ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার গোপালগঞ্জে ইজিবাইকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় শাহরাস্তিতে ১৮ মামলার আসামি ‘সাদা আনোয়ার’ গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক কর্মস্থলে গরমে হাঁসফাঁস
Nagad desktop

পাকস্থলীতে লাইটার নিয়ে ৩০ বছর বেঁচে ছিলেন এক ব্যক্তি!

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
পাকস্থলীতে লাইটার নিয়ে ৩০ বছর বেঁচে ছিলেন এক ব্যক্তি!
ছবি: সংগৃহীত

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংডুতে এক ব্যক্তির পাকস্থলী থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে আটকে থাকা একটি লাইটার সফলভাবে বের করেছেন চিকিৎসকরা। জরুরি গ্যাস্ট্রোস্কোপির সময় চিকিৎসকদের তার পাকস্থলীতে একটি অচেনা বস্তু নজরে আসে, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

পরে সেই ব্যক্তি জানান, তরুণ বয়সে রাতের আড্ডার সময় বন্ধুর সাথে বাজি ধরে তিনি একটি লাইটার গিলে ফেলেন। সেই সময়, তিনি এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেননি, ভেবেছিলেন লাইটারটি তার পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলে যাবে। তবে, এটি কয়েক দশক ধরে তার শরীরে রয়ে গেছে, কোনও লক্ষণীয় সমস্যা সৃষ্টি করেনি।

৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, এক মাস আগে পর্যন্ত এই জিনিসটি তাকে কোনও উল্লেখযোগ্য অস্বস্তির কারণ হয়নি।

এরপর এতদিন পর তিনি পেটে ক্রমাগত ব্যথা এবং ফোলাভাব অনুভব করার পর চিকিৎসার পরামর্শ নেন।
হাসপাতালে একটি গ্যাস্ট্রোস্কোপি করলে তার শরীরে এখনও আটকে থাকা কালো, আয়তাকার একটি বস্তু দেখতে পান।

১৯৯১ বা ১৯৯২ সালে বন্ধুদের সাথে রাতের আড্ডার সময় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের লাইটার গিলে ফেলেছিলেন এই ব্যক্তি । বিষয়টি তিনি কখনো পরিবারের কাউকে জানাননি এবং ভেবেছিলেন সেটি আগেই শরীর থেকে বের হয়ে গেছে।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে লাইটারটি সফলভাবে অপসারণ করেন। তারা প্রথমে এটি দেখে হতবাক হয়ে যান। এরপর তাদের বস্তুটি অপসারণ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

লাইটারটি খুব মসৃণ ছিল, তাই ফোর্সেপ দিয়ে ধরে বের করা যাচ্ছিলো না। সেক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, মেডিকেল টিমকে সৃজনশীল হতে হয়েছিল।পরে লাইটার অপসারণে সাহায্য করার জন্য চিকিৎসকরা কনডম ব্যবহার করেন।

এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে, তারা তার পাকস্থলীতে একটি কনডম ঢুকিয়ে দেয়। এরপর সাবধানে  কনডমের ভেতরে লাইটার ঢুকিয়ে দেন এবং তারপর ফোর্সেপ ব্যবহার করে সেটি তার মুখ দিয়ে এটি বের করে আনেন।

পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় ২০ মিনিট সময় নিয়েছে। আরও আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন পাকস্থলীতে থাকার পরও প্রায় ৭ সেমি দৈর্ঘ্যের লাইটারের মেকানিজমের ভিতরে তখনও অবশিষ্ট তরল পদার্থ ছিল। সেটি এখনও কাজ করার উপযোগী ছিল, যা দেখে চিকিৎসকরাও বিস্মিত হন। 

চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলেন যে, যদি ভেতরে থাকা তরল পদার্থ পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করত, তাহলে লাইটারটি প্রাণঘাতী হতে পারত।

সুলতানা দিনা/

ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ক্যান্সার গবেষণায় নতুন অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসার। তবে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ডারাক্সোনরাসিব নামের একটি ওষুধ।

গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম এই ওষুধ।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যান্সারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের পর একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশা জাগিয়েছে ডারাক্সোনরাসিব।

৫০০ রোগীর ওপর এ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীরা সবাই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন, যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডারাক্সোনরাসিব নামের ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম ছিল।

ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি বিশেষভাবে ক্রাস নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ প্রোটিন প্রায় সব ধরনের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওষুধটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার মধ্য দিয়ে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলা হ্যানফোর্ড বলেছেন, এটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় তার দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর একটি।

হ্যানফোর্ড বলেন, অনেক দিন ধরেই অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল এবং বেঁচে থাকার হারও উদ্বেগজনকভাবে কম ছিল। কার্যকারিতা পরীক্ষায় ওষুধটি গুরুতর পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করার যে সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওষুধের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমান/

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কির উদ্যোগে ২০১৮ সালে ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

তারপর থেকে প্রতিবছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় দিবসটি। মঙ্গলবার (৩ জুন) বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সাইকেল দিবস। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সাইকেল রাইড সংগঠনগুলো নিয়েছে নানা কর্মসূচি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি, তিনি বাইসাইকেল নিয়ে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ বিশ্বে সাইকেলের সমর্থনে একটি দিন নির্ধারণ করা।

২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবে তুর্কমেনিস্তান ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল এবং প্রায় ৫৬টি দেশ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।

সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য মূলত এই দিবস উদযাপন করা হয়। সাইকেল এমন একটি যানবাহন যা ধনী থেকে গরিব সবাই বহন করতে পারে। এটি বায়ু দুষণ কমায় এবং যানজট কমায়।

গবেষণা বলছে, যদি শহরের ১০% যাত্রা সাইকেলে হয়, তাহলে একটি মাঝারি শহরের কার্বন নির্গমন বছরে প্রায় ১১% কমতে পারে।

সাইকেলে চড়ে কেউ জীবিকার তাগিদে বের হন। কেউবা আবার বের হন মনের ক্ষুধা মেটাতে, রোমাঞ্চের খোঁজে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। কারও কারও কাছে সাইকেল মানে স্বাধীনতা। আপন ভুবনে নিজের মতো করে চলা এবং সব বাধা ঠেলে সামনে এগিয়ে চলা।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

তামান্না রুপা/আমান

গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, আর তীব্র গরমে দিশেহারা মানুষ এবং প্রাণীকুল। এছাড়া নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। তবে এমন গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম ‘হিট স্ট্রোক’। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়। শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় তখন জরুরি অবস্থাকে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন—

(১) শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগী, স্ট্রোক বা ক্যান্সারজনিত রোগে যারা ভোগেন, এমনকি যেকোনো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

(২) যারা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

(৩) শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

(৪) কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়।

এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো—

(১) শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।

(২) ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।

(৩) ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।

(৪) নিশ্বাস দ্রুত হয়।

(৫) নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

(৬) রক্তচাপ কমে যায়।

(৭) খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।

(৮) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।

(৯) রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—

(১) হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।

(২) যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।

(৩) বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।

(৪) বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

(৫) প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

(৬) তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।

(৭) রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর রোদ থেকে সরে গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর লবণযুক্ত পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—

(১) দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।

(২) ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।

(৩) প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাদের করণীয় হলো—

(৪) রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।

(৫) তার কাপড় খুলে দিন।

(৬) শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।

(৭) সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।

(৮) রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন।

(৯) দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

(১০) সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। হিট স্ট্রোকে জীবন বিপন্ন হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারেন। গরমের এই সময়টায় সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

(১১) গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারা যেন রোদের মধ্যে অনেক বেশি দৌড়ঝাঁপ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

আরো পড়ুন>>

দিনাজপুরে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আমান/

 

হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তরুণ পাইলট ডেভ ফিজি। ২৬ বছর বয়সী ডেভ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে হানিমুনে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভ ফিজি ও তার স্ত্রী জেসনির বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জর্জিয়ার ডসনভিলে। প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে বিশেষভাবে বিদায় জানাতে তারা রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে করে ডিক্যালব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তাদের আটলান্টার একটি হোটেলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ডসন কাউন্টির একটি দুর্গম বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ডেভ ফিজি ও হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান নববধূ জেসনি।

ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, দুর্ঘটনার আগে তার ছেলে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একজন পাইলট হওয়ায় তিনি হেলিকপ্টার চালককে বলেছিলেন, দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উড্ডয়ন করা হয় না। তবে পাইলট নাকি জানিয়েছিলেন, উঁচু উচ্চতায় উড়ে গেলে সমস্যা হবে না।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ সময় নেয়। 

ডেভের বাবা জানান, আহত জেসনি প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, ডেভ তার বুকের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। একজন নার্স হওয়ায় জেসনি বুঝতে পারেন, তার স্বামী তখন আর বেঁচে নেই।

বর্তমানে জেসনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও এখনো চূড়ান্ত কারণ জানা যায়নি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন ডেভ ফিজি। তাদের আদি নিবাস কেরালায়। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ
ছবি: সংগৃহীত

চীনের এক নারী ভুলভাবে করা কসমেটিক অস্ত্রোপচারের কারণে গত কয়েক বছর ধরে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছেন না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও তার চোখ খোলা থাকে। পাশাপাশি সারাক্ষণ চোখ দিয়ে পানি পড়া, মানসিক চাপ এবং অনিদ্রার মতো জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের সুজৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং নামের ওই নারী ২০২০ সালে একটি বিউটি ক্লিনিকে ‘ডাবল আইলিড’ বা দ্বৈত চোখের পাতার অস্ত্রোপচার করান। এ জন্য তিনি প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান খরচ করেন। 

অস্ত্রোপচারের পরপরই তার চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা অস্বাভাবিকভাবে উল্টে যায় এবং চোখে তরল জমতে থাকে। পরে জরুরি তাকে বড় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, অস্ত্রোপচারের সময় তার অশ্রুগ্রন্থি (ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো অপারেশনই ভুল পদ্ধতিতে করা হয়।

পরে আবার অস্ত্রোপচার করা হলেও তার চোখের পাতা আর স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়নি। ফলে ঘুমের সময়ও চোখ খোলা থাকে এবং নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, যিনি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তার কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছিল না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটিরও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ওয়াং জানান, এই ঘটনার পর তার স্বাভাবিক জীবন প্রায় ভেঙে পড়েছে। চেহারার পরিবর্তনের কারণে তিনি মানুষের সামনে যেতে সংকোচ বোধ করতেন। কর্মজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হতাশা ও অনিদ্রায় ভুগেছেন। ২০২২ সালে স্থানীয় ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থাকে স্থায়ী অক্ষমতার একটি স্তর হিসেবে মূল্যায়ন করে।

পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ক্ষতিপূরণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা নতুন করে শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের এক রায় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এখনও আলোচনায় রয়েছে।

এই ঘটনা আবারও চীনের কসমেটিক সার্জারি খাতের নিরাপত্তা, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/