একটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) তার ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নাগরিক অধিকার রক্ষা ও অবাধ নির্বাচনের নিশ্চয়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিয়েছে। দলটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এক বিস্তৃত তদন্তের পর, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং বেসামরিক বিক্ষোভ দমনসহ গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এগুলো কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ নয়, বরং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তদন্ত এবং বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াকৃত তথ্য-প্রমাণভিত্তিক বিষয়। এমন অপরাধে দায়ী একটি রাজনৈতিক দল স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব বাংলাদেশি নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা মূলত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার আশায় তা করেছিলেন—এই আশা ও বিশ্বাস ছিল আন্তরিক এবং তা সম্মানের যোগ্য। তবে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে সেই নেতৃত্বকে, যারা এই আশাকে ভয়, দমন ও দায়মুক্তির অস্ত্রে পরিণত করেছিল।
শফিকুল আলম বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এবং এ লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে এমন সব পদক্ষেপ, যাতে ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয় আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার পরিপন্থী নয় এমন সব গণতান্ত্রিক মতামত। অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করেছে—কোনো নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া বা ন্যায়সঙ্গত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় পুনর্মিলন সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন পুরোনো ব্যর্থ ক্ষমতাকাঠামো পুনঃস্থাপনের চেষ্টা না করে সত্য, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নতুন প্রজাতন্ত্র গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশের মানুষ প্রাপ্য—একটি সহিংসতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, যেখানে তারা তাদের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার উপভোগ করতে পারবে।
ফেসবুকে তিনি লিখেন, আমি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে আহ্বান জানাই—তারা যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য ও দাবিগুলো সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে, এবং তার বর্তমান অবস্থানকে তার দীর্ঘ ও কুখ্যাত রাজনৈতিক অতীতের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করে।
তিনি আরও বলেন সবশেষে, গণমাধ্যমকে মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) শেখ হাসিনাকে ঘিরে এমন কোনো সংবাদ বা প্রচার নিষিদ্ধ করেছে যা চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আদালত অবমাননা সংক্রান্ত তার চলমান মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। এ নির্দেশনার লক্ষ্য হলো সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উসকানি রোধ করা এবং বিচার প্রক্রিয়ার উপর কোনো প্রকার প্রভাব বা হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
মেহেদী/