ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

কোমল পানীয়ের বোতলের নিচের অংশ সমান হয় না কেন

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম
আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
কোমল পানীয়ের বোতলের নিচের অংশ সমান হয় না কেন
ছবি: সংগৃহীত

কোমল পানীয় পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে গরমকালে ঠাণ্ডা পানীয়ের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। আনন্দ আয়োজনে কোমল পানীয়ের ব্যবস্থা থাকা চাই-ই চাই। কিন্তু কখনো খেয়াল করেছেন, কোমল পানীয়ের প্লাস্টিকের বোতলের নিচের অংশ সমান নয়!

প্লাস্টিকের কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতলের নিচের অংশ সবসময়ই খাঁজকাটা থাকে। পানির বোতলের ক্ষেত্রে কিন্তু তেমনটা হয় না। পানির বোতলের নিচের অংশ সবসময় সমতল হয়। কিন্তু ঠাণ্ডা পানীয়র প্লাস্টিকের বোতলের আকার অন্য রকম হয় কেন?

আরো পড়ুন: যেখানে জুতা পরেন না কেউ

বহু দশক ধরেই শরীরকে শীতল রাখার জন্য মানুষ কোমল পানীয় ব্যবহার করছে। ঠাণ্ডা পানীয়র ইতিহাস শুরু হয় ১৭ শতকে। ফরাসি সংস্থা ‘কোম্পানি ডি লিমোনাডিয়ার্স’-এর লেবুর রস, পানি এবং মধু দিয়ে তৈরি লেমোনেড বাজারে ছেয়ে গিয়েছিল সেই সময়। পরে ইউরোপের অন্য দেশে কোমল পানীয়তে কার্বনেটেড পানি ব্যবহার করার চল শুরু হয়। ১৭৮০ সালে জেনেভায় জোহান জ্যাকব স্কিউইপ প্রথম পানিতে কার্বনেট ব্যবহার করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন।

কোল্ড ড্রিঙ্কের বোতলের অনন্য আকৃতি এবং নকশা বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ড পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু সে জন্য নয়, কোমল পানীয়র পেছনের অংশ খাঁজকাটা হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোমল পানীয়র বোতলে থাকা গ্যাসের কারণে বোতলগুলো এইভাবে তৈরি করা হয়। ঠাণ্ডা পানীয়ের ওপর চাপ দিয়ে গ্যাস ঢোকানো হয়, যা সমতল বোতলগুলোর ওপর আরও চাপ দেয়। ফলে বোতল ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বোতল খাঁজকাটা থাকলে অতিরিক্ত চাপে বোতলটির আয়তনের পরিবর্তন হয়। ফলে বোতলের সামঞ্জস্য ঠিক থাকে। একই কারণে বোতলগুলোর নিচের অংশ উপরিভাগের তুলনায় শক্ত করা হয়। বোতলের এই বিশেষ ধরনের নকশাকে ‘করুগেশন’ বলা হয়।

 

তারেক/

আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গর্জন, খাড়া পাথুরে উপকূল আর প্রকৃতির অলৌকিক শিল্পকর্ম, সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা দান ব্রিস্টে (Dún Briste) যেন পৃথিবীর এক বিস্ময়। 

আইরিশ ভাষায় ‘Dún Briste’ শব্দের অর্থ ভাঙা দুর্গ। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এর জন্মের ইতিহাস, বিচ্ছেদের কাহিনি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলা প্রকৃতির নির্মম সৌন্দর্য।

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি মেয়র উত্তর উপকূলে অবস্থিত ডাউনপেট্রিক হেড এলাকায় এই বিখ্যাত সামুদ্রিক স্তম্ভ বা sea stack-এর অবস্থান। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০ মিটার দূরে আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাথুরে স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার বা ১৫০ ফুট। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সমুদ্রের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক রহস্যময় দুর্গের ধ্বংসাবশেষ।

আরো পড়ুন: মিলনের পরই গিলে খায় পুরুষ সঙ্গীকে!

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, দান ব্রিস্টের শিলাগুলো প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে গঠিত হয়েছিল। স্তরীভূত পাললিক শিলার এই গঠন প্রকৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের এক জীবন্ত সাক্ষী। কোটি কোটি বছর ধরে বাতাস, বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ উপকূলকে ক্ষয় করতে করতে একসময় এই অংশটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেয়।

ইতিহাস বলছে, ১৩৯৩ সালে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাকৃতিক পাথরের খিলানটি ধসে পড়ে। সেই ঘটনার পর থেকেই দান ব্রিস্টে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় কয়েকজন মানুষ সেখানে আটকা পড়েছিলেন। পরে দড়ির সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাস্তব হোক কিংবা লোককথা, এই গল্প এখনো স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে।

এই দান ব্রিস্টে ঘিরে রয়েছে ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনিও। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের সময় সেন্ট প্যাট্রিক এক অবাধ্য পৌত্তলিক সর্দারের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে তার লাঠি দিয়ে ভূমিতে আঘাত করেছিলেন। আর সেই আঘাতেই নাকি মূল ভূখণ্ডের অংশ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয় এই বিচ্ছিন্ন পাথুরে স্তম্ভ। যদিও এটি নিছক লোকগাথা, তবু দান ব্রিস্টের রহস্যময় আবহকে আরও গভীর করে তুলেছে এই কাহিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই এই পাথুরে দ্বীপটি মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮০ সালে একদল বিজ্ঞানী হেলিকপ্টারের সাহায্যে এর সমতল চূড়ায় অবতরণ করেন। সেখানে তারা প্রাচীন পাথরের নির্মাণ, দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ এবং মানব বসতির বিভিন্ন নিদর্শন খুঁজে পান। ধারণা করা হয়, বহু শতাব্দী আগে মানুষ এখানে বসবাস করত অথবা এটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

বর্তমানে দান ব্রিস্টে শুধু একটি ভূতাত্ত্বিক বিস্ময় নয়, এটি বহু সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলও। পাফিন, কিটিওয়াক, ফুলমারসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখি এখানে বাসা বাঁধে। মাঝে মাঝে আশপাশের সমুদ্রে সিলও দেখা যায়। ফলে এটি পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।

প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ডাউনপেট্রিক হেডে ভিড় জমান শুধু এই বিস্ময়কর দৃশ্যটি একনজর দেখার জন্য। উপকূলে নির্মিত নির্দিষ্ট ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম থেকে দান ব্রিস্টেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় আটলান্টিকের সোনালি আলো যখন পাথরের গায়ে পড়ে, তখন পুরো দৃশ্যটি যেন জীবন্ত কোনো চিত্রকর্মে পরিণত হয়।

আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও নগর সভ্যতার বিস্তারের মধ্যেও দান ব্রিস্টে আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির শক্তি কতটা গভীর এবং সময় কতটা বিশাল। কোটি বছরের ইতিহাস নিজের শরীরে ধারণ করে আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ‘ভাঙা দুর্গ’ আজও নীরবে বলে যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, ধ্বংস আর পুনর্জন্মের গল্প।

তারেক/

কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু হিসেবে সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এবং উট ব্যবহৃত হয়। দেশ ও সংস্কৃতিভেদে কোরবানির পশুর ধরন এবং সংখ্যা ভিন্ন হয়। নিচে কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে কোরবানির পশুর সংখ্যার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো–

বাংলাদেশ: বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মুসলিম বাস করে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১ কোটির বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে, যার মধ্যে গরু এবং ছাগলের সংখ্যা বেশি।

সৌদি আরব: সৌদি আরবে হজের সময় প্রচুর পশু কোরবানি হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সে বছর প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য প্রায় ১০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এর মধ্যে ভেড়া এবং ছাগলের সংখ্যাই বেশি। ২০২৫ সালেও সৌদি আরবে ১০ থেকে ১১ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এছাড়া ঈদুল আজহার দিন সাধারণ সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে থাকা অন্য মুসলিমরা কয়েক লাখ পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুন: তিমির দুধ পানিতে মিশে না!

পাকিস্তান: পাকিস্তানে প্রায় ২৪ কোটি মুসলিম বাস করে, যা দেশটির জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ। এখানে কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ; যার মধ্যে গরু, ছাগল, ভেড়া এবং উট অন্তর্ভুক্ত। শীতপ্রধান অঞ্চলে দুম্বার কোরবানি বেশি প্রচলিত।

ইন্দোনেশিয়া: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২০ দশমিক ৩ কোটি) মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ। এখানে গরু এবং ছাগল প্রধানত কোরবানি করা হয়।

ইরান ও তুরস্ক: এই দেশগুলোয় প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। ইরানে গরু ও ভেড়া এবং তুরস্কে ভেড়া ও ছাগল বেশি জনপ্রিয়।

তারেক/

সমুদ্রের তলদেশে দাঁড়িয়ে থাকে যে মাছ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
সমুদ্রের তলদেশে দাঁড়িয়ে থাকে যে মাছ
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইপড মাছ গভীর সমুদ্রের এক অত্যন্ত রহস্যময় ও বিস্ময়কর প্রাণী। এটি ইপনোপিডি (Ipnopidae) পরিবারের Bathypterois গণের অন্তর্ভুক্ত। এই মাছকে বিজ্ঞানীরা গভীর সমুদ্রের ‘unique adaptation species’ হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ এটি এমন পরিবেশে টিকে আছে যেখানে আলো নেই, চাপ অত্যন্ত বেশি এবং খাদ্যও সীমিত।

ট্রাইপড মাছের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি অত্যন্ত লম্বা পাখনা, যা দেখতে অনেকটা ত্রিপদের (tripod) মতো কাজ করে। এই কারণে এর নাম ‘ট্রাইপড ফিশ’ রাখা হয়েছে। মাছটির দুটি পাখনা আসে শ্রোণিদেশ (pelvic fins) থেকে এবং আরেকটি আসে লেজ (caudal fin) থেকে। এই পাখনাগুলো অনেক সময় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, যা মাছটির শরীরের তুলনায় অনেক বড়।

ট্রাইপড মাছের মূল দেহ সাধারণত ছোট; প্রায় ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। কিন্তু লম্বা পাখনার কারণে একে অনেক বড় ও অদ্ভুত আকৃতির প্রাণী বলে মনে হয়। এই পাখনাগুলোর সাহায্যে মাছটি সমুদ্রের তলদেশে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, যেন এটি একটি স্ট্যান্ড বা ত্রিপদের ওপর ভর করে আছে।

এই মাছ সাধারণত ৯০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার গভীর সমুদ্র অঞ্চলে বসবাস করে। এই গভীরতায় সূর্যের আলো একেবারেই পৌঁছায় না, ফলে সেখানে চির অন্ধকার বিরাজ করে। তাপমাত্রাও খুব কম এবং পানির চাপ অত্যন্ত বেশি। এমন কঠিন পরিবেশেও ট্রাইপড মাছ তার বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতার মাধ্যমে বেঁচে থাকে।

আরো পড়ুন: গাছে ওঠে খাবার খায় যেসব ছাগল

ট্রাইপড মাছের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি। এটি সক্রিয়ভাবে শিকার করে না; বরং সমুদ্রের তলদেশে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্রাণীর অপেক্ষা করে। এর প্রধান খাদ্য হলো প্ল্যাঙ্কটন, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়িজাতীয় প্রাণী এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব। এই শিকার ধরার কৌশলকে বলা হয় ‘ambush feeding strategy’ বা আক্রমণ অপেক্ষা কৌশল।

এই মাছের চোখ তুলনামূলকভাবে খুব ছোট এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রায় অকার্যকর। কারণ, গভীর সমুদ্রের অন্ধকার পরিবেশে দৃষ্টিশক্তির তেমন প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে পাখনাগুলো একটি সংবেদনশীল অঙ্গ হিসেবে কাজ করে, যা পানির কম্পন ও আশপাশের নড়াচড়া অনুভব করতে সাহায্য করে। এ কারণে ট্রাইপড মাছকে অনেক সময় ‘living sensor’ বলা হয়।

ট্রাইপড মাছের প্রজনন ব্যবস্থাও অনেক বিশেষ। বিভিন্ন প্রজাতির ট্রাইপড মাছ উভলিঙ্গ (hermaphrodite), অর্থাৎ একই দেহে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় প্রজনন অঙ্গ বিদ্যমান থাকে। গভীর সমুদ্রে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন, যা প্রজননকে সহজ করে তোলে।

মানুষের জন্য ট্রাইপড মাছ সরাসরি কোনো অর্থনৈতিক বা খাদ্যগত গুরুত্ব বহন করে না। এটি সাধারণত মানুষের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে অনেক সময় গভীর সমুদ্রের ট্রলিং বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সময় এটি ধরা পড়ে এবং পরে আবার সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ট্রাইপড মাছ এখনো গভীর সমুদ্রের এক রহস্যময় প্রাণী। এর জীবনচক্র, আচরণ এবং অভিযোজন সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এই মাছ সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে ট্রাইপড মাছ প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সমুদ্রের গভীরে এখনো কত রহস্য লুকিয়ে আছে, যা আমরা পুরোপুরি আবিষ্কার করতে পারিনি।

তারেক/

দেশভেদে কোরবানির ঈদ পালনের নানা রীতি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
দেশভেদে কোরবানির ঈদ পালনের নানা রীতি
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব। প্রচলিত অর্থে ঈদুল আজহার দিন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধানমতে যে পশু জবাই করা হয়, তাকে কোরবানি বলা হয়। ধর্মীয় রীতি অনুসারে কোরবানির মাংস তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়–একটি অংশ ব্যক্তির নিজের বাড়ির জন্য, একটি অংশ তার আত্মীয়দের জন্য এবং একটি অংশ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য।

অন্য সবকিছুর মতো স্থানীয় পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে কোরবানিতেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশে কীভাবে পালিত হয় ঈদুল আজহা–

পাকিস্তান

পাকিস্তানে চার দিন ধরে ঈদুল আজহার উৎসব উদযাপিত হয়। ঈদের দিন সকালে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নামাজের জন্য রওনা হন। তারপর বাড়ি ফিরে গরু, ছাগল, ভেড়া বা উট কোরবানি করেন। পাকিস্তানে সবাই পালিত পশুই কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য অনেক আগ থেকেই পশু কেনাবেচা শুরু হয়। অন্তত এক মাস আগে তারা পশু কিনে নিজেরাই তার যত্ন নেন। সরকারি ছুটি থাকায় যে যার মতো করে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেন। 

ভারত

ভারতীয় মুসলমানরা ঈদুল আজহার জন্য সাধারণত ছাগল বা ভেড়া কোরবানি করে থাকেন। ঈদের নামাজের জন্য সেখানে নির্ধারিত এলাকা আছে। যেহেতু ওই দেশে গরুকে পবিত্র বলে মনে করা হয় তাই ভারতীয় মুসলমানরা সাধারণত তাদের বাড়িতে বা স্থানীয় ইসলামিক কেন্দ্রে একটি ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দেন। মাংস প্রস্তুত করার পর বাড়িতে এনে রান্নার কাজে লেগে পড়েন সবাই। সাধারণ জনগণের অসুবিধা এড়াতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রাস্তায় পশু কোরবানি করতে নিরুৎসাহিত করে।

আরো পড়ুন: যে হোটেলে একই সময়ে দুই দেশে ঘুমানো যায়

তুরস্ক

ঈদুল আজহাকে তুর্কি ভাষায় কুরবান বায়রামি বলা হয়। এ দেশের মানুষও ঈদের দিন শুরু করে নামাজের মাধ্যমে। তারপর বাড়ি ফিরে আল্লাহর নামে পশু (সাধারণত ভেড়া) কোরবানি দেন। তুরস্কেও অনুমোদিত কসাইখানা/বসাখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু কোরবানি করা বেআইনি। এগুলোর বেশির ভাগই বড় শহরের উপকণ্ঠে নির্মিত। তুরস্কের অনেকেই পশু কোরবানি দেওয়া এড়িয়ে যান, এর পরিবর্তে তারা সমমূল্যের অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে পারেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

পশু কোরবানির আগে সকালে ঈদের নামাজ আদায় করা হয় সেখানে। আবুধাবির শেখ জায়েদ মসজিদে প্রতি বছর ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তিন থেকে চার দিন ধরে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। যদিও সেখানকার মানুষ নিজের বাড়িতে পশু জবাই করতে পারেন, তবে যথাযথভাবে কোরবানি ও এর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে কসাইখানার স্থান নির্ধারণ করা থাকে। এ কারণে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কারের বিষয়ে ভাবতে হয় না তাদের।

ইরান

সংযুক্ত আর আমিরাতের মতো ইরানেও পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থান রাখা হয়। এর বাইরে পশু জবাই করা বেআইনি হতে পারে। ইরানে ভোরেই কোরবানি দেওয়া হয়। সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের আগে কসাইখানায় রওনা হন সবাই মাংস সংগ্রহ করতে। তারপরে তারা নতুন পোশাক পরে নামাজ আদায় করেন। আর সারা দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে খাসি বা গরুর মাংসের নানা পদ খেয়ে উদযাপন করেন ঈদুল আজহা।

তাজিকিস্তান

তাজিকিস্তাসের মানুষ ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু করেন ঈদুল আজহা। তারপর শিশুরা প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখান থেকে তারা পুরস্কার ও মিষ্টি পেয়ে খুশি হয়। এরপর পুরুষরা পশু কোরবানির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাজিকিস্তানেও অনুমোদিত স্থান ছাড়া কোরবানি দেওয়ার নিয়ম নেই। মাংস নিয়ে বাড়িতে আসতেই তা রান্না শুরু করেন নারীরা। তাজিকিস্তানে বাড়ির শিশুরাই ঈদের দিন খাবার পরিবেশন করে। অতিথিকে প্রথমে ফল, পেস্ট্রি ও বিস্কুট নাশতা দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন: গরুর লাটসাহেবি জীবনযাপন

তারপর মাংসের বাহারি খাওয়ার পর কেক ও মিষ্টি মুখ করে সবাই। তাজিকিস্তানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এই দেশের প্রতিবেশীরা অবাধে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে পারে, কারণ তাদের সবার ঘরের দরজায় প্রতিবেশীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে।

আফ্রিকান নেশনস

আফ্রিকার বেশির ভাগই মুসলিম দেশ যেমন–তিউনিসিয়া, মরক্কো ও মিসরে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু হয় ঈদের নামাজ আদায় করার মধ্য দিয়ে। ভেড়া, ছাগল বা মহিষের মতো পশুই তারা বেশি কোরবানি দেয়। এরপর পরিবার নিয়ে মজাদার সব পদের স্বাদ উপভোগ করেন।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল আজহা উদযাপনের রীতিনীতি অনেকটাই পাকিস্তানের মতোই। ঈদের নামাজের পরে তারা রাস্তায় কোরবানি করে। পশু কোরবানি দেখতে প্রতিবেশী, পরিবার, বন্ধুসহ সবাই জড়ো হয়।

তারেক/

মায়ের প্রতিজ্ঞা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মায়ের প্রতিজ্ঞা
ছবি: খবরের কাগজ

আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। ধরেই নিয়েছিলাম আমার আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হবে না! ২০০৫ সালের কথা। এইচএসসি পরীক্ষার পর অন্য সবার মতো আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার স্বপ্ন দেখি। খুব খারাপ রেজাল্ট হয়নি! এইচএসসিতে মানবিকে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছিলাম। নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে। কোচিং করার সামর্থ্য ছিল না। কিছু টাকা জমানোর আশায় নিজেই টিউশনি করতাম। বাড়িতে ছোট শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে অল্প কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। এই অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নেমে পড়লাম।

পরিতাপের বিষয়, ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আমার বন্ধুরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেত। আমি চেয়ে চেয়ে দেখতাম! 

আরো পড়ুন: যেখানে দাদি ভাড়া পাওয়া যায়

বিধি নিরাশ করেনি। অবশেষে এল খুশির খবর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ডাক এল। ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় নিজের নাম দেখে আমার পরিবার যতটা না খুশি হয়েছিল তার চেয়ে বেশি চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল! কারণ একটাই, অনার্সে প্রথম বর্ষের ভর্তির টাকা আসবে কোথা থেকে। এত টাকা একসঙ্গে জোগাড় করার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। আশা নিয়ে আত্মীয়স্বজনের দ্বারস্থ হলাম। বিশ্বাস ছিল আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে কিছু না কিছু পাবই। একে একে সবাই নিরাশ করল। এই প্রথম আত্মীয়স্বজনদের আসল রূপ দেখলাম। আমার বাবা ও মায়ের নিকট আত্মীয়দের মধ্যে আমিই প্রথম অধম ব্যক্তি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।

আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর বুঝেছিলাম, আমার ঢাকায় গিয়ে পড়ালেখা করার বিষয়টি আত্মীয়রা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। এক নিকট আত্মীয় তো বলেই বসল, ‘একবার টাকা দিলে বারবার চাইতে আসবে।’ তখন হৃদয়ের কষ্ট হৃদয়ে রাখতে হয়েছিল। গরিবের মুখ খোলা বারণ! যদিও ভর্তি হতে দরকার ছিল সবমিলিয়ে ৭ হাজার টাকার কাছাকাছি। কোনো উপায় না পেয়ে আমরা আরও হতাশ হয়ে পড়লাম। আমি মা-বাবাকে জানিয়ে দিলাম–এভাবে আর সম্ভব না, আমি অন্য কোনো স্থানীয় কলেজে ভর্তি হয়ে যাব! কিন্তু মা হাল ছাড়লেন না।

ভর্তির সময় চলে যাচ্ছে। আর মাত্র দুদিন বাকি। মা শুধু শুধু বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, তিনি কোনো কোনোভাবে টাকা জোগাড় করেই ছাড়বেন! বিধি জীবনখাতায় কী লিখে রেখেছেন তখনো আমাদের অজানা ছিল! ভর্তির একদিন আগে বিকেলে বিষণ্ন মনে বসে আছি। মা হাসিমুখে এগিয়ে এসে বলল, ‘এই নে তোর টাকা’। আমি এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম মায়ের দিকে। মৃত প্রাণে আশার সঞ্চার হলো। তখন মাকে জিজ্ঞাসা করিনি এত টাকা কোত্থেকে জোগাড় হলো! রাতের গাড়িতে ঢাকায় আসলাম। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। পরে জেনেছি, মা বাড়ির ছোট ছোট গাছ খুব অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এছাড়া প্রায় ১৭ জনের কাছ থেকে কিছু কিছু টাকা ধার করে আমাকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন।



সহকারী শিক্ষক
লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়
মুন্সীগঞ্জ।

তারেক/