রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কিয়ামতের নিদর্শনাবলি বলে দেওয়ার অর্থ এমন নয়—আল্লাহতায়ালা সেগুলোকে যেমন জানেন, তিনিও তেমন জানতেন; বরং তার কাছে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত ও জ্ঞান ছিল। ফলে হাদিসগুলোকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘আলিমুল গায়েব’ ছিলেন তাই সবকিছু জানতেন বিষয়টা এমন নয়; বরং সরাসরি অহিসহ নানা উপায়ে তকাঁর কাছে এই জ্ঞান বা তথ্য আসত।
কিয়ামতের বিভিন্ন নিদর্শনের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন। কোথাও প্রথমে সংক্ষিপ্ত বলে, পরে বিস্তারিত বলেছেন। কোথাও অহির মাধ্যমে সংযোজন-বিয়োজন করেছেন। পরিবর্তন করেছেন। উদাহরণত—ইবনুস সাইয়াদের কথাই ধরা যাক। তিনি আল্লাহতায়ালার মতো দাজ্জালের বিষয়ে সবকিছু জানতেন না; বরং তাকে সম্ভবত দাজ্জালের কিছু নিদর্শন বলে দেওয়া হয়।
ইবনুল জাওজি লিখেছেন, ‘রাসুলুলল্লাহ (সা.) কখনো কখনো কিয়াস-চিন্তা-গবেষণার সহায়তা নিতেন। যেমন, প্রথমে যখন তাকে কিয়ামত কাছাকাছি আসার কথা জানানো হলো—‘আল্লাহর নির্দেশ এসে গিয়েছে, সুতরাং তোমরা তাড়াহুড়ো করো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১) একইভাবে বলা হলো—‘কিয়ামত তো শুধু চোখের পলকের বিষয়।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৭৭)
তখন তিনি সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর জীবদ্দশায় কিয়ামত হতে পারে। এজন্য তিনি তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল আসার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে করতেন। ফলে বলেছেন, ‘সে যদি আমি বেঁচে থাকতে আসে, তবে আমিই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হব।’ —এভাবে বলেছেন। পরবর্তী সময়ে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়—দাজ্জাল ও কিয়ামত আরও অনেক পরে আসবে।’ (ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
আরেকটি উপায় হলো, অনেক সময় ভবিষ্যতের নানান দৃশ্য নবীজির কাছে আয়নার মতো ফুটে উঠত। এটা ছিল তার মুজিযা। ফলে তিনি বিশেষ কোনো ঘটনা দেখতে পেতেন।
লেখক : আলেম ও গবেষক