ঘড়ির কাঁটায় স্কুল ছুটি হতে বাকি ছিল আধা ঘণ্টার মতো। আদরের সন্তানকে বাসায় নিয়ে যেতে অপেক্ষমাণ ছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হলো বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। আগুনে পুড়ে অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যাওয়ায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল অনেকে। কী হৃদয়বিদারক দৃশ্য!
দুই শতাধিক হতাহতের জন্য প্রয়োজন ছিল তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও রক্ত। সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা চেষ্টা করেন সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। অন্যদিকে সর্বস্তরের জনতা এই ভয়াবহ সংকটে এগিয়ে আসেন। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রক্ত দেওয়ার জন্য ছুটে যান। শুধু শিক্ষার্থীরা নন, রাজধানীর বিভিন্ন পেশার মানুষও রক্ত দিতে ছুটে যান। তাদের প্রবল ইচ্ছা রক্ত দিয়ে দগ্ধদের বাঁচানোর। তবে পজিটিভ গ্রুপের তুলনায় নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের চাহিদা ছিল বেশি। শত শত লোক রক্ত দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে লাইনে দাঁড়ান। এ রকম সংকটময় পরিস্থিতিতে সবাই এগিয়ে এসে যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
অনেকে বলছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ঘটনা। কী যন্ত্রণা পেয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের মৃত্যু হলো। এখন যারা আহত অবস্থায় আছে তাদের যেন বাঁচানো যায়, সেই চেষ্টা সবার করা উচিত। এ জন্য প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসতে হবে।
অনেকেই ফেসবুকে নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার করে রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আবার অনেকে রক্ত দেওয়ার জন্য অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেন। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বিভিন্ন রক্তের গ্রুপসংবলিত অনেক ব্যক্তির মোবাইল নম্বরসহ তালিকা প্রস্তুত করে একাধিক পোস্ট করা হয়।
শুধু বার্ন ইনস্টিটিউটে নয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজেও রক্ত দেওয়ার জন্য অনেকে ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতাকে রক্ত দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
হাসপাতালে আনা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা আগুনে পোড়া রোগীদের দ্রুত মলম লাগান। অনেক নার্স নিজে ফার্মেসিতে গিয়ে স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। দুর্ঘটনার পর অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের খুঁজে পাননি। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে পোস্ট দিয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। অনেকে হাসপাতালে মারা যায়।
তাদের আইডি কার্ডের ছবি শেয়ার করে তাদের অভিভাবককে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেন নার্স, চিকিৎসকসহ অন্যরা। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালেও পরিদর্শনে যান। তবে এ নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হওয়ায় অনেকে সমালোচনা করেছেন।