পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর আছে। আর সাগর আছে মোট ২৭টি। নদীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিশাল এ পৃথিবীর চার ভাগের এক ভাগ স্থল আর বাকি তিন ভাগেই রয়েছে জল।
বিজ্ঞানীদের দাবি, সমুদ্রের মাত্র ৫ শতাংশই আমরা জানতে পেরেছি। বাকি ৯৫ শতাংশই মানুষের অজানা। এই জানা ৫ শতাংশের মধ্যে আছে নানা ধরনের রহস্যময় মাছ। সেগুলোর ব্যাপারে শুনলে প্রথমে বিশ্বাস না-ও হতে পারে। কিন্তু ঘটনা আসলেই সত্যি। এ রকম অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য জানাচ্ছেন গুলশান হাবিব রাজীব
হাঙরের হাড় নেই
পৃথিবীতে রয়েছে ৫০০ প্রজাতিরও বেশি হাঙর। এসব হাঙরের দেহ হাড়ের পরিবর্তে কার্টিলেজ দিয়ে তৈরি। এটি নমনীয় ও মজবুত টিস্যু। এ কারণেই হাঙরের দেহ হালকা এবং এরা দ্রুত ছুটতে পারে। উল্লেখ্য, আমাদের নাক ও কানের ভেতরেও হাড়ের পরিবর্তে কার্টিলেজ থাকে।
.jpg)
জেলিফিশের মস্তিষ্ক নেই
অনেকেই মনে করেন স্টারফিশ ও জেলিফিশ মাছের নাম। আদতে এগুলো কোনো মাছ নয়, এরা সামুদ্রিক প্রাণী। উভয়েরই মস্তিষ্ক ও কঙ্কাল নেই। এরা সরল স্নায়ুতন্ত্রের সাহায্যে শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করে।

মাছ উড়ে যেতে পারে ১৬৪ ফুট
আমরা জানি সাধারণত পাখি উড়তে পারে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন মাছ ওড়ার কথা! এবার সে তথ্যই আপনাদের জানাচ্ছি। উড়ন্ত মাছ (flying fish) প্রকৃতির বিস্ময়কর ও আকর্ষণীয় এক প্রাণী। মাছ হয়েও এরা উড়তে পারে। হঠাৎ পানি থেকে লাফিয়ে উড়ে যেতে পারে প্রায় ১৬৪ ফুট বা ৫০ মিটার পর্যন্ত। এ জন্য এরা বিশেষায়িত পেক্টোরাল পাখনা ব্যবহার করে। শিকারের হাত থেকে বাঁচতে এরা উড়ে যায়।
.jpg)
বাচ্চা জন্মাতে ৪৮০০ কিলোমিটার পাড়ি
ইউরোপের কিছু প্রজাতির ইল মাছ আছে যারা বাচ্চা জন্মাতে নদী থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে সরগাসো সাগরে পৌঁছায়। এ সময় এদের প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নির্দিষ্ট নদীতে গিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে আবার ফিরে আসে আগের জায়গায়।

‘বোম্বে ডাক’ হাঁস নয়, মাছ!
বোম্বে ডাক (Bombay Duck) নামটা শুনলেই মনে হয় হাঁসের কোনো প্রজাতি। কিন্তু এটা আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের নাম। আরও মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে এই মাছ বেশ জনপ্রিয়। বাংলায় একে বলে লইট্টা। সাধারণত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল যেমন- বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর, দক্ষিণ ও ভারতীয় মহাসাগরে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। ব্রিটিশ আমলে ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে লইট্টা শুঁটকি মালগাড়ি মেইল ট্রেনে বোম্বে (মুম্বাই) আসত। ব্রিটিশরা এই লইট্টা শুঁটকির চালানকে বলত ‘মেইল’ বা ‘ডাক’। সেই থেকে এ মাছের নাম হয় ‘বোম্বে ডাক’।

সানফিশ বছরে ৩০ কোটি ডিম পাড়ে
বছরে প্রায় ৩০ কোটি ডিম পাড়ে সোর্ডফিশ মাছ। বাংলাদেশে এই মাছ ‘তলোয়ার মাছ’ নামেও পরিচিত। কিন্তু সানফিশ মাছ বছরে সোর্ডফিশের চেয়েও ১০ গুণ বেশি ডিম পাড়তে পারে, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩০ কোটি!
.jpg)
৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে হাঙর ছিল
গাছের চেয়েও আগে থেকে পৃথিবীতে আছে হাঙর। জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে হাঙর ছিল। আর গাছ এসেছে তার ৫ কোটি বছর পরে, অর্থাৎ ৩৫ কোটি বছর আগে। পৃথিবীর অনেক পরিবর্তনের পরেও সমুদ্রে এখনো হাঙর টিকে আছে।
ইলের শকে মৃত্যু হতে পারে ঘোড়ার
একটা ঘোড়া মেরে ফেলার মতো যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে ইল মাছ। প্রায় ৬০০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এ মাছ। আগে আমাজন বনে ইল মাছের শকে অনেক ঘোড়া মারা গেছে। অন্যান্য প্রাণীর পাশাপাশি মানুষের জন্যও বিপজ্জনক ইল মাছ। এ মাছের স্পর্শে সঙ্গে সঙ্গে হার্ট ফেল হয়ে মৃত্যু হতে পারে।
.jpg)
সেলফিশ ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে
পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির মাছের তালিকা করলে সবার প্রথমে নাম থাকবে সেলফিশের নাম। এরা ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এদের পাখনা বড় ও নরম হওয়ায় দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে।
তারেক
.jpg)
.jpg)
.jpg)