ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট
ছবি : সংগৃহীত

অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান ও শ্বেতপত্র প্রকাশ, পাচারের টাকা ও খেলাপি ঋণ আদায়, দায়ীদের শাস্তি, আর্থিক অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম দূর করাসহ সর্বত্র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ, বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে মিছিল ও ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় এ ঘোষণা দেয় দলটি। একই সঙ্গে দেশব্যাপী জেলা সদরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা দেয় তারা। 

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহিদুল ইসলাম সবুজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির আব্দুল আলী প্রমুখ।

সভায় বলা হয়, সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে, আর সরকার নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি অনেক পদ খালি রয়েছে, অথচ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় সরকার কাজ দিতে না পারলেও স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারীদের উচ্ছেদ করে দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সভায় মায়ানমারের সংকটে দেশের মধ্যে গোলাবারুদ এসে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনা, সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারের নাগরিক এমনকি অস্ত্রসহ তাদের প্রবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া সভায় আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সফরের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

এনাম/সালমান/

বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে : রাশেদ প্রধান

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৪ পিএম
বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে : রাশেদ প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশকে নেতা, সেনা ও মেধাশূণ্য করার গভীর ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও ১২ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা রাশেদ প্রধান। তিনি বলেছেন, দেশ ও বিদেশের অপশক্তির ইশারায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নির্মমভাবে সেনা হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। একদিন পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হবেই। 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের নোয়াখালী সোসাইটি ভবনে যুক্তরাষ্ট্র শাখা জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘পিলখানা ট্রাজেডির স্মরণে  ও ভারতীয় পণ্য বয়কটের দাবি’তে এক আলোচনা সভায় ভাচুর্য়ালি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের জনগণের সরকার নয়! এই সরকার দিল্লির কৃতদাস সরকার। যার নেতৃত্বে ভারত বাংলাদেশকে বিভিন্ন পন্থায় শোষণ-নিপীড়ন ও লুন্ঠন চালাচ্ছেন। সীমান্তে বিএসএফ বাহিনী বাংলাদেশের বিজিবি ও নাগরিকদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে প্রতিনিয়ত। 

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রিতা রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকারসহ সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। 

ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এ এস এম রহমত উল্যাহ ভুঁইয়া বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু নয়! তাদের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের প্রতি শোষণ ও লুন্ঠনের।

জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক নোমান সিদ্দিকীর পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রিতা রহমান, সাংবাদিক ও লেখক সাঈদ তারেক, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস সাইদ আজাদ, জে. এফ সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, নিউইয়র্ক সিটি সভাপতি হাজী আনোয়ার, নিউইয়র্ক বিএনপির সভাপতি ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রহমান,সাংবাদিক কাজল, আশরাফুল হাসান, ইকবাল পাটোয়ারী, মাইন উদ্দিন আশরাফ প্রমূখ।

শফিক/এমএ/

পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিল, আহত সাইফুল-সাকি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম
পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিল, আহত সাইফুল-সাকি
ছবি : সংগৃহীত

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ব্যাংক লোপাট ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড হয়ে গেছে। লাঠিচার্জে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে দুপুরে সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার পথে বিক্ষোভ মিছিলটি গুলিস্থানের জিরো পয়েন্টে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দিলে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্যারিকেড ভেঙে নেতাকর্মীরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় মঞ্চের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশ হুইসেল বাজানো এবং লাঠি দিয়ে কর্মীদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতা ছুঁড়তে দেখা গেছে। তখন পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করেন। নেতাকর্মীরাও পুলিশের উপর চড়াও হন। এতে মঞ্চের জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। মঞ্চের আহত নেতাকর্মীদের সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে আবারও লাঠিচার্জ করেন পুলিশ সদস্যরা। এই ঘটনায় পুলিশ ও মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। 

মঞ্চের দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গণসংহতির জোনায়েদ সাকি, সাইফুল হকসহ ছাড়াও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য শেখ নাসির উদ্দিন, সদস্য ছাত্র ফেডারেশনের আরিফুল ইসলামসহ গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে বলেও দাবি করেন। 

ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি শাহ্ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম বলেন, ওনারা অনুমতি ছাড়াই এখানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসেছেন। তারপর আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি যে তাদের এখানে অনুমতি নেই। ওনারা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন যে ওনারা সচিবালয়ের সামনে এসে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে চলে যাবেন। কিন্তু ব্যারিকেড অতিক্রম করে সচিবলায়ে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। 

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ স্ংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই চলছে। 

পুলিশের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাকে, জোনায়েদ সাকিসহ অনেক মেরেছে পুলিশ। 

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, একটা মহল এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে আছে। সরকার মেগা প্রকল্প করে মেগা লুটপাটের জন্য। এই লুটের টাকা সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। 

জনগণকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে সাকি বলেন, মাঠে না নামলে এই সরকারকে হঠানো যাবে না। বিদেশিদের উপর ভরসা করবেন না তারা শুধু সুবিধা নেয়। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারকে বিদায় করে আমাদের জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার যতই হাবভাব দেখাক না কেন রোজায় দাম কমাতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন যেভাবে চলে এর থেকে খারাপভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।

এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে লাঠিচার্জ ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১২ দলীয় জোট এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। বিবৃতিতে ১২ দলীয় জোটের নেতৃদ্বয় বলেন, সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল-২ কায়েম করার জন্য বিরোধী দলের কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত বাধা প্রদান ও হামলা করাচ্ছে। এই ডামি সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জনগণের আন্দোলন দেখলেই পুলিশ দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।  

শফিক/এমএ/

আতঙ্কে আবারও গ্রেপ্তার-নির্যাতন শুরু করেছে সরকার : রিজভী

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম
আতঙ্কে আবারও গ্রেপ্তার-নির্যাতন শুরু করেছে সরকার : রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

সরকার অজানা আতঙ্কে আবারও গ্রেপ্তার-নির্যাতন শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একটি ডামি নির্বাচন করার জন্য এই আওয়ামী দখলদার সরকার বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীদের আটক করে রেখেছে। তারা আন্দোলনের ভয়ে নেতা-কর্মীদের আটক করেছে। এখন আবার নতুন করে গ্রেপ্তার শুরু করেছে, নির্যাতন শুরু করেছে।’

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সদ্য কারামুক্ত কৃষকদলের যুগ্ম-সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশসহ কারামুক্ত নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রিজভী। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার কারাগার ছিল বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারের মতো। সেখানে একটা মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম যে অধিকার সেটা সরকার দেয় নাই। এই তীব্র শীতের মধ্যেও তাদের একটা করে কম্বল দেওয়া হয়নি। বালু মেশানো ভাত খেতে দিয়েছে। জেলের মধ্যে নিয়েও বিএনপি নেতা-কর্মীদের এভাবে নিপীড়ন-নির্যাতন করা হয়েছে।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের কারাসেলে ২৪ ঘণ্টা বন্দি করে লকআপে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। কৃষকদলের পলাশ কিছুদিন আগে বের হয়েছে, তার ওপর ভীষণভাবে নিপীড়ন-নির্যাতন করা হয়েছে। জেলের মধ্যে তারা নির্যাতন করেছে এই কারণে যে, যারা বাইরে আছে তারা যেন ভয় পায়। কিন্তু এক ভাই নির্যাতনের শিকার হলে অন্য ভাইয়ের ভেতরে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, এটা সরকার বুঝতে পারেনি।’ 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, মৎসজীবী দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিম, পল্টন থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম পাটোয়ারী, যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, যুগ্ম-সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ। 

সবুজ/সালমান/

খুলনায় দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৭ এএম
খুলনায় দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও প্রার্থিতা নিয়ে এখন দ্বন্দ্বে ভুগছে খুলনা আওয়ামী লীগের তৃণমূল। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

গত দুই দিনে খুলনা-৪ আসনে রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সহসভাপতির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ‘মীর জাফর’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ করেছেন রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. কামালউদ্দিন বাদশা।

অন্যদিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কামালউদ্দিন বাদশাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক ফ ম আব্দুস সালাম। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন পোশাক রপ্তানিকারক আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা। দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তখন বিভক্ত হয়ে পড়েন। ওই নির্বাচনকে ঘিরেই এলাকায় বিভক্তির রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে নেতা-কর্মীরা জানান।

রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামালউদ্দিন বাদশা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বিঘ্নে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারাভিযানে নির্বাচন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী গণভবনে স্বতন্ত্র নির্বাচিত প্রার্থী ও বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিলেও খুলনা-৪ আসনে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্ত্তজা রশিদী দারা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পান। তবে ফলাফলে নৌকার প্রার্থী সালাম মুর্শেদী বিজয়ী ঘোষিত হন। বিজয়ী ঘোষণার পরপরই সালাম মুর্শেদীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে খুলনা-৪ আসনের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অত্যাচার, নির্যাতন, রক্তাক্ত জখম এবং তাদের সম্পদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুট করা হয়।

একই সঙ্গে দলের যেসব নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন, তাদের পদপদবি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে আইচগাতি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বভার বদল করা হয়েছে। গত সোমবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কামালউদ্দিন এসব কথা বলেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনে সংসদ সদস্যসহ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রতিবাদে কামালউদ্দিন বাদশাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি অধ্যাপক ফ ম আব্দুস সালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে থেকেও মো. কামালউদ্দিন বাদশা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনয়নকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষাবলম্বন করেন। একইভাবে গত জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে তার এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। 

তিনি বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদী শুধু রূপসা উপজেলায় ১০২৯২ ভোটে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মতো বিজয় লাভ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামে যে ভোটের হিসাব দেখানো হয়েছে, তা মূলত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কাল্পনিক অভিযোগ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে কামালউদ্দিন বাদশা মূলত আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শকেই ভূলুণ্ঠিত করেছেন।

এদিকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় সংসদ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দের লোক নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরির রাজনীতি করায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে: ফখরুল

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ পিএম
শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে: ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীন দেশে মানুষের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারগুলোকে হরণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী মধ্যযুগীয় রাজার শাসন কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, গত ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীদের দৌরাত্ম্য সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে কর্তৃত্ববাদ চিরস্থায়ী করার জন্য শেখ হাসিনা এক নির্দয়-হিংসাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করেছেন। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা দলের পুরানা পল্টনের কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে ডামি আওয়ামী সরকার। গুম-খুন-হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার ও ফরমায়েশি সাজা প্রদানের দ্বারা বিরোধী নেতা-কর্মীদের নাজেহাল করা হচ্ছে। দেশের মানুষের রক্ত নিংড়ে নিয়ে আগ্রাসী ফ্যাসিবাদ এখন ভয়াল মূর্তি ধারণ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠলেও আওয়ামী সরকার জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর তামাশা করছে। সরকারের অনাচার থেকে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতেই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের হিড়িক থামছে না।’ 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ইশতিয়াক আজিজ উলফাতই কেবল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তার পুরো পরিবারও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি তার বড় ভাই শহিদ হয়েছেন। আজকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অবমাননা করা হলো।’ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।