ভাবুন তো, এমন একটা দেশে ঘুরতে গেলেন, যে দেশ এতটাই নিরাপদ যে সেখানে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ঘোরার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পর্যটকরা ইচ্ছামতো যখন-তখন যেখানে খুশি ঘুরতে পারেন। হ্যাঁ, বলছিলাম ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র চে গুয়েভারার জন্মভূমি কিউবার কথা।
কিউবার সরকারি নাম ‘রিপাবলিক অব কিউবা’। দেশটি আশপাশের অনেকগুলো ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত।
কিউবা একটি কমিউনিস্ট দেশ। সেখানে একই বাসায় ডাক্তার বসবাস করেন, আবার পরিচ্ছন্নতাকর্মীও বসবাস করেন। সমাজে যেন শ্রেণিবৈষম্য তৈরি না হয়, তাই সরকারই নির্ধারণ করে দেন কোন বাসায় কে কে থাকবে এবং তাদের মাসিক উপার্জনও প্রায় কাছাকাছি।
কিউবার হাসপাতালগুলোতে প্রতিটি রোগী একই ধরনের সেবা পেয়ে থাকেন। কোনো বৈষম্যের সুযোগ নেই। এমনকি রোগীপ্রতি ডাক্তারের সংখ্যা বিশ্বের যে দুটি দেশে সবচেয়ে বেশি, তার একটি হচ্ছে এই কিউবা।
সেখানে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা নিষেধ। যদি কেউ বিনা অনুমতিতে গাছ কাটে, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। আর এই কঠোর নিয়মের জন্যই কিউবা এখনো সবুজ শ্যামল একটি দেশ। কিউবার কৃষিব্যবস্থাও আদিম। চাষাবাদে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি কোনো রাসায়নিক সারও ব্যবহার করা হয় না।
কিউবায় প্রতি বছর অনেক পর্যটক ঘুরতে যান। কিন্তু সেখানে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা। আসলে কিউবার প্রতিটি বাড়িই এক একটা হোটেল। সরকারিভাবে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যে, প্রতিটি বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিউবার নাগরিকরা সেখান থেকে একটা বাড়তি রোজগার করার সুযোগ পান।
কিউবার ভূমি খুব উর্বর। সেখানে আখ ও তামাকের প্রচুর ফলন হয়। আর এই ফলনের জন্যই দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো। এ ছাড়া কিউবা বনজ সম্পদেও সমৃদ্ধ। দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে বিধায় সেখানে সংস্কৃতিরও অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়।
উর্বর ভূমি আর খনিজ সম্পদের জন্য স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে বিভিন্ন সময়। এমনকি কিউবা টানা ৪০০ বছর স্পেনের অধীনে ছিল। পরবর্তী সময়ে উনিশ শতকের মধ্যভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় কিউবা স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে, কিউবার সরকারি ভাষা স্প্যানিশ এবং দেশটির বেশির ভাগ মানুষ স্প্যানিশ ভাষাতেই কথা বলে। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে অনেকে ইংরেজি ভাষাও ব্যবহার করে থাকে।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হলো হাভানা, যা কিউবার রাজধানী। এটিই প্রধান বাণিজ্যিক শহর এবং সমুদ্রবন্দর। হাভানায় রয়েছে কয়েক শ বছরের পুরোনো বাড়িঘর, ভিনটেজ গাড়ি আর খোয়া বিছানো রাস্তা। তাই হাভানায় গেলে পুরোনো দিনে হারিয়ে যেতে হয়। তবে, ছবির মতো সুন্দর এই গণতান্ত্রিক দেশটায় চাইলেই যাওয়া সম্ভব হয় না। এর জন্য পর্যটকদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
তারেক
.jpg)
.jpg)
.jpg)