রাজধানীর গাবতলীর হাটে রবিবার বিপুলসংখ্যক কোরবানির পশু দেখা গেছে। সে তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। হাটে ছিল পর্যাপ্ত বড় গরু। তবে বেশির ভাগ ক্রেতার নজর মাঝারি ও ছোট গরুতে। এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বাজার এখনো জমেনি। বড় গরু দেখে ক্রেতারা আর আগ্রহ দেখায় না। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, ব্যাপারীরা গরুর দাম ধরে রাখছেন, বাজেটের মধ্যে মিলছে না।
রবিবার (২৪ মে) গাবতলী পশুর হাট ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। গাবতলী হাটে এবার তোলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ‘কালো জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’। প্রথমে এই দুটি গরুর দাম ১ কোটি টাকা হাঁকা হয়। এক দিনের ব্যবধানে রবিবার দুটি গরুর দাম নেমে আসে ৫৫ লাখ টাকায়।
গরু দুটির মালিক আবদুস সালাম। তার সহকারী বিল্লাল রবিবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগের দিন অনেক মিডিয়া এসেছিল, তাই বিক্রেতা বেশি দাম চেয়েছিলেন। এখন বিক্রির জন্য হিসাব করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দুটি গরুর দাম ৫৫ লাখ টাকা। কালো জামাই ৩০ লাখ ও সাদা জামাই ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, বিক্রেতা এবার দুটি গরু বিক্রির জন্য ৪৫ লাখ টাকা ডিসকাউন্ট দিয়েছে।
অন্যদিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার টেপা (তেপা) পল্লি এলাকা থেকে রাজধানীর গাবতলী হাটে শাহীওয়াল জাতের একটি গরু এনেছেন বিক্রেতা আব্দুর রহমান। তিন দিন আগে তিনি এই হাটে এসেছেন। গতকাল দুপুরে হাটে বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা ছিল লালচে রঙের শান্ত প্রকৃতির গরুটি। উঁচু আকৃতির ভারী দেহের এই গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। একজন ক্রেতা এ গরুটির দাম বলেছিলেন ২ লাখ। এতে আব্দুর রহমান একটা মুচকি হাসি দিয়ে তাকে বললেন, ‘বাবা তিন বছর গরুটি পালিছি, এর পেছনে আমার খরচ হইয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। গরুটা ভালো করে দেখেন, পরে দাম বইলেন বাবা।’
তিনি বলেন, ‘হাটে এসেছি, এখানে গরু বাঁধলে ইজারাদারকে ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া গরু ধোয়াতেও খরচ আছে। প্রতি বালতি পানি ২০ টাকা। এখানে টয়লেটে গেল প্রতিবার ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। পদে পদে খরচ।’ এদিকে হাটের ভেতরে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি দেখা গেছে। ক্রেতার সংখ্যাও সেখানে বেশি।
মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে এসেছেন ক্রেতা রহমতউল্লাহ। তিনি মাঝারি আকৃতির গরু দেখছিলেন। তিনি বলেন, বাজারে গরুর দাম বাড়তি। ব্যাপারীরা দাম ছাড়ছেন না। তারা দাম বেশি চাচ্ছেন। দেখা যাক, আরও দুই দিন সময় আছে। গরু অনুযায়ী দাম ঠিক না বললে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
বড় গরুর বেশির ভাগ বিক্রেতা জানান, এখনো তাদের গরু বিক্রি হয়নি। তারা ধারণা করছেন, হয়তো সোমবার বিকেল থেকে হাট জমে উঠবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অফিস ছুটি হলে হাটে ক্রেতার চাপ বাড়বে। গরু ছাড়াও হাটে বিক্রির জন্য বিপুলসংখ্যক ছাগল তোলা হয়েছে। বেশ কিছু ভেড়াও দেখা গেছে।
হাটে কেরানীগঞ্জ থেকে আনা বিশাল আকৃতির জাফরাবাদী জাতের মহিষ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। সেটিকে ঘিরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। মহিষটির দাম হাঁকা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। তবে এ পর্যন্ত ক্রেতারা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।
মহিষের ব্যাপারী ফরহাদ হাজি জানান, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকে এটি আনা হয়েছে। এই মহিষটির ওজন ১৩০০ কেজি।
তিনি বলেন, মহিষটি খুব শান্ত, এর ওপরে যে কেউ চড়ে বসতে পারবেন। কিছু বলবে না। এ কথা বলার পর বিক্রেতা তার একজন লোককে মহিষটির ওপড়ে চড়িয়ে দেন। এ বিষয়ে আশপাশে থাকা প্রায় সবাই সেটির ছবি তোলার জন্য এক রকম হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন।