প্রশ্ন: ইদানীং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মেসেঞ্জার, টেলিফোন বা অন্য কোনো অনলাইন মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা সম্ভব কি না— এই জিজ্ঞাসাটি প্রায়ই শোনা যায়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?
উত্তর: ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি এবং এটি সম্পন্ন হওয়ার জন্য কিছু সুস্পষ্ট শর্ত রয়েছে, যা পূরণ করা আবশ্যক। সরাসরি মেসেঞ্জারে বা ফোনে শুধু প্রস্তাব ও কবুল বলার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয় না। শরিয়তে বিবাহ সহিহ হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য:
১. প্রস্তাব ও কবুল: পাত্র বা পাত্রী অথবা তাদের উকিলদের (প্রতিনিধিদের) পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে প্রস্তাব (ঈজাব) এবং তা গ্রহণ (কবুল) করা।
২. এক মজলিস বা বৈঠক: প্রস্তাব এবং কবুল একই বৈঠকে বা মজলিসে হতে হবে। অর্থাৎ, পাত্র বা পাত্রী যখন প্রস্তাব দেবে, অপরপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা গ্রহণ করবে।
৩. সাক্ষী: দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান এবং দ্বীনদার মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রস্তাব ও কবুল বলা হতে হবে। সাক্ষীগণকে উভয়ের কথা স্পষ্টভাবে শুনতে হবে।
মেসেঞ্জার বা ফোনে কেন বিবাহ হয় না?
টেলিফোন বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সরাসরি প্রস্তাব ও কবুল বলার ক্ষেত্রে উপরোক্ত শরয়ী শর্তাবলি পরিপূর্ণভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে এক মজলিসের শর্ত এবং একই সঙ্গে সাক্ষীদের দ্বারা প্রস্তাব-কবুল সুস্পষ্টভাবে শোনার শর্তটি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরাসরি মেসেঞ্জার বা ফোনে বিবাহ করা জায়েজ নয়।(ফাতাওয়ায়ে উসমানী-২/৩০৪, ৩০৫)
বিবাহ সম্পন্ন করার সঠিক পদ্ধতি
যদি দূরত্বের কারণে সরাসরি উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হয়, তবে সঠিক পদ্ধতি হলো— উভয় পক্ষ থেকে একজন করে ব্যক্তিকে উকিল বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে হবে। এর পর সেই উকিল দুজন মুসলিম সাক্ষীর সামনে একত্রিত হয়ে পাত্র/পাত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেবে এবং অপর পক্ষের উকিল তা কবুল করবে। এই প্রক্রিয়ায় বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
বিয়ে পূর্ববর্তী একটি গুরুতর সতর্কতা
বিবাহের আলোচনা চলাকালীন বা অন্য যেকোনো সময় ছেলে-মেয়েরা মেসেঞ্জারে বা ফোনে অবাধে ও অপ্রয়োজনে কথোপকথন বা সম্পর্ক স্থাপন করে। ইসলামে বিবাহ-পূর্ব এ ধরনের অবাধ মেলামেশা বা কথোপকথন সম্পূর্ণভাবে না-জায়েজ এবং গুনাহের কাজ। হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, চোখের জিনা হলো [হারাম] দৃষ্টিপাত, কর্ণদ্বয়ের জিনা হলো (গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক) কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শোনা, জিহ্বার জিনা হলো (গায়রে মাহরামের সঙ্গে সুড়সুড়িমূলক) কথোপকথন, হাতের জিনা হলো (গায়রে মাহরামকে) ধরা বা স্পর্শকরণ, পায়ের জিনা হলো [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে (যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে)।(মুসলিম,২৬৫৭)
অতএব, এসব ফালতু কাজ এবং বিবাহ-পূর্ব অবাধ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কারণ এর প্রতিটির জন্য গুনাহ হবে। যারা সত্যিকারের ভালোবাসার মাধ্যমে পারিবারিক জীবন শুরু করতে চান, তাদের উচিত শরিয়তের বিধান মেনে দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন করা এবং বিবাহের আগে সব ধরনের অবৈধ সম্পর্ক বর্জন করা।