ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল
Nagad desktop

উহানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপটিক্যাল ফাইবার প্রিফর্ম উন্মোচন

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
উহানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপটিক্যাল ফাইবার প্রিফর্ম উন্মোচন
প্রিফর্মটি তৈরি করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফাইবারহোম ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজিস।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপটিক্যাল ফাইবার প্রিফর্ম উন্মোচন করা হয়েছে। এই কঠিন কাচের তৈরি ‘প্যারেন্ট রড’ থেকেই তৈরি হয় সূক্ষ্ম ফাইবার-অপটিক কেবল। নতুন এই প্রযুক্তি চীনের অপটিক্যাল ফাইবার উৎপাদনের দক্ষতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্যহীনতা কমাতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন প্রিফর্মটির ব্যাস ০.৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৩.৫ মিটার। একটি প্রিফর্ম থেকে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা সম্ভব, যা বর্তমানে বাজারে থাকা সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রিফর্মের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার বেশি।  

প্রিফর্মটি তৈরি করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফাইবারহোম ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এর মাধ্যমে বৃহৎ অপটিক্যাল ফাইবার প্রিফর্ম প্রযুক্তিতে চীনের স্বনির্ভর গবেষণা-উন্নয়ন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো।

অপটিক্যাল ফাইবার তৈরির প্রক্রিয়াটি অনেকটা চিনির সূক্ষ্ম সুতো তৈরির মতো। দশ মিটার উঁচু ড্রয়িং টাওয়ারের ওপর প্রিফর্মটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর নিচের অংশ প্রায় ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে গলিয়ে সূক্ষ্ম তন্তু বের করা হয়। এরপর ট্র্যাকশন চাকার সাহায্যে দ্রুত টেনে নামিয়ে মাত্র ১২৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়। পরে কোটিং ও কিউরিংসহ বিভিন্ন ধাপ শেষে তা পূর্ণাঙ্গ ফাইবারে রূপ নেয়।

 

সূত্র: সিএমজি

আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আসুসের নতুন ল্যাপটপ এক্সপার্টবুক
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রযুক্তি মেলায় বেশ কয়েকটি নতুন উইন্ডোজ ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে আসুস। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন একটি কনভার্টিবল মডেল, বিজনেস ল্যাপটপ এবং তিনটি ভিন্ন প্রসেসরের জেনবুক ১৪ মডেল। নতুন এই কম্পিউটারগুলো পেশাদার কাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে গ্রাহকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আসুস এক্সপার্টবুক বি৫ ফ্লিপ জি২’। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরানো যায় এমন এই ল্যাপটপটি ট্যাবলেট, টেন্ট এবং ডিসপ্লে মোডে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ওজন ২.৯ পাউন্ড। এতে দুটি ক্যামেরা এবং একটি এমপিপি ২.০ স্টাইলাস পেন রয়েছে, যা ল্যাপটপের ভেতরেই চার্জ করা যায়। মাত্র ১৫ সেকেন্ড চার্জে পেনটি ৬০ মিনিট ব্যবহার করা সম্ভব। এটি ইন্টেল কোর ৭ প্রসেসর, ১৮ টপস এনপিইউ, ৩২ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজসমৃদ্ধ। ল্যাপটপটিতে দ্রুত চার্জিং সুবিধাসহ সারা দিন চলার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ রয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এটি বাজারে আসবে।

এ ছাড়া আসুস মিলিটারি-গ্রেড সুরক্ষাসম্পন্ন ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি সাইজের ‘এক্সপার্টবুক পি৫’ এবং ‘পিএম৫’ মডেলের ল্যাপটপ এনেছে। এগুলো ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ এবং এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। মেলায় স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ও ২০ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপসমৃদ্ধ ‘ভিভোবুক এস১৪ ফ্লিপ’ এবং ‘এস১৬ ফ্লিপ’ মডেলের ল্যাপটপও প্রদর্শন করা হয়।

আসুস জেনবুক ১৪ মডেলটি তিনটি ভিন্ন প্রসেসর ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরযুক্ত মডেলটি সবচেয়ে হালকা, যার ওজন মাত্র ২.৪৩ পাউন্ড। 

এতে রয়েছে ৮ কোরের প্রসেসর এবং ৪৫ টপস ক্ষমতাসম্পন্ন এনপিইউ। অন্য দুটি মডেল ইন্টেল ও এএমডি রাইজেন প্রসেসর দ্বারা চালিত। এএমডি মডেলটিতে ২৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম এবং ওএলইডি ডিসপ্লে রয়েছে। অন্যদিকে ইন্টেল মডেলটিতে সর্বোচ্চ ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ওএলইডি ডিসপ্লে এবং থান্ডারবোল্ট ৪ পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এই জেনবুক মডেলগুলোর দাম ও বাজারে কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
পিসিতে সরাসরি এআই ব্যবহারে এনভিডিয়ার নতুন চিপ
ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নতুন একটি চিপ উন্মোচন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ নামের এই পিসি চিপটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্ভাবন এআই ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াকে বদলে দেবে।

তাইওয়ানের ‘কম্পিউটেক্স’ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং এই চিপের ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে তিন বছরের যৌথ প্রচেষ্টায় এআই যুগের উপযোগী কম্পিউটার তৈরি করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিপটি তাইওয়ানের আরেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মিডিয়াটেকের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের নিজস্ব মেমোরি ব্যবহার করে এআই এজেন্ট চালাতে পারবে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিল শাহ বলেন, এই চিপ প্রচলিত কম্পিউটারকে একটি সত্যিকারের কাজের এআই কম্পিউটারে রূপান্তর করবে।

পিসি চিপের পাশাপাশি এনভিডিয়া তাদের নতুন ‘ভেরা’ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ) উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়া প্রধান জানান, ভেরা সিপিইউ মূলত এআই এজেন্টের কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার শুরু করেছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয়সংক্রান্ত এক সভায় হুয়াং বলেন, নতুন ভেরা প্রসেসরের মাধ্যমে এনভিডিয়া নতুন করে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে। এটি তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হবে।

এআই প্রযুক্তির কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কাকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেনসেন হুয়াং। তিনি যুক্তি দেন যে, এই প্রযুক্তি কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করছে। তাইওয়ানে জন্ম নেওয়া হুয়াং দেশটিকে এআই বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে প্রতিবছর ১৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের দুই সপ্তাহ পর তাইপেইতে তিনি এই বক্তব্য দেন।

র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
র‌্যাম্পে মানুষের সঙ্গে হাঁটল হিউম্যানয়েড রোবট
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোয়ে মানুষের পাশাপাশি র‌্যাম্পে হেঁটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির এমন এক ভবিষ্যতের আভাস পাওয়া গেল, যেখানে রোবট শুধু কাজের সরঞ্জাম নয়, বরং সংস্কৃতিরও অংশ হবে।

‘ম্যাক৩৩: ফিজিক্যাল এআই ফ্যাশন শো’ নামের এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন। সিউলের নবনির্মিত ‘গ্যালাক্সি রোবট পার্ক’-এ এই জমকালো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ও রোবটের একসঙ্গে বসবাসের ধারণা থেকে এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়।

ফ্যাশন শোতে মানুষের মতো দেখতে রোবটগুলো ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক পরে মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাটওয়াক করে। শুধু তা-ই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা নিখুঁতভাবে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবিও তুলেছে। সাধারণত রোবটকে বিভিন্ন কারখানা, গবেষণাগার বা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখা যায়। তবে এই প্রথমবারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনোদনের মাধ্যমে রোবটকে একদম ভিন্নরূপে উপস্থাপন করা হলো।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি করপোরেশন মূলত উন্নত প্রযুক্তি ও বিনোদনকে একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে। কোরিয়ান পপ তারকা জি-ড্রাগনের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যবস্থাপনাও করে এই প্রতিষ্ঠানটি। আগামী দিনে রোবট কনসার্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহার করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া তার মধ্যে অন্যতম। দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে ১ হাজারেরও বেশি শিল্প-রোবট রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা রোবটকে শুধু কলকারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। যদিও রোবটের ভারসাম্য ও মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সিউলের এই ফ্যাশন শো প্রমাণ করে যে মানুষের একচেটিয়া জায়গাগুলোতেও এখন রোবট নিজের স্থান করে নিচ্ছে।

/আবরার জাহিন

এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
এআই বদলে দিচ্ছে অনলাইন জগৎ
ছবি: সিএনএন থেকে

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন গুগল তাদের দীর্ঘদিনের আইকনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার করছে। এর প্রধান কারণ হলো, ব্যবহারকারীদের দিন দিন বাড়তে থাকা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ অনুরোধ। 

গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, মানুষ এখন এমন সব কঠিন প্রশ্ন করছে যার কোনো নির্দিষ্ট বা সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটের কোথাও এককভাবে নেই। এই নতুন চাহিদা মেটাতে গুগল এখন কাস্টম ভিজ্যুয়াল, ইন্টারঅ্যাক্টিভ গ্রাফিক্স ও সরাসরি সার্চ পেজের মধ্যেই মিনি-অ্যাপ চালানোর মতো ফিচার নিয়ে কাজ করছে। এটি গুগলের গত ২৫ বছরের ইতিহাসে সার্চ ইঞ্জিনের সবচেয়ে বড় আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন আর আগের মতো সংক্ষিপ্ত বা সাধারণ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে কিছু খুঁজছে না। তারা এখন চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপগুলোর আদলে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সার্চ করতে শুরু করেছে। আগে মানুষ দুই থেকে তিনটি শব্দের মাধ্যমে কোনো কিছু খুঁজত। এখন ৫ থেকে ১০, এমনকি ১১ শব্দের দীর্ঘ বাক্যে পরিণত হয়েছে অনুরোধ।

এসইও ও মার্কেটিং-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেমরাস তাদের বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ইন্টারনেটে কথোপকথনের ভঙ্গিতে খোঁজার হার ৫ শতাংশ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এখনো অনেকে তিন শব্দের প্রথাগত পদ্ধতিতে সার্চ করছেন। অবশ্য দীর্ঘ বাক্যের সার্চের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

গুগল ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সেমরাস প্রায় এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। 

সেখানে দেখা গেছে, চ্যাটজিপিটির রেফারেল ট্রাফিকের ২০ শতাংশ সরাসরি গুগলে যায়। মানুষ সাধারণত সরাসরি কোনো তথ্য জানতে বা লেনদেনের প্রয়োজনে এখনো গুগল ব্যবহার করে। 

অন্যদিকে দীর্ঘ কোনো তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরি করা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে জটিল তুলনা করা অথবা কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরির জন্য মানুষ চ্যাটজিপিটির মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। গুগল তাদের সার্চ বক্স বড় করছে, যেন ব্যবহারকারীরা আরও বেশি টেক্সট লিখতে পারেন। 

এর পাশাপাশি ছবি, ফাইল বা ব্রাউজার ট্যাব যুক্ত করে খোঁজার কাজকে আরও সহজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছবি তুলে বা ফোনের স্ক্রিনে কোনো কিছু বৃত্ত দিয়ে মার্ক করে খোঁজার প্রবণতা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এআই মোডে বা কথোপকথনমূলক সার্চের হার প্রতি প্রান্তিকে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

এআইয়ের প্রভাব কেবল সার্চ ইঞ্জিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই। এটি সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আইতানা লোপেজের মতো এআই তৈরি ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রভাবশালী চরিত্ররা এখন বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। 

লোপেজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি গ্ল্যামারাস ইভেন্টে যাচ্ছেন, জিমে শরীরচর্চা করছেন বা বিউটি টিপস দিচ্ছেন। তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ ছুঁইছুঁই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, লোপেজ কোনো বাস্তব মানুষ নন। তিনি পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। 

বড় ব্র্যান্ডগুলো এখন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে এই এআই চরিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। কারণ এই ডিজিটাল চরিত্রগুলো মানুষের চেয়ে অনেক সস্তা। যেকোনো নির্দিষ্ট প্রচারের জন্য এদের সহজেই প্রয়োজনমতো রূপান্তর করা যায়। 

বিলিয়ন ডলার বয় নামের একটি সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ৮০ শতাংশ বিপণনকারী এখন এআই-তৈরি কন্টেন্টের পেছনে তাদের বাজেট বাড়িয়েছেন।

অনলাইন কেনাকাটার জগতেও এআই এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব ঘটাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল বা খুচরা কেনাকাটার সাইটগুলোতে এআই পরিষেবার মাধ্যমে আসা ট্রাফিক প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বেড়েছে। গুগল এই সপ্তাহে একটি বিশেষ ‘ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন আলাদা দোকানের পণ্য একটিমাত্র কার্টে যুক্ত করতে পারবেন। 

অন্যদিকে অ্যামাজন তাদের ‘রুফাস’ নামক শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টকে ‘অ্যালেক্সা ফর শপিং’ টুলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে ক্রেতারা সার্চ বারেই এআইকে পণ্যের গুণমান যাচাই বা দামের ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারছেন। মেটা এবং ওপেনএআইও পিছিয়ে নেই, তারাও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শপিং টুল যুক্ত করছে।

এআইয়ের এই দ্রুত বিস্তার মানুষের মনে একধরনের উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মানুষের চাকরি কমে যাওয়া, তথ্যের নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। তবে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অধ্যাপক জোসেফ টুরো মনে করেন, এআই এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দেওয়া সরাসরি উত্তরের কারণে অনেক সময় মানুষ মূল ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করছে না। এতে ওয়েবসাইটে সরাসরি ট্রাফিক কমলেও এসইও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, ট্রাফিক কমলেও যারা ওয়েবসাইটে আসছেন, তারা অনেক বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আসছেন। ফলে কেনাকাটা সম্পন্ন করা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার হার আগের চেয়ে বেড়েছে। 

এআই বর্তমান ইন্টারনেটের রূপরেখাকে এমনভাবে পরিবর্তন করছে যে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ডিজিটাল পৃথিবীতে রূপ নিতে পারে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সূত্র: সিএনএন

পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্ক কি পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনীতির স্বপ্ন থেকে সরে আসছেন? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া স্পেসএক্সের একটি নথি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এমনটাই ধারণা করছেন।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক অতীতে তার ‘মাস্টার প্ল্যান’-এ জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন। সেখানে খনিজ জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তব চিত্র এখন ভিন্ন। মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য এখন দেদারসে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করছে। এমনকি আরও ২৮০ কোটি ডলারের গ্যাস টারবাইন কেনার পরিকল্পনা করছে তারা। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিয়ে সাম্রাজ্য গড়া একজন উদ্যোক্তার জন্য এটি একটি বড় নীতিবদল।

অবশ্য মাস্ক তার এক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারে বেশ পটু। স্পেসএক্স টেসলা থেকে সাইবারট্রাক কিনেছে এবং এক্সএআই কিনেছে গ্রিড-সংলগ্ন ব্যাটারি ব্যবস্থা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, এক্সএআই টেসলা থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সৌর প্যানেল কেনেনি।

স্পেসএক্সের নথিতে সৌরবিদ্যুতের উল্লেখ থাকলেও তা মূলত মহাকাশকেন্দ্রিক। মাস্ক এবং সিলিকন ভ্যালির অন্য শীর্ষ কর্তারা এখন মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী। সেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ার কারণে পৃথিবীর চেয়ে পাঁচ গুণের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে মাস্ক এখন মহাকাশে বড় সার্ভার স্টেশন বসানোর কথা ভাবছেন।

তবে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। মহাকাশে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ হবে অনেক বেশি। তা ছাড়া মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে চিপ সুরক্ষা নিশ্চিত করাও বেশ ব্যয়বহুল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো মাত্র ৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অথচ মাস্কের ধারণা, ভবিষ্যতে এআইয়ের জন্য প্রতিবছর টেরাওয়াট-স্কেলের বিদ্যুৎ লাগবে, যা পৃথিবীতে জোগানো অসম্ভব।

অনেকের মতে, মহাকাশে যাওয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন পৃথিবীর সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনাকে আড়াল করছে। নক্ষত্র ছোঁয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি পৃথিবীতে জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন করার যে প্রতিশ্রুতি মাস্ক তিন বছর আগে দিয়েছিলেন, তা এক্সএআইয়ের ডেটা সেন্টার থেকে শুরু হতে পারত। সূত্র: টেকক্রাঞ্চ