বাংলাদেশ নারী দলের হকি খেলোয়াড় নাদিরা তালুকদার ইমা। সুনামগঞ্জের হাওরের গ্রাম থেকে উঠে আসা এই মেয়ে একের পর এক অংশ নিচ্ছে হকির আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে।
সোমবার (৩০ জুন) চীনে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে অংশ নিতে বাংলাদেশ নারী হকি দলের সঙ্গে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে সে।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নে হাওরপারের গ্রাম ঢালাগাঁওয়ের সন্তান ইমা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অভিষেক হওয়ায় ইমা ‘হাওরকন্যা’ হিসেবে অভিহিত হচ্ছে।
জাতীয় ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইমা নিজেকে হকি খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে। এ বছর সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার জার্সি নম্বর ১৬। চীনে
অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল ৪ জুলাই জাপান, ৫ জুলাই উজবেকিস্তান ও ৭ জুলাই হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। গ্রুপ পর্বের বাধা পার হলে ৯ জুলাই সেমিফাইনাল ও ১৩ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে দলের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুসলিম তালুকদার ও মাজেদা তালুকদারের ৯ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ইমা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তার। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলায় যে এমন পারদর্শিতা দেখাতে পারে, তা প্রথম থেকেই ধারণা ছিল পরিবারের। ইমার আগ্রহে ভর্তি করানো হয় বিকেএসপিতে। সেখান থেকেই শুরু তার ক্রীড়া জীবনের মূল যাত্রা।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইমা। ওই বছর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এএইচএফ কাপ হকিতে বাংলাদেশ দল রানার্সআপ হয়, যেখানে ইমা দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এর পর একই বছর ডিসেম্বরে ওমানে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নেয়, যেখানে বাংলাদেশ ১০টি দলের মধ্যে নবম স্থান অর্জন করে।
চীনযাত্রার আগে নাদিরা তালুকদার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশায় রেখে খবরের কাগজকে বলে, ‘আমি এখনও অনেক কিছু শিখছি। প্রতিদিন নতুন কিছু জানতে, বুঝতে চেষ্টা করছি। বিকেএসপির সহায়তায় আমার খেলার জীবন এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের হয়ে চীনে খেলতে যাচ্ছি- এটা আমার জীবনের অনেক বড় অর্জন। আমি চাই, দেশের জন্য যেন সম্মান বয়ে আনতে পারি। সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।’
ইমার বড় ভাই হোসাইন আহমদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ইমা খেলাধুলা পছন্দ করত। আমরা কখনো তার পছন্দকে দমন করিনি বরং উৎসাহ দিয়েছি। সে এখন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো সুনামগঞ্জ জেলার গর্ব।’
সুনামগঞ্জের ব্রান্ডিং নেম ‘হাওরকন্যা’ খ্যাত ইমাকে নিয়ে এলাকাবাসী বলেন, ‘ইমার এই অগ্রযাত্রা কেবল তার একার নয়, এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরবেষ্টিত জনপদের গর্ব এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক উজ্জ্বল বার্তা। সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যে ভূমিকা রাখা যায়, ইমা তার প্রমাণ।’
পপি/