নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক রিয়াজ হামিদুল্লাহর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। গত নভেম্বরে দিল্লিতে তার অ্যাগ্রিমো পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিন মাস পর সেই অ্যাগ্রিমো এসেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারত সরকার তার অ্যাগ্রিমো গ্রহণ করেছে বলে খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থার মধ্যে ভারতের গ্রিন সিগন্যাল আসবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। অবশেষে রিয়াজ হামিদুল্লাহর অ্যাগ্রিমো গ্রহণ করেছে দিল্লি। এখন তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ মিশনের একটি দিল্লি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত অ্যাগ্রিমো গ্রহণ করায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পাঠাতে আর কোনো বাধা রইল না।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন এবং দিল্লিতে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেটি তার পারফরম্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে। বহুপক্ষীয় অর্থনীতি ও কানেকটিভিটিতে ভালো দখল রয়েছে রিয়াজ হামিদুল্লাহর। ভারতে পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে কূটনীতিক হিসেবে কাজও করেছেন তিনি।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আছেন। তার চাকরির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরে। এর আগে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কায়ও দায়িত্ব পালন করেন। দিল্লি এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। নেপালের কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।