ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

নজরদারিতে হিন্দাল শারক্বীয়া, ধরাছোঁয়ার বাইরে ৬ নেতা

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
নজরদারিতে হিন্দাল শারক্বীয়া, ধরাছোঁয়ার বাইরে ৬ নেতা
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া প্রধান শামীম মাহফুজ

বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এর ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া আবারও আলোচনায় এসেছে। রাষ্ট্রবিরোধী এই সংগঠনের কেএনএফের সঙ্গে শুরু থেকেই এর যোগ সূত্র ছিল। শারক্বীয়ার প্রধান শামীম মাহফুজ ও কেএনএফের প্রধান নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনার সময় পরিচয় ঘটে। এ সময় তারা তাদের ভিন্ন দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার চুক্তিবদ্ধ হন। এই চুক্তি ছিল ৩ বছরের। 

শারক্বীয়ার জঙ্গিদের পাহাড়ে প্রশিক্ষণের জন্য নাথান বম সহযোগিতা করেছিলেন। সেই ঘাঁটিগুলো পরে র‌্যাব চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। এর বিনিময়ে শারক্বীয়া নাথান বমকে বিপুল পরিমাণের অর্থ সরবরাহ করে। এই অর্থ দিয়ে নাথান বম বিভিন্ন ট্রেনিং পরিচালনা এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে। নাথান বমকে ঢাকার বাসাবোতে একটি বাসা ভাড়া করে দেয় শামীম মাহফুজ। পরে সেই বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, নাথান বমের সঙ্গে শারক্বীয়ার শুরু থেকে একটি যোগসূত্র আছে। বান্দরবানের ঘটনার পর যাতে শারক্বীয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই দিকেও নজর রেখেছে তারা। পাশাপাশি শারক্বীয়ার যে ৬ জন জঙ্গি দেশে নাকি দেশের বাইরে অবস্থান করছে তা তারা অনুসন্ধান করছেন। খুঁজে পেলে দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সোমবার (৮ এপ্রিল) খবরের কাগজকে জানান, ‘কেএনএফের সঙ্গে শারক্বীয়ার শুরু থেকেই একটি যোগসূত্র ছিল। শারক্বীয়ার ৬ জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিসিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি গতকাল বিকেলে জানান, এই সংগঠনের আর অস্তিত্ব নেই। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

রহস্যময় তরুণী শিলাস্তি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:১০ এএম
রহস্যময় তরুণী শিলাস্তি
শিলাস্তি রহমান

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহিনের বান্ধবী গ্রেপ্তার শিলাস্তি রহমান (২২) এলাকাবাসীর কাছে রহস্যময় তরুণী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তার শিলাস্তি রাজধানীর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের নানা তথ্য মিলেছে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। আয়েশি জীবনে অভ্যস্ত শিলাস্তির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল উচ্চবিত্ত শ্রেণির অনেকের।

স্থানীয় বাসিন্দারা শিলাস্তির বাসায় অনেক স্বর্ণ চোরাচালানির অবাধ যাতায়াতের কথা জানিয়েছেন। তবে সেই ব্যবসায়ীদের নাম তারা জানেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধনীর দুলালরা তার বাসায় যাওয়া আসা করত। তবে ওই বাসায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় কোনো ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে উত্তরার পশ্চিম থানাধীন ওই বাড়িতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। 

শিলাস্তি তার ফুফু হোসনে আরা বেগম ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার মালিক। তিনি একজন বিমানবালা। ডিভোর্স হওয়ার সুবাধে তার ভাই জাকির, জাহিদ ও রনি একই ফ্ল্যাটে থাকেন। সেই ফ্ল্যাটেই বড় ভাইয়ের মেয়ে শিলাস্তিও থাকতেন। শিলাস্তির চাচা জাকির, জাহিদ ও রনির বিরুদ্ধে মাদক, হুন্ডিসহ চোরাকারবারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে তারা দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল না দিয়ে সরাসরি মেইন লাইন থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ভিআইপিদের গাড়ি বা মোটরসাইকেল এলে অন্য ফ্ল্যাট মালিকদের গাড়ি সরিয়ে নিতে বলতেন। যদি কেউ তাদের কথা না শুনত, তাহলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হতো। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা। 

এলাকার মানুষের কাছে ওই তরুণী বিভিন্ন নামে পরিচিত। শিলাস্তি স্থানীয় যুবক রেদওয়ানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তার বন্ধু রাতুলের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান। রাতুল ও রেদওয়ান দুজনেই ধনী পরিবারের সন্তান। 

রাতুলের বন্ধু মারুফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে শিলাস্তি। সে‌ নিয়মিত মাদক সেবন করত। তার পাল্লায় পড়ে আমার বন্ধুরাও মাদক সেবন করে। তাকে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি বাসার সামনে এসে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যেত।’ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নানা দেশে ঘুরে বেড়াত। এই বিষয়টি তার পরিবারের সবাই জানে।

ষষ্ঠ তলার ওই ভবনে রয়েছে ৯টি ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাট মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিওন বলেন, ‘তারা বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত। খুবই উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। এই মেয়েটি যে এমপি হত্যার সঙ্গে জড়িত, তা আমরা আজ জানতে পেরেছি। কারণ ডিবি পুলিশ এসেছিল।’

আরেক ফ্ল্যাটের মালিক আজাদ রহমান বলেন, ‘আজ শুনলাম ডিবি পুলিশের উত্তরা এবং ওয়ারী বিভাগের একটি টিম এসে তদন্ত করে গেছে। পরে আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করলে বিষয়টি জানতে পারি যে ওই তরুণী কতটা ভয়াবহ। আগে থেকেও কিছু আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু ভয়ে কথা বলিনি। ওই তরুণীর চাচা জাকির, জাহিদ ও রনির অত্যাচারে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে বসবাসরতরা অনেকেই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করেছেন। প্রায় ফ্ল্যাট মালিকদের সবাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো অভিযোগ করেন।

একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক ও আশপাশের মানুষ জানান, ওই তরুণীর কাছে বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন আসত। তাদের সে আত্মীয়স্বজন পরিচয় দিত। 

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শিলাস্তিকে এলাকার সবাই মডেল হিসেবে চিনতেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় থাকেন। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, এই তরুণী বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল, এমন অভিযোগ ও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শিলাস্তির টার্গেট ছিল বড় বড় ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন তিনি। 

স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম বলেন, এখানে তার অনেক বন্ধুবান্ধব আসত। মাঝেমধ্যে গান ও সাউন্ড হতো। তারা আনন্দ-ফূর্তি করতেন। 

তিনি বলেন, একাধিকবার দেখা গেছে গাড়ি নিয়ে শিল্পপতিরা বাসার নিচে আসতেন। এ বিষয়টি অনেকের চোখে পড়ে। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি আজীম হত্যা মামলার আসামি শিলাস্তি রহমানের ফুফু হোসনে আরা বেগমের বাসায় ডিবি পুলিশ গিয়েছি বলে শুনলাম। তবে তারা আমাদের ইনফর্ম করেননি। এসব বিষয়ে থানা পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’

সেই মমতাজ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৩:২০ পিএম
সেই মমতাজ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার
মমতাজ বেগম ওয়ারিশিকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মমতাজ বেগম ওয়ারিশিকা (৩৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। 

গত বুধবার বিকালে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুলাইমান। তিনি বলেন, মমতাজকে র্যাব-৭-এর একটি টিম গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় সোপর্দ করেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে র্যাবের একজন ডিএডি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। 

গ্রেপ্তার মমতাজ বেগম সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট এলাকার হাঁচুপাড়ার এমদাদ হোসেন প্রকাশ মনি টেইলার্সের মেয়ে। তার স্বামী মুজিবুর রহমান পেশায় একজন হাইস্কুল শিক্ষক। তার বাড়ি বাড়বকুণ্ডের মধ্যম মাহমুদাবাদ গ্রামে। মমতাজ বেগম সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রেমতলা এলাকার বাড়িতে বসবাস করতেন।  

র্যার অভিযান কালে মমতাজ থেকে ১৭৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল, একটি ট্যাব ও ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে। 

র্যাবের মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালে সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরার মঞ্জুর হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তিনিসহ তার পরিচিত ৬ জনকে এনএসআইয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোট ৫৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা নেন। পরে তারা ঢাকায় পরীক্ষা দেওয়ার পরও চাকরি হয়নি। সে সময় আনোয়ার শাহাদাত নামে এক লোক এসে তাদের এনএসআই-এর এডি হিসেবে পরিচয় দেন। মমতাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায় র্যাব। 

মমতাজের প্রতারণায় নিঃস্ব বহু মানুষ, কোটি টাকা লোপাট

মমতাজ বেগম ওয়ারিশিকা ছিলেন একজন এনজিও কর্মী। চাকরি ছেড়ে দিয়ে হঠাৎই বনে গেলেন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার পরিচয় দিয়ে ছাপিয়েছিলেন ভিজিটিং কার্ডও। কখনো এনএসআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (এডি), এনএসআই নিয়োগ বোর্ডের সদস্যসচিব ও ক্রাইম ইনভেস্টিগেট উপপরিচালক হিসেবেও পরিচয় দেন। সবটাই ছিল তার প্রতারণা। 

একজন সাধারণ নারী হয়েও গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়ে অন্তত ৩০ জন বেকারকে চাকরি দেওয়ার নামে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। ছাড়েননি আত্মীয়স্বজনকেও। কেউ কেউ বলছেন, প্রতারণার শিকারের সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে। খবরের কাগজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে এনএসআইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। মমতাজ বেগমের সঙ্গে এনএসআইয়ের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।

ভুক্তভোগীরা চাকরি অথবা টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় এতদিন চুপ থাকলেও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন মমতাজ। বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তার মোবাইল ফোন। 

মমতাজের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও সোর্স মীর হোসেন জমিজমাসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ বানিয়ে সৌদি আরবে পালিয়েছেন। জামাল নামের একজন সীতাকুণ্ড পৌর সদরে ফলের ব্যবসা করেন। এই দুজনই মানুষকে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মমতাজের কাছে নিয়ে যেতেন। এনএসআইয়ের সোর্স, ওয়াচার, কনস্টেবল, ফিল্ড অফিসার ছাড়াও পুলিশ, রেলওয়ে, এলজিইডিসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়া হতো। টাকা নেওয়ার পর বছরের পর বছর ঘোরাতেন মমতাজ। কেউ বেশি বিরক্ত করলে চাকরি হয়েছে বোঝাতে বেতন নেওয়ার জন্য ব্যাংক হিসাব খোলাতেন। কথায় কথায় নিজের পদবি উল্লেখ করে দিতেন হুমকি। নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবাইকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খোলেন একপর্যায়ে। সেই গ্রুপে এনএসআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হতো।

ভুক্তভোগীদের একজন মো. জাফর। সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ (অনন্তপুর) এলাকার একজন চা-দোকানি। ২০২২ সালে জামালের মাধ্যমে মমতাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মমতাজের শ্বশুরবাড়িও জাফরের এলাকায়। তাই তাকে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন। তার এইচএসসি পাস ছেলেকে এনএসআইয়ের ওয়াচার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা নেন। বিশ্বাসযোগ্য করতে মমতাজ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হাওলাতনামা সই করেন। তার দেওয়া এনএসআইয়ের লোগোসংবলিত ভিজিটিং কার্ডে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে মমতাজ বেগম ওয়ারিশিকা, প্রাইম মিনিস্টারস অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার। মোবাইল নাম্বারের নিচে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে প্রাইম মিনিস্টার কার্যালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা। 

জাফর বলেন, এক মাসের মধ্যে তার ছেলের চাকরি হবে- এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি এনজিও থেকে ঋণ ও দোকান বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে তাকে দেন। চাকরি তো হয়ইনি, বরং ছেলের সনদ হারিয়ে ফেলেছেন মমতাজ। টাকা ফেরত চাইলে ধমকান। জামাল ফল ব্যবসার আড়ালে মমতাজের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। জামালই সবাইকে উৎসাহ দিয়ে মমতাজের কাছে এনেছেন। তার পেছনে আছেন গাড়িচালক মীর হোসেন। এই দুজন প্রত্যেকের টাকা থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন খেয়েছেন। 

খবরের কাগজ অন্তত ৩০ জনের সন্ধান পেয়েছে এবং ২০ জনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছে। যাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে মমতাজের ভয়ংকর প্রতারণার সব কাহিনি। এক হিসাবে দেখা গেছে, মমতাজ চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার নানা চাপে পড়ে কারও কারও টাকা ফেরতও দিয়েছেন। 

মমতাজের গাড়িচালক মীর হোসেন খবরের কাগজকে জানান, তিনি প্রায়ই নোয়াখালীর চৌমুহনী বাজারে যেতেন তাকে নিয়ে। সেখানে শাহাদাত আনোয়ার নামে একজনের সঙ্গে দেখা করতেন। তাকে নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি, পিলখানা, কক্সবাজার, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রামের লালখান বাজারেও আসা-যাওয়া করতেন। একসময় চাকরি সরকারীকরণের কথা বলে মীর হোসেনের কাছ থেকেও টাকা নেন মমতাজ। পরে মীর হয়ে ওঠেন সোর্স। ধীরে ধীরে বেকার লোকজন ভজিয়ে আনতে থাকেন। নিজ ভাতিজা নুর হাদিস, প্রতিবেশী মঞ্জু, মোয়াজ্জিন মামুনসহ অনেককেই তিনি লেনদেন করিয়ে দেন সোর্স পদে চাকরির জন্য। এসব বিষয় স্বীকার করলেও বাড়ি, জমি কেনার কথা অস্বীকার করেছেন মীর হোসেন। 

তবে মীর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি চালক হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা এবং সোর্স হিসেবে ১৪ হাজার টাকা- মাসে ৩৪ হাজার টাকা পেতেন। একাধিক ভিডিওতে মীর হোসেনের টাকা লেনদেন করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, মমতাজ ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি প্রিমিও প্রাইভেট কার কিনেছিলেন। 

মো. নুরুজ্জামান খোকন নামে আরেকজন বেকার ভুক্তভোগী। এনএসআইয়ে ফিল্ড অফিসার পদে চাকরির জন্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দেন মমতাজকে। খোকন জানান, তার জানামতে এই পদের জন্য সাতজন টাকা দিয়েছেন। তারা সবাই ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় গিয়ে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার আগে তাদের বলা হয় যা পারা যায় তা লিখতে, বাকিটুকু তিনি দেখবেন। হল ছাড়ার আগে খাতার এক কোণে ৬৬৬১ কোড নম্বর লিখে আসতে বলা হয়। খোকন জানান, এটিই তার ব্যক্তিগত কোড নম্বর। এই নম্বর দিয়েই নাকি তাদের কন্ট্রাক্ট চিহ্নিত করা হবে। চাকরিও হয়নি, টাকাও ফেরত পাওয়া যায়নি। দুই মাস ধরে মমতাজের সব কটি ফোন বন্ধ। 

মমতাজের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন আরও অনেকে। এদের মধ্যে আছেন ব্যবসায়ী, সিএনজিচালিত অটোচালক, রাজনৈতিক দলের কর্মী, সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মমতাজ যাদের এনএসআইয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছেন, তাদের বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। তারা জানান, উচ্চতায় প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, শারীরিক গড়ন হালকা পাতলা, গায়ের রং শ্যামলা। বয়স ৩৬ ছুঁইছুঁই। দুই সন্তানের জননী, চলতেন প্রাইভেট কারে। এসব দেখে মানুষ তাকে বিশ্বাস করত।
 
প্রাণিসম্পদ ওষুধের ব্যবসায়ী রায়হান উদ্দিন সোর্স হওয়ার জন্য জামালের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দেন। বাড়বকুণ্ডের নাজিম, তারেক, মিরসরাইয়ের আবু তোরাবের মুন্না, সৈয়দপুর ইউনিয়নের শামছুল হক (অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য) ও তার ছেলে মো. শামীম নূর রহমান, একই ইউনিয়নের জেবল হোসেন (অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য) সীতাকুণ্ড বাজারের ফল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন টিটু ও কামরুল, বাড়বকুণ্ডের খোরশেদ আলমসহ আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে মমতাজ নিয়েছেন অর্ধকোটি টাকা। 

বাড়বকুণ্ডের আনোয়ার হোসেন দেন ছয়জনের জন্য মোট ৩৫ লাখ টাকা। মমতাজের স্বামীর সহকর্মী স্কুলশিক্ষক সাইদুল ইসলাম সোহেলের দুই আত্মীয়ের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা। তার আরেক পরিচিতজন বেলালের কাছ থেকে নিয়েছেন ছয়জনের জন্য ১৩ লাখ টাকা। বাড়ির পাশের এক নারীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা, বোনজামাই নাহিদের কাছ থেকেও নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। 

ভুক্তভোগীদের একজন সাবেক সেনাসদস্য শামছুল হক বলেন, তিনি এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও একদিন এনএসআইপ্রধানের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতে পারেননি। 

তিন মাস ধরে এক ডজন যুবকের ভুয়া চাকরি, খোলা হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 

২০২১ সাল থেকে চাকরির জন্য টাকা নিতে থাকেন মমতাজ। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়েও চাকরি না হলে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে নতুন ফন্দি আঁটেন মমতাজ। এনএসআইয়ের লোগো দিয়ে খোলেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। এরপর সেখানে সবাইকে যুক্ত করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে থাকেন। তার আগে সবাইকে দিয়ে উত্তরা ব্যাংকে হিসাব খোলানো হয়। সর্বপ্রথম সীতাকুণ্ড বাজারে ইসলামী ব্যাংকের শাখা থেকে তার টাকার ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে বলে সবাইকে বাজারে রাউন্ড ডিউটি করতে বলা হয়। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজন যে কাউকে নজরে রেখে প্রয়োজনে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। ওই সময়ের এক অডিওতে মমতাজকে বলতে শোনা গেছে, চুরি-ছিনতাই বেড়েছে, তোমরা রাউন্ডে থাকো। এরপর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিব চতুর্দশী মেলা এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাদের দিয়ে ডিউটি করানো হয়।

রায়হান উদ্দিন, নাজিম, তারেক, জামাল ও মমতাজের বোনজামাই নাহিদ চৌধুরী বলেন, তারা কয়েক মাসের বেতন ব্যাংকে পেয়েছেন, আর কয়েক মাসের পেয়েছেন হাতে হাতে। 

পুলিশকেও পরিচয় দিতেন অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে 

গত ঈদের পর একজন পাওনাদার মমতাজের বাড়িতে টাকার জন্য চাপ দিলে তিনি নিজেই পুলিশে কল করেন। এরপর সীতাকুণ্ড থানা থেকে একজন এএসআই সেখানে গেলে মমতাজ নিজেকে প্রাইম মিনিস্টারের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি তার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সেবার মমতাজ ওসির পায়ে ধরে ক্ষমা চান। পুলিশের মধ্যস্থতায় সেখানেই মীমাংসা হয় বিষয়টি। এ বিষয়ে ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পরে জানতে পারি তিনি প্রতারক। তখন তিনি চলে গেছেন। যখন থানায় এসেছিলেন, তখন কেউ অভিযোগ বা মামলা করেননি।’ প্রতারক মমতাজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

কে এই মমতাজ? 

সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের শেখেরহাটের হাঁচুপাড়ার এমদাদ হোসেনের মেয়ে মমতাজ। তার বাবাকে সবাই মনি টেইলার্স নামে চেনেন। জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আশায়। কয়েক বছর পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০২১ সালে তিনি পরিবারকে জানান, এনএসআইয়ে তার চাকরি হয়েছে। 

তার বোন জান্নাতের স্বামী নাহিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমিও ভুক্তভোগী। সে যে ভুয়া, সেটা কখনো বুঝিনি। ভেবেছি পড়াশোনা করেছে, মাস্টার্স পাস, চাকরি পেলেও পেতে পারে। আমার নিজেরও এখন ১২ লাখ টাকার দেনা আছে। ঋণ নিয়ে তাকে দিয়েছিলাম। এ ছাড়া ২১ লাখ টাকার জিম্মি করা হয়েছে আমাকে। আমার একটা দোকান ছিল, এসব কারণে সেটাও বন্ধ করে দিয়েছি। তার কর্মকাণ্ডে জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও টিকতে পারছি না। সারাক্ষণ মানুষ আমাকে ধরছে। কারণ সবাই আমাকে চেনে। অথচ আমি কাউকে আসতে বলিনি তার কাছে।’ 

একই ধরনের কথা বললেন জান্নাতও। মমতাজের একটি নম্বরে কল দিলে তার ছেলে রিসিভ করে। মায়ের সঙ্গে কথা হয় জানালেও নম্বর দিতে রাজি হয়নি ছেলে। 

স্বামী স্কুলশিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘অর্থাভাবে তাকে আমি তালাকও দিতে পারছি না। আমার সামাজিক, ব্যক্তিগত সব মানসম্মান সে শেষ করে দিয়েছে। তার অপকর্মে বাধা দেওয়ার কারণে এক বছর ধরে আমার সঙ্গে বসবাস করে না। এখন ছেলে আমার কাছে এবং মেয়ে তার মায়ের কাছে থাকে।’

৪০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ফাঁকি, পাওনা ১৪০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
৪০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ফাঁকি, পাওনা ১৪০ কোটি টাকা

দেশের প্রথম সারির ৪০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ভ্যাটের পরিমাণ ১৩৯ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ভ্যাট পরিশোধ করেনি, ‘দিচ্ছি আর দেব’তেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত মার্চে বকেয়া আদায়ে এনবিআর এই ৪০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব জব্দ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরও আদায় হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এনবিআর ১০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব খুলে দিলেও বাকিদের হিসাব জব্দই রেখেছে। এনবিআরের প্রতিবেদন থেকে এসব জানা যায়। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৪ টাকার একটি টাকাও পরিশোধ করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব এখনো জব্দ আছে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে পাওনা রাজস্ব ৮০ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৩৮০ টাকার একটি টাকাও পরিশোধ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব জব্দ আছে। ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা ৩০ কোটি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৩ টাকার ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করায় হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা ২৩ কোটি ৮০ লাখ ২ হাজার ৪৮৫ টাকার ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করায় ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে পাওনা ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৮ টাকার কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। ব্যাংক হিসাব জব্দ আছে। অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কাছে পাওনা ৫৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩৫ টাকার ১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব জব্দ আছে। সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা ৪৫ কোটি ৫ লাখ ৪ হাজার ৮৪৩ টাকার কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এভাবে প্রথম সারির ৪০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আদায় হয়েছে মোট পাওনার ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রাজস্ব পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখতে ১৪ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ টাস্কফোর্সে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক শাখা, ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) কর্মকর্তারা আছেন। 

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়, ব্যয়, কর-শুল্ক-ভ্যাট পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখেন। বিশেষভাবে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, শিক্ষার্থী ভর্তির পরিমাণ এবং এ খাতে আদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপকরণ ক্রয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের আয়-ব্যয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। সব তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাই করে এই ৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রাজস্ব পরিশোধের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআরের কাছে দাখিল করা তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্যে মিথ্যা হিসাব দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রারে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ও ভর্তি ফির ক্ষেত্রে যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, ব্যাংক লেনদেনে তার থেকে বেশি। আবার বিভিন্ন উপকরণ কেনা, সেমিনার, শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজন, প্রশিক্ষণ, বেতন-ভাতাসহ সব ক্ষেত্রেই হিসাবের রেজিস্টারের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের কোনো মিল নেই। বিনা বেতনে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছে এমন তথ্য দেওয়া হলেও তা সঠিক না। স্কলারশিপের তথ্যেও রয়েছে গরমিল। শুধু তাই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ব্যয়েও মিথ্যা হিসাব দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আয়কর আইন ২০২৩-এর ২১৪ ধারা অনুসারে গত ৪ মার্চ কর অঞ্চল-১১ থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি পাঠিয়ে ২০০২-০৩ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১৬ অর্থবছরে ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৪ টাকা রাজস্ব পাওনা দাবি করা হয়। চিঠিতে এ অর্থ ২৫ মার্চের মধ্যে পরিশোধের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় এবং সময়মতো রাজস্ব পরিশোধ না করলে ২০২৩-এর ২৭৫ ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপসহ অন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, এনবিআর থেকে চিঠি পাঠিয়ে রাজস্ব পাওনার কথা বলা হয়েছে। আমরা আইনজীবীকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফকরুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রাজস্ব আদায়ে এনবিআর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বকেয়া পরিশোধ করলে জব্দ হিসাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।’

ধুঁকছে ইজারা দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০২:৩৭ পিএম
ধুঁকছে ইজারা দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল
বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুট মিল। ছবি : খবরের কাগজ

চারপাশে সুনসান নীরবতা। শ্রমিকের কোলাহল নেই। কাজের পালাবদলে মিলের ভেপু আর বাজে না। তাঁতসহ যন্ত্রপাতি, লোহালক্কড় অযত্নে পড়ে আছে। জং ধরা ভাঙা মেশিন, এটা-সেটা খুলে পড়েছে যেখানে সেখানে। ২০২০ সালের ২ জুলাই লোকসানের কারণ দেখিয়ে বন্ধের পর চার বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল খুলনার ‘ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেড’ এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। 

এই মিলটিতে ১ হাজার ১০০টি তাঁত মেশিনে মাসিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৭৬৬ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন হেসিয়ান, ১ হাজার ২১০ দশমিক ৫০ টন সেকিং ও ২৪৪ দশমিক ৭৫ টন সিবিসি লুম। এখানে প্রিমিয়ার লেমিনেশন প্ল্যান্ট ইউনিটে প্রতিদিন ১০ হাজার পিস লেমিনেটেড ব্যাগ তৈরি করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) মিলটি বন্ধের তিন মাসের মধ্যে আধুনিকায়ন করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দিয়ে চালুর কথা বললেও চার বছরেও তা সম্ভব হয়নি। 

একইভাবে বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত দৌলতপুর জুট মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়া হয়েছে ফরচুন গ্রুপকে। দীর্ঘদিনেও তারা মিলের ২৫০টি তাঁত মেশিনের সব কয়টি চালু করতে পারেনি। স্বল্প পরিসরে উৎপাদনে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫০-২০০ জনের। পাটকলের একাংশে বসানো হয়েছে জুতা তৈরির কারখানা। 

জানা যায়, বন্ধ হওয়া খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত চারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে দৌলতপুর ও জেজেআই পাটকল। বাকি পাটকলগুলো কবে চালু হবে, তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ফলে দীর্ঘদিনেও সেখানে প্রত্যাশা অনুযায়ী মিলগুলোতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি।

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘শ্রমিকের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে লোকসান হয়নি। পাটকল বন্ধের পরও প্রতিবছর বিজেএমসি কর্মকর্তাদের পেছনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। মূলত পাটকলের সম্পদের প্রতি পুঁজিপতিদের নজর পড়েছে। এগুলো ইজারা নিয়ে লুটপাট চালানো হবে।’ 

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ্জামান বলেন, ‘দৌলতপুর ও জেজেআই পাটকল ইজারা প্রদানের পর স্বল্প পরিসরে চালু হলেও প্রত্যাশিত উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। এর আগে ইজারা দেওয়া খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যাজাক্স ও সোনালী জুট মিল লুটপাটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। পাটকল মালিকরা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছেন।’ 

মিলে কর্মসংস্থানের হার ২ শতাংশের কম
২০২০ সালে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল বন্ধ হলে চাকরি হারান প্রায় ৩৩ হাজার ৩০৬ জন স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক। গত চার বছরে চারটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে দৌলতপুর ও জেজেআই জুট মিল। দৌলতপুর জুট মিলে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে ১৫০-২০০ জন। জেজেআই জুট মিলে কাজ করছেন ২৮০-৩০০ জন শ্রমিক। ৯টি পাটকলের বিপরীতে চার বছরে কর্মসংস্থানের হার মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক সিবিএ সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি, মিল আধুনিকায়ন করে আবার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু করা হোক। কিন্তু বিজেএমসি তা করেনি। তারা মিল ইজারা দিয়ে চালুর যে চেষ্টা করছে, তা শ্রমিকদের জন্য খুব একটা কাজে আসবে না।’

শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত মিলে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিয়ে বিদায় করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আবারও মিলগুলো গড়ে তুলবেন। যাতে এ এলাকার দক্ষ শ্রমিকরা চাকরিতে পুনর্বহাল হতে পারেন। কিন্তু যারা লিজ নিয়েছে তাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই।’

তবে বিজেএমসি খুলনা কার্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী জানান, কিছুদিন পর পাটকল পুরোদমে চালু হবে। তখন এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বাড়বে ও প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মিলের জমিতে অর্থনৈতিক জোন করার দাবি
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অতীত ইতিহাস সুখকর নয় জানিয়ে নাগরিক নেতারা বলছেন, বিগত দিনে ইজারা দেওয়া সব কটি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পাটকলের সম্পদ মর্টগেজ দিয়ে ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। মিলের দামি যন্ত্রাংশও গোপনে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এদিকে বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের জমিতে অর্থনৈতিক জোন করার দাবি উঠেছে। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুলনায় দুটি অর্থনৈতিক জোন করার ঘোষণা দিলেও জমি পাওয়া যায়নি। মিলের জমিতে অর্থনৈতিক জোন করে সেখানে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শিল্পনগরী খুলনা হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের অর্থনীতিও বদলে যাবে।’ 

এর মধ্যে গত ১৮ মে ইজারা দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। মন্ত্রী বলেন, ‘লিজ দেওয়া মিলগুলো দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছি! শিল্প-কলকারখানা করার কথা বলে মিল বরাদ্দ নিয়েছে, কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফলাফল দিতে পারেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। মিলগুলোর সম্ভাবনাময় অবস্থানগত কারণে এগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।’

থাইরয়েড রোগী প্রায় ৫ কোটি, চিকিৎসক মাত্র ৩৫০

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৫১ এএম
থাইরয়েড রোগী প্রায় ৫ কোটি, চিকিৎসক মাত্র ৩৫০
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি। তবে থাইরয়েডে আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি জানে না যে তারা এ সমস্যায় ভুগছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড্রোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসিইডিবি) সূত্র এ তথ্য তুলে ধরেছে। এ ছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীরা চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছেন থাইরয়েড বিশেষজ্ঞরা। 

কিন্তু বিশাল সংখ্যার এই থাইরয়েড রোগীদের জন্য বর্তমানে দেশে নেই রোগ নির্ণয়ের সুবিধা। চিকিৎসা খরচও বেশি এবং পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অথচ থাইরয়েড রোগের কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগণ্ড এবং আয়োডিনের অভাবজনিত ব্যাধিসহ হতে পারে থাইরয়েড ক্যানসারও। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিশ্বব্যাপী থাইরয়েড ব্যাধি হলো সবচেয়ে সাধারণ অন্তঃস্রাবী ব্যাধি, যেটি হলে দেখা দেয় বিভ্রান্তি বা চেতনা হারানো, নিম্ন রক্তচাপ বা হৃৎস্পন্দন, বিষণ্নতা বা উদ্বেগ, মারাত্মক বমি এবং ডায়রিয়া, তীব্র ক্লান্তি বা দুর্বলতা, চোখের শুষ্কতা, জ্বালা, চাপ বা ব্যথা এবং ঘুমের ঝামেলাসহ নানান সমস্যা। বর্তমানে বাংলাদেশও এমন একটি দেশ, যেখানে থাইরয়েড রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় ‘থাইরয়েড রোগ, অসংক্রামক রোগ’ স্লোগান নিয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩১ মে থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ পালনে থাকছে নানা আয়োজন।

বাংলাদেশ থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম খবরের কাগজকে বলেন, ধারণা অনুযায়ী দেশে জনসংখ্যার ২০ শতাংশ থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাদের চারভাগের তিন ভাগই কোনো ধরনের চিকিৎসা নিচ্ছেন না। অর্থাৎ প্রায় তিন কোটিই রয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসার বাইরে। যার ফলে তারা পরে ভুগছেন থাইরয়েডজনিত হাইপোথাইরয়েডিজম, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগণ্ড এবং আয়োডিনের অভাবজনিত ব্যাধি এবং থাইরয়েড ক্যানসারের মতো অসুখে।  

ডা. শাহজাদা সেলিম জানান, থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যজনিত সমস্যা দুই রকম হতে পারে। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে গেলে তাকে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম ও বেড়ে গেলে হাইপারথাইরয়েডিজম। এ দুইয়ের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা অনেক বেশি। আমাদের দেশে এটি আরও প্রকট। কম আইকিউসম্পন্ন মানুষ, বন্ধ্যত্ব ও স্থূলদেহি হওয়ার পেছনে হাইপোথাইরয়েডিজম অন্যতম কারণ। আবার হাইপোথাইরয়েড হলে অল্প খাবার খেয়েও মানুষের ওজন বেড়ে যাবে, শরীর দুর্বল লাগবে। এসব রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত মাসিকের সমস্যা হয়। অপরদিকে হাইপার থাইরয়েডের ক্ষেত্রে তার বিপরীত লক্ষণ দেখা যায়। ফলে এর চিকিৎসাও ভিন্ন হয়।