জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে এসে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গুরুতর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) পূর্বঘোষিত দিনে সনদ স্বাক্ষর আদৌ হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে 'অতি জরুরি’ বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকটি শুরু হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড, মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। চূড়ান্ত জুলাই সনদে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিছু বলা নেই।
সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ না দেখে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইসলামী আন্দোলনসহ পাঁচটি ইসলামপন্থী দলও জামায়াতের অবস্থান সমর্থন করবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
জুলাই সনদের চূড়ান্ত ভাষ্যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আপত্তির বিষয়গুলো উল্লেখ থাকায় স্বাক্ষর করবে না বাংলাদেশ জাসদ, সিপিবি, বাসদ ও বাসদ-মার্ক্সবাদী। এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক দলও স্বাক্ষর না করার পক্ষে বলে জানা গেছে। স্বাক্ষর না করার বিষয়ে ভাবছে গণফোরামও।
এবিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জানার পরেই স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ কমিশন তো চূড়ান্ত সনদের সঙ্গে বাস্তবায়নের সুপারিশ দেয়নি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া জানার পরেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তার আগে নয়।’
জুলাই সনদের অনুলিপি পাঠানোর পর গত রাতে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মীমাংসা না করলে জুলাই সনদ ‘নব্বইয়ের দশকের তিন জোটের রূপরেখার মতো’ ব্যর্থ হবে। ‘সংবিধান আদেশ’ জারির মাধ্যমে সংস্কারপ্রক্রিয়া এগোনো না হলে এনসিপি সনদে সই করবে না বলে ওই বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জুলাই সনদে বাস্তবায়ন পদ্ধতি উল্লেখ নেই। কমিশনের কাছে আমরা বলেছি, সেটা না থাকলে কীভাবে স্বাক্ষর করব? কী নিশ্চয়তা আছে ওই পদ্ধতিতে যে এটা বাস্তবায়ন হবে? স্বাক্ষরের বিষয়ে দলীয় ফোরামে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব।’
এলিস/এসএন