ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : ওবায়দুল কাদের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করার কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকতে মন্ত্রীসহ দলীয় এমপি ও নেতা-কর্মীদের প্রতি সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠনো বিবৃতিতে এ নির্দেশনার কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের মতামতের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করার কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকতে মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি ও নেতা-কর্মীদের প্রতি সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন দুই ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে এবং ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিলেও দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি মাইলফলক। নির্বাচন বানচালের বহুমুখী ষড়যন্ত্র ছিল। সেই প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসে এবং নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে।’ সূত্র : বাসস

সালমান/

সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড আছে : রিজভী

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড আছে : রিজভী
জিয়া প্রজন্ম দলের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও কারাগারে ঢুকানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য দিনের আলো যেন নিষিদ্ধ, তারা মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পারবেন না। এদের সব সময় কারাগারের ভেতরে থাকতে হবে। বিনা অপরাধে কারাগার এখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেছে। তবে সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের রেকর্ড করা আছে।’

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জিয়া প্রজন্ম দল আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের কারাগারে ঢুকানো, গ্রেপ্তার করা; শেখ হাসিনার এই কর্মসূচি যেন শেষই হচ্ছে না। আমার মনে হয়, তিনি (শেখ হাসিনা) একটা আতঙ্কের মধ্যে ভুগছেন। এর কারণ তিনি জানেন তার কোনো জনসমর্থন নেই। তারা জনগণের আওয়াজ পেলেই নিপীড়ন করে দমন করার চেষ্টা করছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ২৫-২৬ হাজার নেতা-কর্মী প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। কয়েক হাজার নেতা-কর্মী এখনো কারাগারে বন্দি। এর জবাব কি শেখ হাসিনা দিতে পারবেন? শেখ হাসিনা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’ 

‘রাজবন্দি কেউ নেই, রাজনৈতিক কারণে কেউ বন্দি নেই। যারা বন্দি রয়েছে তারা বিভিন্ন মামলার আসামি’- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘গোটা জাতি মনে করে আপনি ষড়যন্ত্র করে আন্দোলনকামী, গণতন্ত্রকামী, যারা সত্য কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতার মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে বন্দি করে রেখেছেন।’ 

জিয়া প্রজন্ম দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভীন কাউসার মুন্নীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মো. সারোয়ার হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির প্রমুখ।

শফিকুল/সালমান/

এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের প্রার্থী হতে নিষেধ আ.লীগের

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৮ এএম
এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের প্রার্থী হতে নিষেধ আ.লীগের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা। যা গড়িয়েছে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত। তাই প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি-মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের উপজেলা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষেধ করেছেন শেখ হাসিনা। তার পরও কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে। 

ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী দলীয় কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রীকে চিঠির মাধ্যমে সতর্ক ও নির্বাচন থেকে স্বজনদের সরে দাঁড়াতে চিঠিও দিয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয়ের ভেতরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার এমন নির্দেশের কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ওবায়দুল কাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরকে সারা দেশে যেসব এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা উপজেলা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর সদরের সংসদ সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এবং নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এ সময় নাটোর-৩ আসনের এমপি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিবের বিষয়ে কথা ওঠে। হাবিবেব বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীসহ তিনজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল।

এ বিষয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানিয়েছেন। আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তালিকা তৈরি হচ্ছে। দলের মধ্যে ঐক্য রাখতেই দলীয় প্রধানের এমন সিদ্ধান্ত। 

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের নির্বাচনে অন্তত ১৪ জন মন্ত্রী-এমপির পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে ভোটের মাঠে রয়েছেন। আর এমপি-মন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ায় তারা প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নিজের খালাত ভাইকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। দলের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিজের ছেলেকে ভোট না দিলে উন্নয়নকাজ না করার হুমকি দিয়েছেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। নাটোরে পলকের শ্যালক চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবিবের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। দলীয় নেতারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ক্ষুব্ধ হন সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দৈনিক তৃণমূল নেতারা স্থানীয় এমপি ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে উপজেলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের চিঠি দিচ্ছেন। তাই মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের সন্তান, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর এই নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক খবরের কাগজকে বলেন, ‘দলীয় সভাপতির পরিষ্কার নির্দেশ, দলের সবাইকে মেনে চলতে হবে। যারা বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশ মানবেন না তারা যতবড় এমপি-মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতা হোক না কেন, তাদেরকে আওয়ামী লীগের আর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে সরকার: মঈন খান

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে সরকার: মঈন খান
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান অভিযোগ করে বলেছেন, বিরোধী দল দমনসহ বিএনপিকে ভাঙতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক হৃদরোগে আক্তান্ত ডা. পারভেজ রেজা কাকনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার উপস্থিত ছিলেন। মঈন খান অসুস্থ কাকনের শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজ নেন।

ড. মঈন বলেন, সরকার হামলা-মামলা ও গুলিকে বিরোধী দল দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। তবে এসব করেও ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনে দেশের মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারেনি সরকার। ভয় দেখিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখতে চায়। দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ করেছে। তারা ভোটকেন্দ্রে যায়নি। কারণ এই ভোটের ওপর তাদের আস্থা নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে সরকারের দেশের মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে শাসন করা ও ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার নীতি ভুল। তারা বিরোধী দল দমনসহ বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কখনই বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেটা বাদ দিয়ে তা দলীয় প্রতীকে শুরু করেছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে বর্জনের পর আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে যে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা হলে দেশের সামাজিক কাঠামোটা ভেঙে যাবে। নিজেদের নৌকা নিজেরাই ডুবিয়েছে। সুতরাং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ছাড়া এই সরকার ও তাদের সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। তবে গ্রামে-গঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কে যাবে কে যাবে না সেটা তো বিএনপি দলীয়ভাবে দেখতে পারে না।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, সরকারকে বলব, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে আদর্শের রাজনীতিতে ফিরে আসুন। বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে বিএনপির অসুস্থ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ড. মঈন খান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রফিকুল ইসলাম মিয়া বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

সবুজ/এমএ/

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম
ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ অংশ নেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ খবরের কাগজকে বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দেশের সার্বিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। 

এদিকে, বৈঠকের পর ব্রিটিশ হাইকমিশন বাংলাদেশের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা হয়, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হাইকমিশনার।  দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সারাহ কুক। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত বৈঠকটি চলে বলে জানা গেছে।

সবুজ/এমএ/

বিএনপির নির্বাচনবিরোধী অবস্থানের কারণেই আ.লীগ প্রতীক দিচ্ছে না : কাদের

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৩ পিএম
বিএনপির নির্বাচনবিরোধী অবস্থানের কারণেই আ.লীগ প্রতীক দিচ্ছে না : কাদের

বিএনপি নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকেও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করতে হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতারা যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। দল ও দলের বাইরে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যাতে নির্বাচিত হয়- সেটাই আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ যখন নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে, বিএনপি নেতারা তখন বরাবরের ন্যায় দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনি ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে চায়। আমরা বিএনপির গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা লাগাতারভাবে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টে বিএনপি লাগাতারভাবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের ভয়াবহ সম্মিলিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই বিএনপি নেতারা বিরোধী দল দমনের কথা বলে।’

সরকার বেপরোয়াভাবে কাউকে কারাগারে পাঠাচ্ছে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির নেতা-কর্মীরা আইন ও আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে এবং জামিনে মুক্তিও পাচ্ছে। তবে যারা নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, জনগণের জানমালের ক্ষতি করেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, সেসব সন্ত্রাসী ও তাদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মহামান্য আদালত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবে।’