হাইওয়ে-১০। এটি সৌদি আরবের এক মহাসড়কের নাম। বিশ্বের দীর্ঘতম সোজা রাস্তা হিসেবে হাইওয়ে-১০ পেয়েছে আলাদা পরিচিতি। এই মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার একেবারে সোজা। যার মধ্যে কোনো বাঁক, মোড় কিংবা উঁচু-নিচু নেই। আধুনিক রাস্তা নির্মাণ প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন এ পথটি।
এ রাস্তা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় হরধ থেকে পশ্চিম দিকের আল হাদিত সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। রাস্তার দুই পাশে শুধুই ধু-ধু মরুভূমি, নেই কোনো জনবসতি, নেই কোনো গাছপালা। যেন এক নির্জন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ হাইওয়ে। জানা যায়, প্রথমদিকে মূলত সামরিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হলেও বর্তমানে এটি সাধারণ জনগণের জন্যও উন্মুক্ত করা রয়েছে। রাস্তাটি একটানা সোজা মরুভূমির বুক চিরে চলে গেছে বহুদূর, যার দুই পাশে শুধু বালু আর নীরবতা ছাড়া কিছু নেই।
বিশ্বের বহু সড়কেই সোজা অংশ থাকে কিন্তু এমন নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৪০ কিলোমিটার সোজা পথ সত্যিই বিরল। পৃথিবীর দীর্ঘতম সোজা রাস্তা হিসেবে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক ও রোড ট্রিপপ্রেমীরা এ বিস্ময়কর রাস্তাটি দেখতে সৌদি আরবে ছুটে আসেন। এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং আধুনিক উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত এক নিদর্শন।
পথটি তৈরি করতে হয়েছে চরম আবহাওয়ার মোকাবিলা করে; যা ছিল ভীষণ কঠিন একটা ব্যাপার। কারণ বালুঝড়, উচ্চ তাপমাত্রা এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নতমানের কংক্রিট ও পিচ, যা দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। ড্রোন ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, একটি দীর্ঘ রেখার মতো এ রাস্তাটি মরুভূমির বুক চিরে চলে গেছে দিগন্তের দিকে।
কিছু কিছু গাড়িচালক এ রাস্তার পরীক্ষা নিতে এখানে গাড়ির সর্বোচ্চ গতি চেষ্টা করেন, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে স্পিড লিমিট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ রাস্তাকে নিয়ে প্রচুর ভিডিও, ছবি এবং ব্লগ তৈরি হচ্ছে। হাইওয়ে-১০ প্রমাণ করে, প্রকৃতির প্রতিকূলতা যতই বড় হোক না কেন, মানুষের কল্পনা, অধ্যবসায় ও প্রযুক্তি সবকিছু জয় করতে পারে। মরুভূমির নির্জনতাকে পেছনে ফেলে আধুনিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক স্পষ্ট দৃষ্টান্ত এ রাস্তা।
তারেক
.jpg)
.jpg)