মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন এক গম্বুজ বিশিষ্ট গুরিন্দা জামে মসজিদ। এ মসজিদের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর লৌকিকতা। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গলাচিপা-উলানিয়া সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় গুরিন্দা খাল। ওই খালের পশ্চিম পাড় ঘেঁষে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গুরিন্দা জামে মসজিদ।
মসজিদের মূল ভবনটি প্রায় ৩৬০ বর্গফুট ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট বর্গাকৃতির। এর উচ্চতা প্রায় ১৬ ফুট। এটি একটি একতলা মসজিদ। মসজিদের ওপরে আছে বেশ বড় একটি গম্বুজ। একটি মাত্র গম্বুজ বলে এক গম্বুজ মসজিদও বলে থাকে। মসজিদটি ভূমি থেকে প্রায় চার ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে একই মাপের তিনটি খিলান দরজা রয়েছে মসজিদ ভবনের। মসজিদটির কয়েক ফুট দক্ষিণেই আলাদা ভিটির ওপর সাড়ে ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১১ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট একটি বৈঠকখানা।
ধারণা করা হচ্ছে, গুরিন্দা জামে মসজিদ বাকলা চন্দ্রদ্বীপ মুসলিম আধিপত্যের প্রায় সূচনালগ্নে নির্মিত হয়েছিল। ১৫৮৪ সালে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের অনেক আগেই গুরিন্দা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এ অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটে ১৪৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মোবারক শাহের চন্দ্রদ্বীপ বিজয়ের আগে। তখন হয়তো নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, নবাবি আমলে শিয়া মুসলমানদের যথেষ্ট প্রভাব বিস্তৃত হয়েছিল এ অঞ্চলে। ওই সময় শিয়া মুসলমানরা বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক জোড় মসজিদ নির্মাণ করে। হজরত আলী (রা.) এবং হজরত ফাতেমা (রা.)-এর নামে মসজিদ এবং মসজিদ সংলগ্ন বৈঠকখানাটি ওই সময়ই নির্মিত হয়েছে। সাদামাটা নির্মাণকাজ, মসজিদের আকার-আয়তন এবং ইট সুরকির ধরন দেখে অনুমান করা হয় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের প্রথম দিকেই হয়তো এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ঘন জঙ্গলে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল গুরিন্দা জামে মসজিদ। বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ ও জন্তু জানোয়ারের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল এটি। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় বাহাদুরপুরের পীরসাহেব বাদশাহ মিয়া ওই এলাকায় সফরে গিয়ে মসজিদ এলাকা আবাদ করে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য এলাকাবাসীকে বলে যান।
বর্তমানে প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন। কেউ আসেন ছবি তুলতে আবার কেউ আসেন মানত পূরণ করতে। মসজিদের দানবাক্সে টাকা, শিন্নি দিয়ে যান। কিন্তু মসজিদটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। যেকোনো সময় ভেঙে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গুরিন্দা জামে মসজিদটি এখন অরক্ষিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগ নজর দিলে গুরিন্দা মসজিদের স্থাপত্যশৈলী থেকে উদঘাটিত হতে পারে প্রত্নতত্ত্বের মূল্যবান রহস্য। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করাও সম্ভব।
তারেক/
.jpg)
.jpg)