নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের সময় একটি ফিলিং স্টেশনের মসজিদে অবস্থানকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বিএনপি পরিচয়ধারী বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা তার সহকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং তাকে খুঁজে বের করতে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ‘মসজিদের মুসল্লিরা দরজা বন্ধ করে দিলে হামলাকারীরা বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে জানতে পারি, পেশাদার খুনি ভাড়া করে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘হয়তো আমার জন্য এখানে শোক প্রস্তাব আনতে হতো। এরপর তিনি নিজের, পরিবারের সদস্য এবং এলাকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্য শুনে জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিরপরাধ ব্যক্তিও থাকতে পারে বলে দাবি করেন ওই সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্পিকার এ বিষয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান বিভিন্ন সদস্য।’
এলিস/রিফাত/