রমজানের রোজা শুধু ধনী বা মালিকদের ওপরই ফরজ নয়, গরিব বা অধীনদের ওপরও ফরজ। এ মাসে একজন ধনী বা মালিক যেমন রোজা পালন করবে; গরিব ও অধীন ব্যক্তিরা রোজা রাখবে তেমন। পৃথিবীর একজন আরেকজনের অধীন। যে যারই অধীন হোক, মুসলমানমাত্রই রোজা পালন করবে―এটাই স্বাভাবিক। আর এটাও স্বাভাবিক, কাজ করতে করতে ক্লান্তি-অবসাদগ্রস্ততা নেমে আসে। এ জন্য পবিত্র রমজানুল মুবারকের সম্মানে অধীনস্থদের সঙ্গে সংযত আচরণ করা উচিত।
ইসলাম ধনী-গরিব, মনিব-চাকর, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। আদল-ইনসাফ ও ন্যায়নীতির ধর্ম ইসলাম। গৃহের মালিক নিজে যা খাবে ও পরবে, অধীনস্থ কাজের লোকদের তা-ই খাওয়াবে ও পরাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে লোকসকল, আল্লাহ তোমাদের ভাইদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অতএব, যার অধীনে কোনো ভাই থাকে; তাকে তা-ই খাওয়াবে―যা সে নিজে খায়। তাকে তা-ই পরাবে; যা সে নিজে পরে এবং তাকে সাধ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দেবে না। অগত্যা তাকে দিয়ে যদি কোনো কষ্টের কাজ করাতে হয়, তা হলে তাকে সাহায্য করবে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৫৪৫)
রমজান হচ্ছে কর্মচারীদের থেকে কাজের বোঝা কমিয়ে দেওয়ার মাস। খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের পক্ষে রোজা রেখে পরিপূর্ণভাবে কাজকর্ম সম্পাদন যে কত কঠিন, তা মালিকপক্ষের অনুভব করার সময় এ রমজান। এ মাসের দিনে অধীনস্থ কর্মচারী এবং চাকর-বাকরদের দায়িত্ব ও কাজকর্ম হাল্কা করে দেওয়া ইসলামের বিধান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে (রমজানে) যারা দাস-দাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে অর্থাৎ তাদের কাজের বোঝা হাল্কা করবে, আল্লাহতায়ালা তাদের দয়াপরবশ হয়ে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন।’ (ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৮৮৮)
কোনো ক্রীতদাসের অসুস্থতার খবর শুনলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছুটে যেতেন এবং তার সেবা-শুশ্রূষা করতেন। একবার এক ধনী লোকের গোলাম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে দেখার কেউ ছিল না। মনিব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির। গোলামটি একটি অন্ধকার কুঠুরিতে শুয়ে কাতরাচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ওই বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় অসুস্থ গোলামটির কাতরানির আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তার মাথায় হাত বোলাতে থাকেন। এতে সে আরাম বোধ করতে লাগল।
আলি (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বশেষ বাণী ছিল―১. নামাজ আদায় করো এবং ২. তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।’ (আদাবুল মুফরাদ, ১৫৮)
সুতরাং এ মাসে অধীনস্থদের মৌলিক অধিকারগুলো আদায় করার পাশাপাশি বাড়তি সহজতা প্রদান করা ঈমানের দাবি।
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক