এক মাসের মধ্যে সেবার মান বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। গাড়ির ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে প্রয়োজনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যাবে। সেই সঙ্গে পুলিশকে আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজধানীতে যানজট সমস্যার দৃশ্যমান উন্নতি ঘটতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক এক সভায় এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের চারজন উপদেষ্টা, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান৷ তিনি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বাস মালিক সমিতির নেতারা৷
ফাওজুক কবির খান বলেন, বিআরটিএকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। অবস্থার উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় যেন চলতে না পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং ফিটনেস দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের সহায়তা নিতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, গত অক্টোবরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ট্রাকের ক্ষেত্রে এই সীমা ২৫ বছর। এ ব্যাপারে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যানজট কমাতে শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে বাস ব্যবহার করতে বলা হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় যেসব জায়গায় যানজট হয়, সেগুলো চিহ্নিত করার কথা বলেন ফাওজুল কবির। বিশেষ করে রেলক্রসিং ও ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার স্থানে যানজট হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাফিক পুলিশকে দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যানজট পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়। রাস্তার মধ্যে কোনো গাড়ি অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট হলে, সেই গাড়িকে জরিমানার বদলে আটক করে নিয়ে আসতে হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পুরনো বায়ুদূষণকারী বাস তুলে স্ক্র্যাপ করা হবে। কিছু মানুষের স্বার্থে ঢাকার সব বাসিন্দাকে বায়ুদূষণের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। বাস মালিকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
রিজওয়ানা হাসান জানান, বায়ুদূষণ রোধে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স ঢাকার রাস্তার ধুলা নিয়ন্ত্রণ, ভাঙা রাস্তা মেরামত এবং আইন প্রয়োগে কাজ করবে। ধুলা, কালোধোঁয়া, ইটভাটা এবং কলকারখানার দূষণ কমাতে কাজ করা হবে। এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আশুলিয়াকে ইটভাটামুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হতে পারে। এয়ার পিউরিফায়ারের কর কমাতে এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। তবে আইন প্রয়োগে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জয়ন্ত সাহা/এমএ/