ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ইট মারলে পাটকেলের জন্য প্রস্তুত থাকবেন: নানক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ১২:৫৮ এএম
ইট মারলে পাটকেলের জন্য প্রস্তুত থাকবেন: নানক
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘ওরা (বিএনপি) বেহায়া, ওদের লজ্জা নেই।’ মির্জা ফখরুলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নানক বলেন, ‘যা বলবেন, বুঝেশুনে বলবেন। ইট মারলে পাটকেল খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আওয়ামী লীগ কোনোদিনও কারও দয়া-দাক্ষিণ্য নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘এই সরকার পুরোপুরি নতজানু’ মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘জেনারেল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়াই করে জনতার জয়ের মধ্য দিয়ে ৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে, এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই করেছে আওয়ামী লীগ।’ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে নানক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি দেশে ফিরে আসার বিষয়ে ব্যাকুল ছিলেন। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল না, তার প্রত্যাবর্তন ছিল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ধারার প্রত্যাবর্তন।’

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। 

রাজু/এমএ/

রিমাল মোকাবিলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
রিমাল মোকাবিলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালে রূপ নিয়েছে যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় বিভিন্ন স্থানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে তা মোকাবেলায় উপকূলীয় ১২ জেলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্যকে চার দিনের জন্য মোতায়েন করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। 

শনিবার (২৬ মে) শনিবার বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে এক ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে এসকল কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশাবলী জারি করা হয়। 

এছাড়া রবিবার (২৬ মে) আনসার-ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট ও আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়কগণকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্যরা।

খাজা/এমএ/

গত বছরের তুলনায় এবার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দ্বিগুণ, মৃত্যু ৩ গুণ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
গত বছরের তুলনায় এবার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দ্বিগুণ, মৃত্যু ৩ গুণ
ডেঙ্গু

দেশে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৭০৫ জন। মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে, ২৩) আক্রান্ত ছিল ১ হাজার ৬২০ জন এবং মৃত্যু ছিল ১৩ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল শনিবার পাঁচ মাসের কম সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৪৫ জন, যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং মারা গেছেন ৩৩ জন, যা গতবারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। 

রবিবার (২৬ মে) জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে (নিপসম) এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

রাজধানীর নিপসমের নিজস্ব মিলনায়তনে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের  লাইন ডিরেক্টর (সিডিসি) ডা. দাউদ আদনান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিপসমের এন্টমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার।

সভাপতির বক্তব্যে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সুপারিশসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘সমন্বিত এবং সুসংহত কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য অব্যাহত গবেষণার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত আগামীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী সমাধান করবে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্বের যে দেশগুলো সফল হয়েছে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা জানা যেতে পারে। এর সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে প্রযোজ্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর অধীনস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আসা এন্টমোলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আজিজ-বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৪০ পিএম
আজিজ-বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো নিয়ম-দুর্নীতির তথ্য থাকলে, তার বিচার সেনাবাহিনী করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। 

একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

রবিবার (২৬ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. কৃষ্ণমূর্তি ভি সুব্রামানিয়ান। 

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় আগামী অর্থবছরের বাজেট ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। 

নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
নদী রক্ষার যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব। নদী রক্ষায় দখল, দূষণরোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান জেনারেশন অনেক ট্যালেন্ট, অনেক মেধাবী। কারণ তাদের এত বেশি পরিধি তৈরি হয়ে গেছে, যদি সেটাকে কাজে লাগাতে না পারি-তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতার জন্য, অধিকার আদায়ের জন্য যে রক্ত ক্ষয় হয়েছে; সে রক্ত বৃথা হয়ে যাবে। আমরা চাই না এ ধরনের অপরাধী, দখলদার, দূষণকারীদের কাছে বাংলাদেশের এত বড় একটি অহংকার, এত বড় গর্বের জায়গা পরাজিত হোক। এটা আমরা মানতে পারি না, আমরা মানবও না এবং আমাদের সংগ্রাম থাকবে ও সংগ্রাম নিরন্তর চলবে।

প্রতিমন্ত্রী (২৬ মে) ঢাকায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘জাতীয় নদী কনফারেন্স-২০২৪’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মো. শরীফ উদ্দিন, নিজেরা করি এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স এসোসিয়েশন (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, রিভারাইন পিপল এর পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ, রিভার এন্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার এর চেয়ারম্যান মো. এজাজ, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, নদী সংগঠক জুলিয়েট কেয়া মালাকার, রণজিত দত্ত, আলিউর রহমান, নুর আলম শেখ, পল্টন হাজং, এস এম মিজানুর রহমান, খাইরুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন সোহেল।

নদী বাঁচাই, দেশ বাঁচাই এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নদী সম্মেলন-২০২৪ আজ শেষ হয়েছে। এএলআরডি, বেলা, ওয়াটার রাইটস ফোরাম, রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের সম্মেলন প্রমাণ করে, নদীকে নিয়ে আমরা কত ভাবি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে সময় বঙ্গবন্ধু বিআইডব্লিউটিএর জন্য সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের দেহে শিরা উপশিরা দিয়ে যেরকম রক্ত প্রবাহিত হয়, বাংলাদেশের নদীগুলো আমাদের সেরকম শিরা-উপশিরা। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশ থেমে যাবে। নদীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনেক ভালোবাসা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে রক্ষা করার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বলেছেন। এর আগে কোন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান এমন কথা বলেছেন- তার প্রমাণ নেই। আজকে সরকার প্রধান নদীকে রক্ষা করতে হবে এ ধরনের কথা বলেন বলেই যারা নদী নিয়ে ভাবেন, কথা বলেন, তাদের কাছে সেটি শক্তি হিসেবে দাঁড়ায়। শুধু নদী দখল নয়। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সকল ক্ষেত্র দখল হয়ে যায়। দখলদারিত্বের মহা উৎসব চলে। বঙ্গবন্ধু হত্যা ব্যক্তি বা পারিবারিক হত্যা নয়, এটি বাংলাদেশকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু নৈতিকতার উপর দেশ পরিচালনা করেছেন। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিতে পারে, সে দেশের মানুষ সোনার বাংলা তৈরি করতে পারবে না সেটা আমার বিশ্বাস হয় না, সে দেশের মানুষ নদীকে হত্যা করতে পারে, দখল করতে পারে সেটি বিশ্বাস করা যায় না। নদী-নালা, খাল বিল আমাদের সম্পদ। নদী নালা খাল বিল না থাকলে আমরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে পারতাম না। সে সময়ে নদী-নালা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেভাবে সুন্দরবন আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করছে। 

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন সমীক্ষা করেছে, দখলদারদের তালিকা করেছে। এসব জায়গায় ভুল থাকতে পারে, তবে যাত্রা শুরু হয়েছে। নদী রক্ষায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব। নদী রক্ষায় দখল, দূষণরোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আপনারা যারা নদী রক্ষায় কাজ করেন তারা সচেতনতা তৈরি করুন। দায়িত্ব চিহ্নিত করুন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সহায়তা করবে, সরকার সহায়তা করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে- এটা সত্য। নদীর পাড়ে ইন্ডাস্ট্রি হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, শহর হবে সবই ঠিক আছে। সেগুলো হবে নদীকে রক্ষা করে কিন্তু নদীকে ধ্বংস করে নয়। ২০১৯ সালে ঢাকা শহরের চারপাশে নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় অনেক ধরনের শক্তিশালী লোক ছিল; আমি সংসদে বলেছি সরকার বা রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নেই। নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সরকার ও রাষ্ট্রের আন্তরিকতা আছে। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে সেই সময় বলেছেন, তুমি চোখ বুজে কাজ কর। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কর এবং নদীর প্রাণ প্রবাহ ফিরিয়ে আন। নদী রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকারের সময়ে নদী রক্ষা কমিশন হয়েছে, হাওড় বোর্ডকে অধিদপ্তরের উন্নীত করা হয়েছে, বালু ব্যবস্থাপনা নীতিমালা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন ‘কোন হাইড্রোগ্রাফি জরিপ ছাড়া বালুমহাল ইজারা দেওয়া যাবে না। একই জায়গায় বার বার বালু উত্তোলন করা যাবে না। 

পর্যটনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে মালয়েশিয়াকে স্বাগত জানানো হবে : বিমানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম
পর্যটনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে মালয়েশিয়াকে স্বাগত জানানো হবে : বিমানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের পর্যটনশিল্পে কর্মরত কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।

রবিবার (২৬ মে) সচিবালয়ে তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের কর্মীদের বৃত্তি দেওয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। পর্যটনশিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। জনশক্তি রপ্তানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত ১৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটনশিল্পের উন্নয়নেও আমাদের যৌথভাবে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’

ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা অসীম। পর্যটনের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প-সম্পর্কিত ব্যবসায় অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার পর্যটনশিল্পের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রয়েছে। তারা চাইলে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। সরকার পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ 

সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগ করার বিষয়টিও আমি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করতে পারাটা হবে আনন্দের। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তি দিচ্ছে। যার মধ্যে পর্যটন-সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যটন-সম্পর্কিত বিষয়ে বৃত্তি যেন আরও বৃদ্ধি করা হয়, সে বিষয়ে আমি চেষ্টা করব।’ 

হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি ভালো শ্রমবাজার। আমরা আশা করব, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী মালয়েশিয়া যাবেন, তারা যথাযথ ভিসা নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অবলম্বন করবেন। কর্মীদের দক্ষতা এবং সুনাম যত বাড়বে, তত বেশি এই শ্রমবাজারের ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশ।’