রিজিক মানেই শুধু টাকা পয়সা, ধনসম্পদ নয়, বরং সুস্বাস্থ্য, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, উত্তম জীবনসঙ্গী, উত্তম সন্তান সবকিছুই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। রিজিকের বিভিন্ন স্তর হলো—
সর্বনিম্ন স্তর: টাকা-পয়সা অর্থসম্পদ শুধু এসবই রিজিক নয়। বরং আর্থিক সচ্ছলতাই হচ্ছে রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর। ধনসম্পদ মানুষের পার্থিব জীবনের শোভা মাত্র। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা মাত্র। (সুরা কাহাফ, ৪৬)। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফিতনা রয়েছে। আর আমার উম্মতের জন্য ফিতনা হলো ধনসম্পদ। (তিরমিজি, ২৩৩৬)।
সর্বোচ্চ স্তর: রিজিকের সর্বোচ্চ স্তর হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। রাসুল (সা.) সুস্থতাকে উৎকৃষ্ট নেয়ামত আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য অর্থসম্পদের চেয়েও মূল্যবান নেয়ামত। তিনি আরও বলেন, খোদাভীরু মানুষদের ধনসম্পদের মালিক হওয়ায় কোনো দোষ নেই। আর খোদাভীরু মানুষদের জন্য সুস্থতা ধনসম্পদের চেয়েও অধিক উত্তম। মনের প্রফুল্লতাও নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে মাজাহ, ২১৪১)।
সর্বোত্তম স্তর: রিজিকের সর্বোত্তম স্তর হলো নেককার জীবনসঙ্গী ও নেককার সন্তান-সন্ততি লাভ করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, পার্থিব জগৎ হলো ক্ষণিকের উপভোগের বস্তু। আর পার্থিব জগতের সর্বোত্তম সম্পদ হলো পুণ্যবতী স্ত্রী। (মুসলিম, ১৪৬৭)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। (সুরা কাহাফ, ৪৬)।
পরিপূর্ণ স্তর: রিজিকের পরিপূর্ণ স্তর হলো আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি। পবিত্র কোরআনে এসেছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য (সুরা তাওবা, ৭২)।
আবশ্যক স্তর: রিজিকের আবশ্যক বা জরুরি স্তর হলো ঈমান। মুসলিম জীবনে ঈমান অর্জনের চেয়ে বড় কোনো রিজিক নেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তারা ইসলাম গ্রহণ করে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না, বরং আল্লাহতায়ালাই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা হুজরাত, ১৭)।
লেখক: প্রাবন্ধিক