ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

আ.লীগ সরকার কোনোদিন জনগণের ভোট পাবে না: মঈন খান

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
আ.লীগ সরকার কোনোদিন জনগণের ভোট পাবে না: মঈন খান
ছবি: খবরের কাগজ

সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থবিত্ত-বৈভব দখল করতে পারবে কিন্তু জনগণের ভোট তারা আর কোনোদিন পাবে না, জনগণের ভালোবাসাও পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। 

তিনি বলেন, ‘এটা ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আরেকবার প্রমাণিত হয়ে গেছে। আমরা চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা ফিরে আসুক, একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হোক।’

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) কারাগারে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের রাজধানীর শান্তিনগরের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় সোহেলের বড় মেয়ে বাবাকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

মঈন খান বলেন, ‘সরকার কত বড় জুলুমবাজ হলে একজন নিরপরাধ মানুষের নামে প্রায় ৫০০ মামলা দেয়। তার অপরাধ শুধু সরকারের অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। একদলীয় শাসনের কাছে মাথা নত করার জন্য কি ৫৩ বছর আগে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলো আজকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের। এ জন্য ৭ জানুয়ারি নির্বাচন তারা বর্জন করেছে। এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি সরকারকে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করছে, অন্যায় কাজের সমালোচনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার একের পর এক মামলা দিয়েছে। ২৮ অক্টোবর পর ক্র্যাকডাউন করে বিএনপি মহাসচিবসহ প্রায় ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর ৭ জানুয়ারি গায়ের জোরে সাজানো পাতানো একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করছে সরকার। কিন্তু বন্দুকের জোরে অর্জিত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না সরকার।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সরকার যদি বিএনপির ওপর জুলুম না-ই করে থাকে, তা হলে গেল ১৫ বছরে বিরোধী দলের প্রায় অর্ধকোটি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখের ওপর মামলা দিল কেন?’ 

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে জাতীয় নির্বাচন, জেলা বা উপজেলা নির্বাচন সরকার কিভাবে করে এটা দেশ ও বিশ্ববাসী সবাই জানেন। সাজানো-গোছানো প্রহসনের নির্বাচনের জন্য তো বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকার নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বিচার বিভাগকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে গড়ে উঠলে সবাই নির্বাচনে যাবে।’
 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি সঠিক পথেই চলত তাহলে ব্যাংকে ডাকাতি হলো কেন? সরকার শুধু রাজনীতিকে ধ্বংস করেনি, দেশের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করেছে। সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে সরকারের ব্যর্থতায় রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে। তাই ব্যাংক ডাকাতিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দেশ চালনায় সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’ 

আরেক প্রশ্নের জাবাবে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা আসার পর সরকার একের পর এক আলোচনা করে গেল কিন্তু এখন রোহিঙ্গা বিষয়টি কোথায় দাঁড়িয়েছে। সরকার যেখানে হাত দিয়েছে সেখানেই ব্যর্থ হয়েছে। এরা দুইটি জায়গায় সফল হয়েছে। একটি হলো বিরোধী দলকে দমন করতে; আরেকটি এ দেশের দরিদ্র মানুষের অর্থ বিদেশে পাচার করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে।’

এ সময় নবী খান সোহেলের বড় মেয়ে জান্নাতুল সুচনা বলেন, ‘আমার বাবা রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৯০টির বেশি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বাবা ভীষণ অসুস্থ। বহু বছর ধরে আমরা মানসিক অত্যাচারে মধ্যে আছি। আমার বাবা যেন ন্যায়বিচার পান, আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই। ঈদ আসছে কিন্তু আমাদের মনে কোনো ঈদ নেই। আমাদের জীবনে কোনো বিশেষ দিন নেই।’

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/ 

আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৫ পিএম
আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতা তৈমুর রহমানের স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : খবরের কাগজ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর রাজনৈতিক দল নেই, সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। এখন তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকার চালায়। এখন আওয়ামী লীগ নেই, পুলিশ লীগ হয়ে গেছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ায় সদ্য প্রয়াত জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানের স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী কায়দায় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ৭৫ সালে তারা বাকশাল করেছিল, এখন আবার তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ এই সরকারকে আর দেখতে চায় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে সত্যিকার অর্থেই একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার জন্য।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘চুরি করতে করতে দেশটাকে তারা লুটপাট করে নিয়েছে। অর্থনীতি শেষ। ব্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থান ধসের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এখন থামেন।  মেগা প্রজেক্ট দিয়ে মেগা দুর্নীতি বন্ধ করেন। না হলে এ দেশ আর টিকবে না।’ 

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র, পয়গাম আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আমিন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, মহিলা দলের সভাপতি ফুরাতুন নেহার প্যারিস প্রমুখ।

নবীন/সালমান/

 

আ.লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে : রিজভী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম
আ.লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে : রিজভী
নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা নেই।’ 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

‘বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তার বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি তলে তলে প্রভুদের খুশি করতে চাইছেন। আপনি কোন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন? বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করতেই পারে। গরিব-দুঃখীদের নিয়ে ইফতার করেছে। কিন্তু ভারত থেকে নায়ক-নায়িকা নিয়ে এসে পার্টি করেন, ওখানে টাকা খরচ হয় না?’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে বিএনপি জড়িত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র কিন্তু আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা কেউ ভালো নেই।’

সব জায়গায় আজ লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘চালের দাম কমানোর কথা বলে সরকার দাম আরও বাড়িয়েছে। সরকারের লোকজন সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সিন্ডিকেন্ডের কারণে ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। ব্যাংক একত্রীকরণের নামে লুট হওয়া ব্যাংকগুলোকে আরও দেউলিয়া করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’ 

রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার ঈদে কেনাকাটা অনেক কম হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদ সাধারণ মানুষদের আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়েছে।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ওমর ফারুক কায়সার প্রমুখ।

শফিকুল/সালমান/

নীতি-আর্দশ মেনে বক্তব্য-বিবৃতি দিতে নির্দেশ হেফাজতের আমীরের

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৮ এএম
নীতি-আর্দশ মেনে বক্তব্য-বিবৃতি দিতে নির্দেশ হেফাজতের আমীরের
ছবি : খবরের কাগজ

হেফাজতে ইসলামের শৃঙ্খলা, নীতি, আদর্শ ও কর্মকৌশল বজায় রেখে নেতাকর্মীদের বক্তব্য বিবৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে কোনো অপপ্রচারে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামে জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। 

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত এক শ্রেণীর ধর্মবিরোধী গোষ্ঠী এ দেশের মুসলিম প্রজন্মের মন ও মানস থেকে ইসলামী ধ্যান-ধারণাকে চিরতরে মুছে দেওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তুকে বাদ দিয়ে অধিকন্তু ইসলামবিরোধী বিষয়বস্তুকে সুপরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, গত বছরের অল্প কয়েকটি বিষয় সংশোধন করা হলেও ২০২৪ সালের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী চিন্তাচেতনার সাথে সাংঘর্ষিক অনেক বিষয় রয়ে গেছে। পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ইসলামি শিক্ষার নানা বিষয়। কর্তন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির সহায়ক বিভিন্ন অধ্যায় ও পাঠ। আমরা জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম থেকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সব বিষয় বাদ দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

হেফাজতের আমীর বলেন, এ বছর ঈদুল ফিতর বিশ্বের মুসলিমদের জন্য খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের পরিস্থিতি ভিন্ন। টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসনের কারণে ভূখণ্ডটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নারী-শিশুসহ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটছে। সব ধ্বংস, কষ্ট, বেদনার মাঝেই ঈদ উদযাপন করেছেন তারা। আমরা আশা করি, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের লক্ষ্যে ওআইসিসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রকৃত সমর্থন বাড়াতে সচেষ্ট হবেন।

সভায় হেফাজত নেতারা বলেন, মাওলানা মামুনুল হক এখনো কারাবন্দি। জামিন পাওয়া তার সাংবিধানিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনো তাকে সরকার জামিন দেয়নি। অনতিবিলম্বে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে ২০১৩ সাল থেকে অদ্যবধি হেফাজতের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি আমরা।

কর্মসূচি: 
শিক্ষা কারিকুলাম বাতিলের লক্ষ্যে আগামী ৪ মে ঢাকায় দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের নিয়ে ‘বর্তমান জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম ও নতুন পাঠ্যপুস্তকের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনার আয়োজন করবে হেফাজত।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজত নেতা আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মুফতী জসিম উদ্দিন, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা হারুন ইজহার, মুফতি মুনির হুসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা তোফায়েল আহমাদ, মাওলানা এহসানুল হক প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

বাংলা নববর্ষে র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৬ পিএম
বাংলা নববর্ষে র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে আলোচনাসভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করবে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকাল ৭টায় পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে থেকে এই র‌্যালিটি শুরু হবে।

বর্ণাঢ্য এই র‌্যালিটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হবে।

আলোচনাসভা ও র‌্যালির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি। সূত্র: বাসস

অমিয়/

মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি: কাদের

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি: কাদের
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি ‘গুম-নির্যাতনের’ কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানাতেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্বোস্তরের জনগণ যখন পবিত্র ঈদ উৎসব উদযাপন করছে, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে প্রতিটি গৃহকোণে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা ঠিক সে সময়ে বিএনপি তথাকথিত ‘গুম-নির্যাতনের’ কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।’
 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের দেওয়া বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গুম, হত্যার ঘটনা সর্বৈব মিথ্যা এবং দায়েরকৃত মামলার সংখ্যার তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন মনগড়া তথ্য দিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে।’

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত গুম, খুন ও মামলার সংখ্যা নিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছ থেকে করুণা ও রাজনৈতিক সমর্থন লাভের আশায় বিএনপি নেতারা ধারাবাহিকভাবে সরকারবিরোধী এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢালাওভাবে অপপ্রচার না চালিয়ে রাজনৈতিক কারণে তথাকথিত নিপীড়ন-নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ বিএনপি নেতাদের সম্পূর্ণ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘‘ঠাকুরগাঁওয়ে মৃত্যুবরণকারী যুবদল নেতা একজন স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদকসেবী এবং তার বিরদ্ধে মাদকব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন। কোনো প্রকার আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সরকার গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল একজন মাদকাসক্ত এবং মাদকব্যবসায়ীর মতো একজন অপরাধীর স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে ‘বিরোধীদলের উপর সরকারের নির্যাতন’-এর অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’’
   
সরকার দেশে যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তখন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র চালায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে মোট এক হাজার ২২৩ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে ক্রসফায়ার এবং পুলিশ হেফাজতে হত্যা করে। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’ সূত্র: বাসস

জোবাইদা/অমিয়/