দশ বছরে ২০টি ট্রফি। এর মধ্যে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। সংখ্যাগুলোই বলে দেয় পেপ গার্দিওলা কতটা সফল ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে। কিন্তু বিদায়ের মুহূর্তে এসে গার্দিওলা জানালেন, তার কাছে ট্রফির চেয়েও মূল্যবান ছিল স্মৃতি, সম্পর্ক আর মানুষের ভালোবাসা।
গতকাল (২৪ মে) রাতে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে শেষ হয় তার ম্যানসিটি অধ্যায়। ম্যাচটির ফলাফল দুই দলের জন্যই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, কিন্তু আবেগের দিক থেকে এটি ছিল বিশেষ এক দিন। ম্যাচ শেষে শেষবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এসে গার্দিওলা আবেগঘন কণ্ঠে কথা বলেন খেলোয়াড়, স্টাফ, সমর্থক এবং পুরো ম্যানচেস্টার শহরের সঙ্গে গড়ে ওঠা তার সম্পর্ক নিয়ে।
‘আমার স্মৃতির ঝুলিতে যা জমা হয়েছে, তা আগের যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। ২০টি ট্রফি না জিতলে হয়তো আমাকে আগেই বরখাস্ত করা হতো। কিন্তু ঘরে বসে ট্রফিগুলোর দিকে তাকিয়ে আপনি বলি- আমি কত সুখী! প্রথম দিন থেকেই এই শহরের সঙ্গে, বিশেষ করে ব্যাকরুম স্টাফ আর খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সত্যিই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলাম।’
বিদায়ী আবেগে বিশেষভাবে উঠে আসে অধিনায়ক বের্নার্দো সিলভা এবং ডিফেন্ডার জন স্টোনসের নাম। গার্দিওলা বলেন, “আমি সাধারণত কাঁদি না। কিন্তু যখন বের্নার্দোকে কাঁদতে দেখি, তখন আমারও কান্না আসে। সে আমাকে বলেছিল, ‘আমি খুব ক্লান্ত, আমি আর দৌড়াতে পারছি না।’ জনের আবেগও আজ (গতকাল) খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
শুধু বর্তমান খেলোয়াড়রাই নন, বিদায়ী দিনে গার্দিওলা স্মরণ করেন সাবেকদেরও। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ব্রাজিল থেকে শুধুমাত্র তার বিদায় উপলক্ষে আসা সাবেক মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনহোকে, ‘ফার্নান্দিনহো আজ শুধু আমার জন্য ব্রাজিল থেকে এসেছে, এটা আমি কখনও ভুলব না।’
এছাড়া তিনি প্রশংসা করেন এদেরসন ও ইকাই গুন্ডোগানের সহ পুরো দলের, ‘তারা শুধু দুর্দান্ত খেলোয়াড়ই নয়, অসাধারণ মানুষও। প্রতিদিন শুধু জয়ের জন্য লড়েছে।’
ম্যানচেস্টারের সঙ্গে একাত্মতা
৫৫ বছর বয়সি স্প্যানিশ কোচ জানান, তিনি সবসময় যে শহরে কাজ করেছেন, সেই শহরকে বুঝতে চেয়েছেন। ম্যানচেস্টারও তার ব্যতিক্রম নয়। তার কথায়, ‘আমরা সবসময় শহরের প্রাণকেন্দ্রে থেকেছি। কোথাও গেলে আমি সেই জায়গাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। হাঁটতে হয়, মানুষকে অনুভব করতে হয়।’
পরিবারের কথাও উল্লেখ করেন গার্দিওলা, ‘এখানে এসে আপনি ব্রিটিশ সংস্কৃতি বদলাতে পারবেন না। আপনি শুধু দেখবেন, শিখবেন। কখনও ভালো লাগবে, কখনও নাও লাগতে পারে। ভাষা শেখা, মানুষকে জানা, শেষ পর্যন্ত এগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন তিনি কথা বলেন তার ৯৫ বছর বয়সি বাবা ভ্যালেন্তিনকে নিয়ে। বিদায়ী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা। গার্দিওলা বলেন, ‘ভাবুন তো, ৯৫ বছর বয়সে একজন বাবা অনুভব করছেন মানুষ তার ছেলেকে কতটা ভালোবাসে। বাবাকে এই অনুভূতি দিতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।’
বিদায়ের সময় সমর্থকদের উদ্দেশে গার্দিওলার বার্তা ছিল সহজ- শুধু শিরোপার জন্য অপেক্ষা না করে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই পেশা খুব কঠিন। ইতিহাদে একটি ম্যাচ জিতলে উদযাপন করুন, ম্যানচেস্টারের পাবগুলোতে গিয়ে ভালো একটা বিয়ার পান করুন। তারপর আবার খেলোয়াড়দের কাছে আরও লড়াই দাবি করুন।’
শেষে তিনি যোগ করেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অপেক্ষায় সুখ খুঁজবেন না। পুরো যাত্রাটাই উপভোগ করুন। কারণ আমি জানি, এই খেলোয়াড়রা সেটাই করে যাবে।’
এদিকে গুঞ্জন উঠেছে, চেলসি হতে পারে গার্দিওলার নতুন ঠিকানা। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু বলেননি তিনি।
অনিক/