী। সিভিতে তিনি নিজের বর্তমান ঠিকানা লিখেছেন সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, মৌচাক। ওই মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা বলেন, ‘গত আট মাস ধরে তার সঙ্গে আমাদের পরিচয়। এই সময়ে তিনি আমাদের মন্দিরে অনেকবার এসেছেন। যে ভদ্রলোক (সবুজ) শাস্ত্রীকে নিজের মেয়ে বলে দাবি করছেন, তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। তার পরিবারের সবাই ভারতের বানারসে থাকেন।’

এর আগে গতকাল সকালে বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের মর্গে এক হিন্দু নারীর মরদেহ আছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিশ্রুতির সহকর্মী ও বন্ধুরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তার সাবেক সহকর্মী দ্য রিপোর্টের প্রতিবেদক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ওই ভবনের একটি রেস্টুরেন্টে তিনি তার এক বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন। গতকাল রাত থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল এবং আমরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের হাতে থাকা লাল সুতো (মৌলি সুতো) দেখে অভিশ্রুতিকে শনাক্ত করি’। 

নামে সংশয়, অভিশ্রুতি না বৃষ্টি!

ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন অভিশ্রুতি। ইডেন মহিলা কলেজের রাজিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, ইডেনে তিনি বৃষ্টি বণিক নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে সবাই হিন্দু হিসেবে জানতেন। ক্যাম্পাসে, রুমে তিনি পূজা অর্চনাও করতেন। এক দিন রুমমেটরা ওর আইডি কার্ড দেখে জানলেন তার নাম আসলে বৃষ্টি খাতুন। তখন ওর সঙ্গে কারও কারও ঝামেলা তৈরি হলো। তার এক রুমমেট তাকে রুম থেকে বের করে দিলেন। তবে অভিশ্রুতি যেহেতু ভীষণ সরল মনের মেয়ে, তাই কেউ কেউ ওর পাশে দাঁড়ালেন। তার মুসলিম পরিচয়টা ওরাও পরবর্তী সময়ে গোপন রাখেন। বন্ধুদের কাছে অভিশ্রুতিই জানিয়েছিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছিলেন। তখন একপর্যায়ে হিন্দু ধর্মের প্রতি তার এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়। ওই ধর্মের প্রতি তিনি অনুরাগী হয়ে ওঠেন। কলেজের বেশির ভাগ মেয়েই তাকে ভালোবাসতেন মিষ্টি আচরণের জন্য। কেউ কেউ কিছুটা সন্দেহ করতেন। কারণ হোস্টেলে মাঝে মাঝে তার বাবার পরিচয়ে একজন দেখা করতে আসতেন। অভিশ্রুতির গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায়। 

অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর মৃত্যুর খবরের পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা বার্ন ইউনিটে ছুটে যান। সে সময় শাস্ত্রীর বাবা শাবলুল আলম সবুজ সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে বৃষ্টি মৌচাকে একাই থাকত। তার সনাতন ধর্মের অনুসারী বন্ধুবান্ধব ছিল অনেক। তাদের সঙ্গেই বেশি ওঠাবসা ছিল। কিন্তু এখন সবাই বলছে, তার মেয়ে নাকি নিজেকে হিন্দু ধর্মের অনুসারী হিসেবে সবার কাছে পরিচয় দিয়েছে। এ কারণে চাকরির বায়োডাটায় তার বাবা এবং মায়ের নামেও নেই মিল! তবে রমনা কালীমন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহার কাছে অভিশ্রুতি জানিয়েছিলেন, তার পরিবারের সবাই ভারতের বানারসে থাকেন। তবে শাস্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদপত্রেও দেখা গেছে, তার আসল নাম বৃষ্টি খাতুন, বাবার নাম সবুজ শেখ এবং মায়ের নাম বিউটি বেগম। কর্তব্যরত পুলিশের এসআই আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, এনআইডিতে থাকা বৃষ্টির আঙুলের ছাপের বায়োমেট্রিক পরীক্ষায় অভিশ্রুতির আঙুলের ছাপও মিলেছে। সে হিসেবে অভিশ্রুতিকে বৃষ্টি খাতুন পরিচয়ে তার বাবা সবুজের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

যোগ দেওয়া হলো না নতুন কর্মস্থলে

চলতি মাসেই নতুন একটি কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সংবাদকর্মী অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর। তিনি ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতকে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের হয়ে নির্বাচন কমিশন বিটে সংবাদ সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন। গত জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন বিটে পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন অভিশ্রুতি। তার মৃত্যুতে শোকাহত নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকরাও। তার মৃত্যুতে শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি একরামুল হক সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীর। 

তার সহকর্মীরা জানান, অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ও তাদের আরেক সাবেক সহকর্মী তুষার হাওলাদারসহ তিনজন ওই ভবনের একটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন। মূলত তুষারের নতুন চাকরি পাওয়া উপলক্ষেই ছিল এই আয়োজন। অভিশ্রুতির সহকর্মীরা আরও জানান, সম্প্রতি অভিশ্রুতি ও তুষারের বাগদান হয়েছিল। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) থেকে সদ্য স্নাতক পাস করা তুষার স্টার টেক নামে একটি আইটি কোম্পানিতে ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে তুষারের লাশ নিয়ে যান তার বাবা দীনেশ হাওলাদার।

ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান
ফিটনেসবিহীন ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান শুরুর ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ৪৮৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ত্রুটিপূর্ণ ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৬ ঘন্টায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেলসহ ৪৮৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ ।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই অভিযান শুরু হয়। 

এই অভিযানের ফলে ফিটনেসবিহীন এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় চলাচল করা লক্ষণীয়ভাবে কমে যাবে বলে আশা করা যায়। 

চলমান এই অভিযানে বিভিন্ন ব্যানারে চলাচলরত বাসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইদা, শ্যামলী, রাজীব, শরীয়তপুর সুপার, বাহাদুর শাহ, পদ্মা, গাবতলী ৮নং, বলাকা, তুরাগ, হানিফ, আবাবিল, অনাবিল সুপার, বোরাক, বিহঙ্গ, পাহাড়িকা, মেঘনা ডিলাক্স, ট্রান্সসিলভা, বিকল্প, ইমরান, শিকড়, ইমাদ, গ্রিন এক্সসেস, হানিফ, জেদ্দা বাস, বিএমএফ বাস, রাজধানী, রমজান, আশিয়ান, মিয়ামি, সেবা, দিঘীরপাড়, সেবা সুপার, তিশা, অনন্যা সুপার, লাবিবা, শ্রাবণ, ইভান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবহন,  ইউরো পরিবহন, চৌধুরী পরিবহন, জয় পরিবহন, সুরমা সুপার, সাজ্জাদ বাস, সেভেন স্টার, আনন্দ, সাকুরা, সুন্দরবন ও চৌধুরী পরিবহন। 

তাছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি যাতে মহানগরীতে প্রবেশ করে যানজট সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এনাম আবেদিন/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ এএম
বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে
ছবি : সংগৃহীত

মায়ানমার চলমান সংঘাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ৫ সদস্য। এ নিয়ে এখন ১৪ জন বিজিপি সদস্য বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে এই ৫ বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এর আগে রবিবার ভোরে অস্ত্রসহ ৯ বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল ও রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী ও খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার ১৪ জন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে, গত ৩০ মার্চ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৭ জন বিজিপি সদস্য। এরপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ৩ জন সদস্য তুমব্রু সীমান্ত এলাকা কোনাপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির স্কুলে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ নিয়ে সর্বমোট ১৯৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে চলমান অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমার সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে ১৫ দিন পর কক্সবাজারের ইনানী নৌবাহিনীর জেটি দিয়ে সাগরপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শাহীন/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৫ পিএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় ড. হাছান বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না। ইরান ‘রিটালিয়েট’ করেছে-ইরানের বক্তব্য তাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।’

অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সহযাত্রী হয়েছে।’

সক্রিয় ভূমিকার জন্য জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরঅএম গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দক্ষিণ সীমান্তে মায়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে।’

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/ 

 

মুক্তিপণ নিয়ে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
মুক্তিপণ নিয়ে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যু গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিককে। মুক্তিপণ পেয়ে জাহাজ ও নাবিকদের ছেড়ে চলে যায় দস্যুরা। তবে তীরে পৌঁছানোর পর ৮ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সোমালিয়ার স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘গারোই অনলাইন’। 

সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিককে জিম্মি করে রাখা ৮ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে পুন্টল্যান্ড পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের কোনো অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে কি-না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

এদিকে দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

দুই দস্যু রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই দিন আগেই মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে যায় তারা। পরে সেগুলো আসল নাকি নকল সেটি যাচাই করে তারা। এরপর মুক্তিপণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে পালিয়ে যায় তারা। 

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে জিম্মি করে দস্যুরা। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তি পেল জাহাজ ও নাবিকরা। সূত্র : গারোই অনলাইন

সালমান/

কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকরা। ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে কত টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলেনি জাহাজটির মালিকপক্ষ। 

মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা না করতে কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে বলে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম জানিয়েছেন।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় কেএসআরএমের করপোরেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার প্রক্রিয়া হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধার করেছি। আমাদের সঙ্গে তাদের কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে মুক্তিপণের বিষয়ে আলোচনা না করার জন্য। সেই অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আমি আপনাদের সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে পারব না। কারণ এটা আমি সই করেছি।’ 

তবে সোমালি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

দ্য ডেইলি সোমালিয়া জানিয়েছে, দস্যুরা মুক্তিপণ পেয়ে সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুটল্যান্ডের উপকূলে যায়। সোমালিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন তাদের ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশি জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। দুই দস্যুর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে তারা। 

এদিকে ওই দুই দস্যু রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই দিন আগেই মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে যায় তারা। পরে সেগুলো আসল নাকি নকল সেটি যাচাই করে তারা। এরপর মুক্তিপণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে পালিয়ে যায় তারা। 

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে জিম্মি করে দস্যুরা। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তি পেল জাহাজ ও নাবিকরা। সূত্র : দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও রয়টার্স

সালমান/