ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে জাদুঘরের ভূমিকা ব্যাপক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:৫৮ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১১:৫৮ এএম
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে জাদুঘরের ভূমিকা ব্যাপক

পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত ইতিহাস জমা হচ্ছে, তারই প্রতিচ্ছবি হলো জাদুঘর। জাদুঘরের ইংরেজি মিউজিয়াম শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ মিউজয়ন থেকে, যার অর্থ কাব্যাদির অধিষ্ঠাত্রী দেবীর মন্দির। বাংলায় জাদুঘর কথাটির অর্থ হলো, যে গৃহে অদ্ভুত পদার্থসমূহ সংরক্ষিত আছে এবং যা দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হতে হয়। তাই বরাবরের মতো জাদুঘরের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়- যাতে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা তার আপন ঐতিহ্য সম্পর্কে ভাবতে শেখেন। জাদুঘর এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। এতে বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয় এবং তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়। 

আর পৃথিবীতে একটি টেকসই, নির্মল, সবুজ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ আবাসস্থল বিনির্মাণে জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি জাদুঘর নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান দ্বারা দর্শকদের গ্যালারি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করে থাকে। নিয়মিত দর্শক/বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পথশিশু থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি ভিআইপি ইত্যাদি পর্যায়ে নিয়মিত গাইড সেবা প্রদান করে থাকে। তাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে জাদুঘরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শুদ্ধ সংস্কৃতি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে জাদুঘর সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঝুঁকি নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে জাদুঘরের ভূমিকা রয়েছে।

ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ 
[email protected] 

কোরবানির পশুর হাটে সতর্কতা প্রয়োজন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:১৩ পিএম
কোরবানির পশুর হাটে সতর্কতা প্রয়োজন

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। এ মাসে ঝড়বৃষ্টি বেশি হয় বলে ঈদ যাত্রা থেকে শুরু করে কোরবানির পশু নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। তাই ঈদুল আজহার আমেজ আসে কোরবানির পশুর হাট ঘিরে। পরিবারের সদস্যরা মিলে হাটে যাওয়া, দরদাম করে পশু কিনে বাড়ি ফেরা, পথে মানুষের জিজ্ঞাসা ‘দাম কত হলো,’ এসব আলাদা মাত্রা যোগ করে ঈদের আমেজে।

আর মনের পশুকে কোরবানি করা হয়। কাজেই উপলব্ধিকে উপলক্ষ করে মানুষ পশু কিনতে বাজারে যায়। নিজের পছন্দে নিজেই কিনে আনে বলে কোরবানির হাট কিংবা বাজার, অন্য অনেক থেকে আলাদা। কাজেই, এ বাজারে পুরাতন বিক্রেতার সঙ্গে নতুন ক্রেতার দেখা হয়, পুরাতন দালালের সঙ্গে নতুন ক্রেতার ভণিতার সখ্য হয়। গরু পৌঁছে দেওয়ার সহকারীর কাছে ১০০ টাকা থেকে হাজার টাকার দফারফায় লাখ টাকার গরু বা পশু তুলে দিতে হয়। তাই কানকে খরগোশের মতো খাঁড়া করে, চোখকে মাছির মতো সচল রেখে, বাজারে বা হাঁটে ঢুকতে হয়। অস্থায়ী মানুষের অস্থায়ী হাট ক্ষণস্থায়ী বলে পদে পদে বিপদ। এজন্যই এ বাজারে অধিক সতর্কতার সঙ্গে পশু কিনতে হয়। চোখকে টর্চলাইট, কানকে অ্যান্টেনা, মনকে রাডার মানিয়ে চলতে হয়।

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ 
[email protected]

রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচার উপায়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:১২ পিএম
রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচার উপায়

বাংলাদেশে এখন এক তীব্র, ভয়-আতঙ্কের নাম রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। এই সাপের দংশনে সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছেন কৃষকরা। ধান কাটতে গিয়ে রাসেলস ভাইপারের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। আগে হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় এই সাপের উপস্থিতি দেখা গেছে। এখন তা ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন রাসেলস ভাইপারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা খুবই আতঙ্কের বিষয়। কিন্তু স্বস্তির বিষয় হলো, বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের সঠিক চিকিৎসা আছে। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে। সর্প দংশনের শিকার হলেই নিশ্চিত মৃত্যু হবে- ব্যাপারটা মোটেই এমন নয়। সর্প দংশনের শিকার হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। সর্প দংশনের পর রোগীকে সাহস দিতে হবে। শান্ত রাখতে হবে। সর্প দংশিত অঙ্গের নড়াচড়া বন্ধ রাখা, যাতে বিষ শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে। অধিকাংশ সাপ হাতে বা পায়ে দংশন করে, দংশিত অঙ্গ নড়াচড়া না করার ফলে শরীরে বিষ ছড়াতে সময় লাগে। পায়ে ছোবল দিলে লাঠি বেঁধে পা সোজা করে স্টেচারে শুইয়ে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে। চিকিৎসককে সব খুলে বলতে হবে। উল্লেখ্য, যেকোনো ধরনের বাঁধনে সাপের বিষ আটকাতে পারে না। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে হাত-পা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়া ও সবুজবোড়া সর্প দংশনে বাঁধন মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 

জমিতে কাজের সময় অবশ্যই গামবুট পরতে হবে। সম্ভব হলে হাতে গ্লাভস থাকা উত্তম। দেখা গেছে সাপ হাত এবং পায়ে দংশন করে সবচেয়ে বেশি। রাতের বেলা লাইট নিয়ে চলাফেরা করতে হবে। রাতে জমিতে কাজ না করাই ভালো। জমির ধান, ভুট্টাসহ নানা ফসল কাটার জন্য যান্ত্রিক মেশিন ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। জমি এবং জমির ঝোপঝাড় দিয়ে হাঁটার সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। রাসেলস ভাইপার হিসহিস শব্দ করে। যা কানে বেশ জোরেই শোনা যায়। এ কারণে হিসহিস শব্দ শুনলে সাবধান হতে হবে। কাজ করার সময় মাটিতে শব্দ করা যেতে পারে, যাতে সামান্য হলেও কম্পন সৃষ্টি হয়। রাসেলস ভাইপার কম্পন বুঝতে পারে। রাসেলস ভাইপার দ্রুত দংশন করতে পারে। কিন্তু এরা তেড়ে এসে কামড়ায় না। এরা খুব অলস প্রকৃতির সাপ। কুণ্ডুলী পাকিয়ে বসে থাকে। এই সাপের বিষে বিভিন্ন ধরনের বিষ থাকে না। রাসেলস ভাইপারের দংশনের সঠিক চিকিৎসা বাংলাদেশে আছে। 

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বনানী, ঢাকা
[email protected]

কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা জরুরি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা জরুরি

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানি। এ সময় সারা দেশে লাখ লাখ পশু কোরবানি দেওয়া হয়। প্রতিবছরই পশুর বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার কারণে পরিবেশদূষণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। 

যেখানে-সেখানে পশুর বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে থাকে। পশুর বর্জ্য যখন পচতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ প্রকট আকার ধারণ করে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ফলে রোগব্যাধির অবাধ বিস্তার ঘটে। কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টের একটি অংশ যদি খোলা জায়গায় কিংবা ড্রেনে ফেলা হয়, তাহলে তা থেকে দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

অনেক সময় ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। তখন সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা এসব বর্জ্য পরিষ্কার করতে হিমশিম খায়। কোরবানির পর পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, মল ও তরল পদার্থ কোনো অবস্থাতেই যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। এগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে হবে কিংবা মাটিচাপা দিতে হবে।

প্রয়োজনে নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে। গোশত কাটার সময় উচ্ছিষ্ট ময়লা যেখানে-সেখানে না ফেলে গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। যদি কোরবানির পর পশুর বর্জ্যকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসা যায়, তাহলে পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর ও দূষণমুক্ত রাখা যাবে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মো. আশরাফুল ইসলাম 
শিক্ষক ও কলাম লেখক, তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ
[email protected]

প্রত্যেক নাগরিকই চায় বাজার দূষণমুক্ত থাকুক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৪৯ এএম
প্রত্যেক নাগরিকই চায় বাজার দূষণমুক্ত থাকুক

ঢাকার কোনো বাজারই দূষণমুক্ত নয়। নিউ মার্কেট বাজার থেকে কাপ্তানবাজার, মিরপুর বাজারসহ প্রতিটি বাজারই ভয়ানক দূষিত। 

আধুনিকতার অভাবে ভালোভাবে প্রদর্শনী দেখা যায় না। আমাদের অনুরোধ, ঢাকার প্রতিটি বাজারকে দূষণমুক্ত করে আধুনিক রূপ দেওয়া হোক। 

লিয়াকত হোসেন খোকন 
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]

শিশুশ্রম বন্ধ না হলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:২৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:২৩ এএম
শিশুশ্রম বন্ধ না হলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার

জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয় শিশু নীতি-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। আর শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কেউ যদি শিশুশ্রমিক নিয়োগ করে, তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হবে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে। 

শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। অনুসন্ধান করে জানা যায়, জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ অনুসারে, পল্লি এলাকায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার শ্রমজীবী শিশু রয়েছে এবং শহরাঞ্চলে রয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার, শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা পল্লি এলাকায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ৪ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা পল্লি এলাকায় ৮ লাখ ২০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ২ লাখ ৪০ হাজার। 

তাই শিশুশ্রম বন্ধের জন্য শিক্ষার প্রসার ও দারিদ্র্যবিমোচনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুশ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সমাজকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুশ্রম বন্ধ না করলে অচিরেই একটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত বিরুদ্ধাচরণের বিকল্প নেই।

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
[email protected]