ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, “পিচ্চি হেলাল বা ইমনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রুপের যে-ই থাকুক, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ইতোমধ্যে এসব গ্রুপের কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এখনো ‘ট্রেস’ (অবস্থান শনাক্ত) করা সম্ভব না হলেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
শনিবারস (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন ডিবিপ্রধান। এ সময় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের ছাত্র মিনহাজ হত্যাকাণ্ড, বিজয়নগর এলাকায় প্রাইভেট কারচালক মোহাম্মদ সাজু মিয়া হত্যাকাণ্ড, আদাবরে চাপাতির কোপে সুমন শেখ নামে এক যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন করা এবং পুরান ঢাকা থেকে এক কেজি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। যা যা করণীয়, পুলিশ তা করছে। ছিনতাইকারী যারা ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, তাদের ধরার জন্য আমাদের ডিবির স্পেশাল টিমগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমরা অচিরেই সুফল পাব। ছিনতাইকারী, অন্যায়কারী সবাইকেই আমরা আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’
মিনহাজ হত্যাকাণ্ডে পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের ছাত্র মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তারসহ ডিবির কয়েকটি অভিযানে আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে মিনহাজ নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার পটুয়াখালী থেকে কিং মাহফুজ গ্রুপের প্রধান মাহফুজ সরকারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন জাহিদুল ভূঁইয়া শাওন, সাব্বির সরকার, আশিক ও সোহান মিয়া। এর আগে এই ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মিনহাজকে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সাজু হত্যাকাণ্ডে এক ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
গত ২১ জানুয়ারি পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় ছুরিকাঘাতে প্রাইভেট কারচালক মোহাম্মদ সাজু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা থেকে রোকন মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সেদিন সাজু মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলটি মতিঝিল এলাকার এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেদিন তার সঙ্গে আসিফুজ্জামান লিসান, মোহাম্মদ মিজান এবং মোহাম্মদ সজীব ছিলেন। ইতোমধ্যে লিসান ও সজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
যুবকের কবজি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার
গত ৩০ জানুয়ারি আদাবরে চাপাতির কোপে সুমন শেখ নামে এক যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় গত শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তার চারজন হলেন আলমগীর, শাহজাহান, তরিকুল ইসলাম ও রাহাত হোসেন। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকায় শামীম হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় সাতটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এক কেজি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬
গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাতে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে রাজীব দাস নামের ব্যবসায়ীকে মারধর করে এক কেজি স্বর্ণ লুটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর বাউফল এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, সবুজ হাওলাদার, আল আমিন খান, তরিকুল ইসলাম, শফিকুর রহমান চুন্নু ও আজিম উদ্দিন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯২৮ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।