২০২৪ সালের বিদায়ঘণ্টা বাজতে চলেছে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বছর। আর নতুন বছরের আগমন মানেই উৎসব। আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর রেওয়াজ রয়েছে বেশির ভাগ দেশ ও সংস্কৃতিতে।
নিউ ইয়ার্স ইভ বা নতুন বছরে পদার্পণের সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে আতশবাজি, আনন্দ-উদযাপনের আয়োজন করা হয় অনেক দেশেই। আবার কিছু কিছু দেশে বেশ অদ্ভুত ও ব্যতিক্রম উপায়ে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। সেসব ঐতিহ্য একেবারেই তাদের নিজস্ব। জেনে নিন এমনই কিছু রীতি সম্পর্কে।
দক্ষিণ আমেরিকা
দক্ষিণ আমেরিকায় রঙিন অন্তর্বাস পরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। মেক্সিকো, বলিভিয়া ও ব্রাজিলের মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় মহা ধুমধামে এই রীতি পালন করে।
রং অনুযায়ী নাকি নতুন বছরে যার যার ভাগ্য নির্ধারণ হবে এমন কুসংস্কারও ছড়িয়ে আছে সেখানে। বিভিন্ন রঙের অন্তর্বাসেরও আবার অর্থ আছে যেমন- যারা প্রেমিক-প্রেমিকা খুঁজছেন তারা নববর্ষ উদযাপনে লাল আন্ডারপ্যান্ট পরেন। আর যারা সম্পদের আশা করেন তারা পরেন হলুদ রঙের অন্তর্বাস। আর যারা শুধু শান্তিতে নতুন বছর কাটাতে চান তারা পরেন সাদা অন্তর্বাস।
ইকুয়েডর
ইকুয়েডরে নববর্ষ উদযাপনে থার্টিফার্স্ট নাইটে বিশালাকার কাকতাড়ুয়ায় আগুন ধরিয়ে উৎসব করে। একই সঙ্গে খারাপ স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এমন কোনো পুরোনো ছবিও ওই আগুনে পুড়িয়ে দেন তারা।
ঐতিহ্য অনুসারে, বিগত ১২ মাসে ঘটে যাওয়া খারাপ ঘটনা বা স্মৃতি কিংবা দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পেতেই তারা এই অদ্ভুত কর্মকাণ্ড করেন। নতুন বছরে যেন পুরোনো স্মৃতি বয়ে বেড়াতে না হয় এজন্যই ইকুয়েডরে মহা ধুমধামে কাকতাড়ুয়া পুড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
স্পেন
নববর্ষের আগের দিন মধ্যরাতে স্পেনে এক ডজন আঙুর খাওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে প্রতিটি আঙুর আসন্ন বছরের নির্দিষ্ট মাসের সৌভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত। মাদ্রিদ, বার্সেলোনার মতো কিছু বড় শহরে লোকেরা এলাকার প্রধান চত্বরে জড়ো হন এবং একসঙ্গে আঙুর খান।
ডেনমার্ক
ডেনমার্কে প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের দরজায় পুরোনো প্লেট ও গ্লাস নিক্ষেপ করে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। ডেনমার্কের বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দরজার সামনে যত ভাঙা প্লেট, গ্লাস জড়ো হয় পরিবারের জন্য নতুন বছর ততই শুভ হবে। শুধু তাই নয়, দেশটির মানুষ থার্টিফার্স্ট নাইটে চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে সেগুলোর ওপর লাফিয়ে পড়েন। তাদের বিশ্বাস, এরকম করলে তাদের জীবনে সৌভাগ্য আসবে।
তুরস্ক
৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার ঘণ্টা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তুরস্কের লোকেরা তাদের দরজায় লবণ ছিটিয়ে দেন। এরকম করলে সারা বছর ধরে জীবনে শান্তি এবং সমৃদ্ধি থাকে বলে তাদের বিশ্বাস।
কলম্বিয়া
নতুন বছর উপলক্ষে কলম্বিয়াতে এক অনন্য রীতি পালিত হয়। এই রীতির পোশাকি নাম আগুয়েরো। এই প্রথা অনুযায়ী, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের খাটের নিচে তিনটি আলু রাখা হয়। একটি আলুর খোসা ছাড়ানো থাকে, দ্বিতীয় আলুটি খোসাসহ থাকে এবং তৃতীয় আলুটি থাকে অর্ধেক খোসা ছাড়ানো। রাতে প্রত্যেক ব্যক্তি চোখ বন্ধ করে সেই আলু বের করেন।
যার হাতে যে আলুটি আসে সে অনুযায়ী তার বছরের ভবিষ্যদ্বাণী হয়। ভবিষ্যতে ব্যক্তির ভাগ্যে আর্থিক সংগ্রাম কেমন হবে তা নির্ধারণ করে সেই আলুগুলো।
জাপান
নববর্ষ উদযাপনে জাপানিজরা রাস্তায় ১০৮ বার ঘণ্টা বাজান। বৌদ্ধ রীতি অনুসারে, ঘণ্টা বাজালে মানুষের পাপ দূর হয় ও সৌভাগ্য নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। একই সঙ্গে বাসিন্দারা এটাও বিশ্বাস করেন, হাসিমুখে বা হাসতে হাসতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোও সৌভাগ্যের বিষয়।
ফিলিপিন্স
ফিলিপিন্সের বাসিন্দারা নতুন বছর উদযাপনে বৃত্তাকার জিনিস দিয়ে নিজেদের ঘিরে রাখেন যাতে আগামী বছর সুখ, সমৃদ্ধি ও সম্পদ আসে সবার ঘরে ঘরে। সেখানে কয়েন থেকে আঙুর পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসই সম্পদ ও সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
ইতালি
ইতালিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পুরোনো বছরের শেষদিনে জানালার বাইরে পুরোনো আসবাবপত্র ফেলে দেন। তবে অবশ্যই যেসব জিনিস নরমজাতীয় হতে হবে। যেমন- কুশন থেকে শুরু করে কম্বল পর্যন্তও তারা ফেলে দেন জানালার বাইরে।
আর্জেন্টিনা
পুরোনো সব নথি ও কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার পরে, আর্জেন্টাইনরা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় সব কাগজের টুকরোগুলো। প্রথা অনুসারে, তারা অতীতকে পেছনে রেখে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে পুরোনো সবকিছু ছিঁড়ে ফেলেন ও জানালার বাইরে ফেলে দেন।
রোমেনিয়া
রোমেনিয়ায় কৃষকরা নতুন বছর উদযাপন করেন গবাদিপশুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে। নতুন বছরে যাতে তারা সফলতা ও সৌভাগ্য পান সেই প্রয়াশেই তারা এই প্রাণীর সঙ্গে পুরোনো বছরের খারাপ স্মৃতিগুলো শেয়ার করেন।
তারেক
.jpg)
.jpg)