ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত টাঙ্গুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল: বেলার উদ্বেগ প্রকাশ পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন দিল স্থানীয়রা পদ্মায় আবারও বাসডুবি, আগেই নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার
Nagad desktop

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক উদ্বেগজনক অধ্যায় তৈরি করেছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই রোগে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে হামে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪০ জনে, যার মধ্যে ৪২ শিশুর মৃত্যু হামে এবং ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নতুন করে আক্রান্ত ১ হাজার ২১৫ জন
গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাদের মধ্যে ৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তারা সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৩১ জন। এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯ হাজার ৭০৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন।

সংক্রমণের বিস্তার ও ভৌগোলিক চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ দেশের ৯১ শতাংশ জেলাই এখন হামের ঝুঁকিতে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ঢাকা বিভাগে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩ জন, যা দেশের মোট সংক্রমণের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা–ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও এখন সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও রোগীর চাপ বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ১৯৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এখানে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১২৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ১২১ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৫ হাজার ৬৩৭ জন এবং চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৯৩২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। 

আক্রান্তের ধরনে আশঙ্কাজনক তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। তবে হাসপাতালের তথ্যে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী। এর মধ্যে একটি বড় অংশ (৩৩ শতাংশ) এমন শিশু যাদের বয়স ৯ মাসও হয়নি, অর্থাৎ যারা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার বয়সই অর্জন করেনি।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, যারা মারা যাচ্ছে তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু। এটি প্রমাণ করে যে, শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

কেন এই আকস্মিক প্রাদুর্ভাব?
বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও ২০২৪-২৫ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি সেই অগ্রযাত্রাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী বড় কোনো সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না থাকা এবং নিয়মিত টিকাদানে শৈথিল্যের কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু সুরক্ষাহীন রয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে সরকারের উচিত দ্রুত ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা এবং টিকাদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা।

রোগতত্ত্ব ও ঝুঁকি: যা জানা জরুরি
হাম কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর নয়, বরং বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ানো ঘাতক ব্যাধি। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি ও সর্দি দেখা দেয়। শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি ওঠে। এই রোগ নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) বা অন্ধত্বের মতো স্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

সীমান্ত ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মায়ানমারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত থাকায় এর প্রাদুর্ভাব শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মায়ানমারে চলমান সংঘাত ও টিকাদানের অভাব এবং ভারতের সীমান্তবর্তী ব্যস্ত বন্দরগুলোর মাধ্যমে এই ভাইরাস সহজেই আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। এ কারণে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তৎপরতা ও সুপারিশ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৩০ মার্চ থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করেছে জাতীয় টিকাদান কারিগরি কমিটি (এনআইটিএজি)। ৫ এপ্রিল থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করেছে, গত ৫ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ৬২,৬৮,৪২৮ জনকে এই টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ওই দিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০৩ শতাংশ) সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬ গুণ বেশি (৫৯৮ শতাংশ) টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, যদিও সামগ্রিক পরিসরের দিক থেকে কুমিল্লা (১৪০ শতাংশ), গাজীপুর (১২৬ শতাংশ) ও রংপুরে এগিয়ে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম (৮১ শতাংশ) লক্ষ করা গেছে। 

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘কেবল কর্মসূচি চালু করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি পৌর এলাকায় টিকার কভারেজ অন্তত ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: খবরের কাগজ

ফ্যাসিবাদের সময়ে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির শিকার হয়েছে। সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ঘাটে ঘাটে, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তাঁর যে অবস্থান- সেটা বাংলাদেশকে অনেক বেশি আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এ স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরটি আজ পরিদর্শনে এসেছি। তবে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারিনি। এখানে অনেক রুম আমরা খালি দেখেছি। কারণ এটা রেনোভেশন হচ্ছে। সুন্দর করে রেনোভেট করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসগুলো সংরক্ষণ করা হবে। 

তিনি বলেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা হয়েছিল সম্পূর্ণভাবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষা করে। এটা একটা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল। ভবিষ্যতে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স আমরা নতুন করে করব ইনশাআল্লাহ। জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে মহান ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার পর একটার পর একটা উনার পদক্ষেপ ছিল। উনি যুদ্ধ করেছেন, বীরউত্তম হয়েছেন। উনি সেনাপ্রধান হয়েছেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য একসময় বাংলাদেশের চিত্রই পাল্টে ফেলেছিলেন। যদিও ফ্যাসিবাদ এসে বারবার সেটি ভূলুণ্ঠিত করেছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সবকিছু করবে। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।  

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মেরামত কাজ কবে শেষ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজ জাদুঘরটি পরিদর্শনে এসেছি। এ স্থাপনাটি এবং জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স যেটিকে পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ঘোষণা করা হয়েছিল। এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মের আসলে এগুলো জানতে হবে। তাদের এখানে আসতে হবে, দেখতে হবে। ইতিহাস যদি না জানি তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। ভূমিকম্পের কারণে এখানে কিছু ডেমেজ হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেব ইনশাআল্লাহ। 

এসএন/

দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত
মো. নুরুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২২ জনের মধ্যে এক বাংলাদেশি রয়েছেন। তার নাম মো. নুরুল আমিন (৪৪)। তিনি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা।

নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, গত বুধবারের ওই অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দেশের ২২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া এবং নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। 

বৃহস্পতিবার রাতে মিশন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হাইমিশন জানায়, গত ৩ জুন সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডে দুটি বাংলাদেশি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবার দুটি নয়াদিল্লির কাছাকাছি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।

ভারতের রাজধানীতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাইমিশন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব বাংলাদেশি নাগরিককে দেখতে যান। এ সময় তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এসএন/

হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৬৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৪৩ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা নয় হাজার ৫০৩ জন।

১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬২ হাজার ২৮৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৫৪ জন।

এসএন/

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) মন্ত্রিসভার নবম বৈঠকে ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা, ২০২৬’ এবং ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রণীত ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা, ২০২৬’-এর লক্ষ্য হলো প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দেশের সব নাগরিককে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ দেশে আনতে উৎসাহিত করা। 

এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মুনাফাভিত্তিক (ফর-প্রফিট) অথবা অ-মুনাফাভিত্তিক (নট-ফর-প্রফিট) কোম্পানি বা সংগঠন গঠন করতে পারবে। পাশাপাশি এসব কোম্পানি বা সংগঠনের শেয়ার অর্জন ও ধারণের সুযোগও থাকবে। 

মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি বিবিধ সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে–‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা: জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো প্রকৃতিকে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করে আসছে। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত মানবিক পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দিবসটির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক নানা আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। কোথাও দাবানল, কোথাও ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা কিংবা তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এই সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং নগরাঞ্চলে পরিবেশ দূষণ দেশের মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সংশ্লিষ্টরা পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।