ইউরোপে আছে এক অদ্ভুত গ্রাম, যেখানে ৬ হাজার মানুষ শুধু একটি রাস্তা ব্যবহার করেন। রাস্তাটির দুপাশে সারি সারি বাড়িঘর। পোল্যান্ডে গেলে দেখা মিলবে চমৎকার এ গ্রামটির। আকাশ থেকে ড্রোন দিয়ে দেখলে অদ্ভুত সুন্দর লাগে গ্রামটির দৃশ্য।
প্রায় ৬ হাজার জনসংখ্যার গ্রাম সুলোসজোয়ার। এই গ্রামে সবাই একই রাস্তার পাশেই বসবাস করেন। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ৬ মাইল। রাস্তার দুই পাশে ঘরবাড়ি আর এর পেছনে বিশাল হলুদ, সবুজ এবং সোনালি খেত। যা দেখতে রঙিন ফিতার মতো মনে হয়। মনে হয় কেউ বুঝি এখানে হলুদ, নীল রঙের ফিতা বিছিয়ে রেখেছেন।
সুলোসজোয়া দক্ষিণ পোল্যান্ডের একটি গ্রাম। যা পোল্যান্ডের ক্রাকো শহর থেকে প্রায় ২১ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানকার প্রধান শিল্প হলো কৃষিকাজ। গ্রামের বাসিন্দারা পশুপালন করেন এবং গম জাতীয় ফসল চাষ করেন। স্থানীয় জীবন সাধারণত কৃষিকাজের ওপর আবর্তিত। স্ট্রবেরি ডে এবং পটেটো ডের মতো বার্ষিক ফসল উৎসব গ্রামবাসী একত্রে উদযাপন করে। গ্রামের একমাত্র মূল রাস্তার দুপাশে রয়েছে বহু রঙের ছাদসহ অদ্ভুত সুন্দর বাড়ি। আর এর পেছনেই গোলাঘর, পশুর খোঁয়াড় এবং ফসলি জমি। পোল্যান্ডের দীর্ঘতম গ্রামগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সুলোসজোয়া। ছোট এই গ্রামে সবাই সবাইকে চেনেন। এখানে সব ধরনের সুবিধাও রয়েছে। বয়স্কদের জন্য আছে সিনিয়র ক্লাব। আরও রয়েছে একটি বাজার চত্বর, মুদি দোকান, বেকারি, ব্যাংক এবং একটি ক্লিনিক।
সুলোসজোয়ার প্রথম ঐতিহাসিক উল্লেখ পাওয়া যায় ২৫ জানুয়ারি, ১৩১৫ সালের একটি নথিতে, যেখানে একটি ভূমির মালিকানায় গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছিল। ১৪০০ শতাব্দীতে, রাজা তৃতীয় ক্যাসিমির ক্রাকো থেকে সাইলেসিয়া অঞ্চলে বাণিজ্য করার জন্য পিসকোয়া স্কালা নামে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার রদবদল হয়। একসময় পোল্যান্ড স্বাধীনতা লাভ করে। সুলোসজোয়ার প্রান্তে অবস্থিত পিসকোয়া স্কালা দুর্গ আজও একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।
এই গ্রামে দর্শনার্থীরা সুবিশাল মাঠ এবং মনোরম গ্রামাঞ্চল উপভোগ করেন। পাশাপাশি এর কাছাকাছি গিরিখাত, খাড়া পাহাড়, গুহা এবং ২৫টি মধ্যযুগীয় দুর্গ পরিদর্শন করেন।
একটি একক রাস্তার পাশে গঠিত গ্রামকে রৈখিক বসতি বলা হয়। ইউরোপে এ ধরনের গ্রাম খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। নেদারল্যান্ডসেও একটি রৈখিক গ্রামকে ‘লিন্টডর্প’ বা ‘রিবন গ্রাম’ বলা হয় এবং জার্মানি এবং ফ্রান্সে যথাক্রমে ‘স্ট্রাসেনডর্ফ’ এবং ‘গ্রাম-রু’ বলা হয়। এই নামগুলোর অর্থ ‘রাস্তার গ্রাম’।
ওপর থেকে, সুলোসজোয়া একটি পাতার মতো দেখায়। ড্রোন ক্যামেরায় চমৎকার দৃশ্যের এই গ্রাম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। প্রতি বছর বসন্ত ও গ্রীষ্মে এখানে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসেন।
তারেক
.jpg)
.jpg)