গবেষক ও বিজ্ঞানীদের পাওয়া তথ্যমতে, পৃথিবীতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার প্রজাতির মাছের বসবাস রয়েছে। এর বেশির ভাগই রয়েছে সমুদ্রে। এসব সামুদ্রিক মাছের আকার-আকৃতি, আচার-আচরণ, স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য বিস্ময়কর তো বটেই, কোনো কোনোটা অদ্ভুত ও ভয়ংকরও। তেমনই এক মাছের নাম উড়ুক্কু (Flying fish)।
যার বৈজ্ঞানিক নাম Exocoetidae। উড়ুক্কু Beloniformes বর্গের একটি পরিবার। এসব মাছ সমুদ্রের উপরিভাগে অল্প দূরত্ব অবধি ওড়ার ক্ষমতা রাখে।
উড়ুক্কু মাছ সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলে এবং দ্রুত সাঁতার কাটে। এদের টর্পেডো আকৃতির দেহ পানিতে দ্রুত সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। তবে, অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এরা অনেক সময়ে সমুদ্রের পানির ঢেউ উঠলে ঢেউয়ের ওপরে চলে আসে। তখন পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়।
বাতাসের গতি বা ঢেউয়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে এরা বাতাসে বক্ষপাখনা ঝাপটিয়ে ৩০ সেকেন্ড অবধি ওপরে ভেসে থাকতে পারে। তবে এদের খুব বেশি উড়তে দেখা যায় না। কোনো কোনো উড়ুক্কু মাছের গতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি বা ৪৩ মাইলেরও বেশি হয়ে থাকে। পানির নিচে গড়পড়তা উড়ুক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। পানির উপরে ৩১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত তারা দিব্যি ভেসে বেড়াতে পারে!
উষ্ণমণ্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। এদের দৈর্ঘ্য লম্বায় ৬ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। তবে, তরুণ মাছগুলো যখন ২ ইঞ্চির মতো লম্বা হয় তখনি তারা লাফিয়ে লাফিয়ে উড়তে শুরু করে।
উড়ুক্কু মাছের ৪০ এরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। অনেক প্রজাতির দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি পেলভিক পাখনা থাকে। এদের টর্পেডো আকৃতির দেহের শেষের দিকে অপ্রতিসম লেজ থাকে। কাঁটা চামচের মতো দেখতে লেজের নিচের অংশ ওপরের অংশ থেকে বেশ লম্বা হয়ে থাকে। নিচের অংশের কশেরুকা বর্ধিত হয়ে লেজকে একরকম নৌকার হালের মতো তৈরি করে।
বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া সামুদ্রিক ৪৭৫ নানা প্রজাতির মাছের মধ্যে উড়ুক্কু মাছ অদ্ভুত এক সামুদ্রিক প্রাণী। এরা বঙ্গোপসাগরের অগভীর পানিতে বাস করে।
ওড়ার জন্য উড়ুক্কু মাছের কিন্তু কোনো ডানা নেই। আছে চ্যাটাল, ঢাউস, ফাঁপা বক্ষপাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা। এই বক্ষপাখনার সাহায্যেই বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। জানিয়ে রাখা ভালো, উড়ুক্কু মাছের এই ওড়াউড়ি কিন্তু প্রকৃত উড্ডয়ন নয়। একে বলে ‘গ্লাইডিং’। আরও সহজ করে বললে, বাতাসে ভেসে থাকা। উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু। এই মাছ বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোজ, ইন্ডিয়াতেও প্রচুর ধরা হয়।
তারেক
.jpg)
.jpg)
.jpg)