ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায় ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নারী-শিশুসহ নিহত ৪ ধামরাইয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা
Nagad desktop

পাঠকের লেখা : ঘটকের তেলেসমাতি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
পাঠকের লেখা : ঘটকের তেলেসমাতি
ছবি: খবরের কাগজ

আমাদের পাশেই একজন ঘটকের বসবাস। তিনি একখানা খিলি পান মুখে দিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে তার চেম্বারে বসেন। তিনি যেখানেই বসেন তা হয় মজমার মতো বিলাসী টাইপের। তার গানের হারমোনিয়াম রয়েছে। হেঁড়ে গলায় হোক আর সুরেলা রাত ৮টার পর তার চেম্বারে গানের জলসা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের লোকের আগমন ঘটে তার কাছে।

তিনি গানের সুরে সুরে তার একটি নিজস্ব জগৎ গড়ে তুলেছেন। তাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়ে খুঁজতে হয় না। তার চেম্বারে যারা যারা আসেন তারাই তাকে গানের ফাঁকে ফাঁকে ফিসফিস করে বলতে থাকেন ঘটক সাব, অমুক গ্রামে একখান মেয়ে আছে। মেয়ের বাপের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি তখন গানের মুডে থাকলেও কান খাড়া করে ঠিকই তথ্যটি তার মনে ধরে রাখেন। মজমা শেষে তা নোটবুকে লিখে রাখেন। আবার কেউ গান শুনতে শুনতে কারও ছেলের সংবাদ দেন। তার মজমার কোনো সদস্যকে কেউ ছেলের জন্য মেয়ে দেখার কথা বললেই তারা মুজিবর ঘটকের কাছে নিয়ে আসেন। এক কথায় বলা যায়, তার বিবাহের যত ধরনের তেলেসমাতি রয়েছে তা গানের আসরের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এটা না হয় বাড়ির আশপাশের ঘটনার কথা বললাম। অনেক দূরের ছেলেমেয়ের খোঁজখবরের জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। অন্যান্য উপজেলায় প্রথমে সেখানকার একজন ঘটককে তিনি খুঁজে বের করেন। তারপর তিনি তাকে তার গানের মজমায় দাওয়াত করেন। অন্য এলাকার ঘটকও এমন দাওয়াত পেয়ে আসতে মিস করেন না। এসেই তার মায়াজালের ফাঁদে আটকে যান। তার গানের আসর শেষ হওয়ার পর সেখানে থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। দূরের ঘটকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির পর তাকে দিয়ে তার আরও দূরের ঘটককে খবর দেওয়া হয়। এভাবে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘটকের বিরাট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন ঘটক ভাই।

তবে তার মুখের জাদুতে চোখের পলকে তিনি একটি কালো মেয়েকে অপ্সরা বানিয়ে ফেলেন। তিনি যখন কোনো মেয়ের বর্ণনা দেন মনে হবে মেয়েটি সিনেমার ঐশ্বরিয়া রায়। মানুষও তার কথায় পড়ে মেয়ে দেখতে চায়। মেয়ের বাবাকে তার একটাই কথা, মেয়েকে খুবই সাজিয়ে-গুছিয়ে তবেই দেখাতে নিয়ে আসবেন। আর দেখতে আসলে খাওয়ানিটা দিতে হবে লাখে একটা খাওন। তাতেই বেশির ভাগ ছেলের বাবা-চাচারা পটে যান। খাওয়ানি দেখেই মেয়ের রূপ-বৈচিত্র্য কেমন তা দেখতে ভুলে যান তারা। এসবই ঘটকের আলাদা একটা তেলেসমাতি বৈশিষ্ট্য। 

তবে মেয়ের বাবা যদি স্বর্ণ-গহনা দিতে কিছুটা কার্পণ্য করে থাকেন। তখন তিনি হঠাৎ করে বলে বসেন আজ থেকে মেয়ে আমার। এ মেয়ের স্বর্ণ-গহনা যা লাগে আমি দেব। এদিকে ছেলের বাবাকে মেয়ের জন্য স্বর্ণ-গহনা দেওয়ার পটভূমিটা আবার ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কোনো ছেলের বাবা যদি একটু স্বর্ণ কম দিতে চান তখন মেয়ের বাবাকে রাজি করাতে বলেন, ঠিক আছে মিয়া সাহেব স্বর্ণ ২০ ভরি চাইছেন ২০ ভরিই দেওয়া হবে। ১৫ ভরি আসল আর ৫ ভরি খাইট। তার এ কথাতেই মজলিসের সবাই হো হো করে হেসে উঠে আর রাজি হয়ে যায়। ঘটকের হাত দিয়ে কম করে হলেও হাজারের ওপর ছেলেমেয়ের জুড়ি বন্ধন হয়েছে। তার রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। আগে ঘটক চলাচল করতেন সাইকেল দিয়ে। মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলের বাড়ি যেতে তার হাতে কয়েক শ টাকা খরচ বাবদ ধরিয়ে দিলেই তার দুই চাকার সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি এখন নিজস্ব হোন্ডায় চলাচল করে থাকেন।

তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো- তার হাতে কয়েকটি সুন্দরী মেয়ে রয়েছে, তার জলসা ঘরের শোভা হিসেবেই তাদের আনাগোনা। বিশেষ খানাপিনার জন্য কেউ যদি মেয়ে দেখতে চায় তখন তাদের তিনি দেখিয়ে দেন। মেয়ে দেখে, খাওয়া-দাওয়ার পর যা বকশিশ পাওয়া যায় তা দিয়েই মজমায় চলে বিশেষ আয়োজন। 

ঘটকের হাজার বিয়েতে রয়েছে হাজার রকমের অভিজ্ঞতা। সব ছেলে এসেই তার কাছে সুন্দর মেয়ে খোঁজ করে থাকেন। কিন্তু দেশের কালো-ধলো কোনো মেয়েরই তো বিবাহ বাকি থাকে না। কেউ শ্যামলা পছন্দ করেন আবার কেউ ধলা। কেউ লম্বা আবার কেউ খাটো। এ জগতে যদি সব মেয়েই ফর্সা আর সুন্দর হতো তাহলে অনেক মেয়ের বাবাকেই সমস্যায় পড়তে হতো। কারণ, সব ছেলেই ফর্সা পছন্দ করেন না। একেকজনের কাছে একেক ধরনের মেয়ে পছন্দ। জগৎজুড়ে বাহারি ধরনের মেয়ে সৃষ্টিকর্তা সৃজন করেছেন। তার আদল আর রূপের বলয়ে রয়েছে সৃষ্টির নিপুণ কারুকার্যময়তা। 

তবে আমাদের শহরগুলোতে এখনো মেয়ে দেখানো নিয়ে রয়েছে প্রতারণার নানা কূটকৌশল। সেখানে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয় সামাজিক যোগাযোগমাধমে। তাতেই প্রতারণার জালে সাধারণ মানুষ ফেঁসে যায়। কেউ বেকার ছেলেকে বিদেশ নিতে চায়। নিয়ে কারও কারও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। আবার কোনো যুবতী সুন্দরী ডিভোর্সি মেয়ে বয়স্ক পাত্র চেয়ে মাকড়সার জালের মতো ফাঁদ পাতেন। সেখানেও চলে বড় ধরনের প্রতারণা। তাই বাস্তব জগতে একটি ভালো মেয়ে পাওয়া যেন আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতোই। রূপলাবণ্যে যাই হোক। একটি সংসারী মেয়েই একটি ছেলের জীবন ধন্য করার মতো হতে পারে। কিন্তু এখন অনেক চাকরিজীবী মেয়ে বেশিদিন সংসার করতে পারেন না। তারা একা থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। তাদের বয়স হলেও বিয়েতে আগ্রহী হন না এখন। আবার বিয়ে করলেও তাদের ডিভোর্সের পরিমাণ আমাদের সমাজে অনেক বেশি।

অদূর ভবিষ্যতে চাকরিজীবী ৪৫ শতাংশ মেয়েই বিয়ে এবং মা হওয়া থেকে বিরত থাকার ভয়াবহতা গবেষণায় উঠে এসেছে। একজন ঘটকের ছেলেমেয়ের মেলবন্ধন আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত হতে বসেছে। ঘটকের আক্ষেপ আমাদের অনেক ভাবায়। এখন অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের চেয়ে লাভ ম্যারেজেই বেশি। ছেলেমেয়ে পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনাও কম নয়। তাই তো আমাদের ঘটক ফেসবুক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর এখন বেজায় নাখোশ হয়েছেন। তাদের কারণেই তার ব্যবসায় এখন লালবাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে।

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ। 

 

তারেক/

গরম গরম শিঙাড়া

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
গরম গরম শিঙাড়া
ছবি: সংগৃহীত

সকালের নাশতা থেকে শুরু করে অফিসের ব্যস্ত সময়ের ছোট্ট বিরতি কিংবা বিকেলের প্রাণবন্ত আড্ডা–শিঙাড়া যেন সব মুহূর্তেরই প্রিয় সঙ্গী। ঝুমবৃষ্টি হোক বা প্রচণ্ড রোদ, এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারের আবেদন কখনো ফিকে হয় না। মচমচে ও খাস্তা আবরণে মোড়া আলু, বাদাম ও সুগন্ধি মসলার পুর, আর তার সঙ্গে টক-মিষ্টি চাটনির দারুণ সমন্বয় তৈরি করে অনন্য এক স্বাদ। এমন স্বাদের শিঙাড়া খেতে বসলে অনেক সময় নামি রেস্তোরাঁর বাহারি খাবারও যেন হার মানতে বাধ্য হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, শিঙাড়ার প্রাচীন রূপ ছিল ‘সাম্বোসা’ বা ‘সাম্বুসাক’ যা পারস্য অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় দশম থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যে এই খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন পারস্য ও আরবি সাহিত্যে। সে সময় এটি ছিল মাংস, বাদাম ও মসলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ভাজা পিঠা, যা রাজদরবার ও ধনী সমাজে পরিবেশন করা হতো।

আরো পড়ুন: অদ্ভুত এক কবরের গল্প

পরবর্তী সময়ে মুসলিম শাসকদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে শিঙাড়ার আগমন ঘটে। দিল্লি সালতানাতের সময় (১৩০০ শতাব্দী) মধ্য এশিয়া থেকে আগত ব্যবসায়ী ও শাসকরাই এই খাবার নিয়ে আসেন। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকাহিনিতেও ‘সাম্বুসাক’-এর উল্লেখ করেছেন, যা সে সময়ের রাজকীয় ভোজে পরিবেশন করা হতো।

বাংলায় এসে শিঙাড়া সম্পূর্ণ নতুন এক পরিচয় পায়। এখানে মাংসের পরিবর্তে আলু, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, বাদাম ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি পুর ব্যবহার শুরু হয়। 

কম খরচে পেট ভরানোর উপযোগী হওয়ায় এটি দ্রুতই সাধারণ মানুষের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়। বিশেষ করে কলকাতা ও ঢাকার মতো শহরে শিঙাড়া হয়ে ওঠে বিকেলের নাশতার প্রধান আকর্ষণ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে শিঙাড়ার কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও দেখা যায়। ঢাকার শিঙাড়া সাধারণত ছোট আকারের এবং ভেতরে থাকে আলু, মটরশুঁটি ও কখনো ডিম বা কলিজার কিমা। অন্যদিকে কলকাতার শিঙাড়া তুলনামূলক বড় এবং এতে কাজুবাদাম, কিশমিশ বা ফুলকপিও ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো কোনো জায়গায় শিঙাড়ার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় টক-ঝাল তেঁতুল চাটনি, সরিষা-তেঁতুলের তৈরি টক বা টমেটো সস, যা এর স্বাদকে বাড়িয়ে তোলে কয়েকগুণ।

শিঙাড়ার জনপ্রিয়তার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো এর সহজলভ্যতা ও বহুমুখিতা। এটি যেমন ঘরে সহজে তৈরি করা যায়, তেমনি রাস্তার পাশের দোকানেও সহজে পাওয়া যায়। আর তাই শিঙাড়া দিন দিন হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ।

তারেক/

বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাজিলিয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল এক সড়ক। নাম মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস (Monumental Axis) বা পর্তুগিজ ভাষায় ইক্সো মনুমেন্টাল (Eixo Monumental)। প্রায় ২৫০ মিটার প্রশস্ত এই সড়ককে বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত রাস্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক নগর পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় স্থাপত্য এবং ভবিষ্যৎমুখী শহর নির্মাণের এক অনন্য প্রতীক এটি।

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস শুধু একটি রাস্তা নয়; এটি পুরো ব্রাজিলিয়া শহরের মূল অক্ষ, প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। বিশাল এই সড়কটি পূর্ব দিকে অবস্থিত ন্যাশনাল কংগ্রেস অব ব্রাজিল থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোর মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে।

পরিকল্পিত রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু

১৯৫৬ সালে ব্রাজিল সরকার দেশটির রাজধানী উপকূলীয় শহর রিও দি জেনেইরো (Rio de Janeiro) থেকে দেশের অভ্যন্তর ভাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের উন্নয়নকে ভৌগোলিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং নতুন এক আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলা।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Juscelino Kubitschek-এর নেতৃত্বে শুরু হয় ব্রাজিলিয়া নির্মাণ প্রকল্প। তার বিখ্যাত উন্নয়ন স্লোগান ছিল ‘পাঁচ বছরে ৫০ বছরের অগ্রগতি’। সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এই সড়কটি।

আরো পড়ুন: যেসব দেশে বিমানবন্দর নেই

শহরের মূল নকশা তৈরি করেন খ্যাতিমান নগর পরিকল্পনাবিদ লুসিও কোস্টা। তার পরিকল্পনায় শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যাতে আকাশ থেকে দেখতে এটি অনেকটা উড়োজাহাজ বা পাখির মতো মনে হয়। সেই নকশার মূল অক্ষই হলো মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস।

অন্যদিকে শহরের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ভবনগুলোর নকশা করেন বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি অস্কার নেইমার। তার আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যশৈলী ব্রাজিলিয়াকে বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।

বিশালতা ও নান্দনিকতার মিশেল

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিসের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর বিশাল প্রস্থ। প্রায় ২৫০ মিটার প্রশস্ত এই সড়কের দুই পাশে সমান্তরালভাবে একাধিক লেনের রাস্তা রয়েছে। মাঝখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের প্রান্তর বা ‘এসপ্ল্যানেড’। ফলে এটি শুধু যান চলাচলের পথ নয়, বরং একটি উন্মুক্ত নগর-অঙ্গন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিশাল খোলা জায়গা, সমান্তরাল স্থাপত্য এবং দীর্ঘ সোজা সড়ক ব্রাজিলিয়াকে এক ভবিষ্যৎমুখী নগরীর আবহ দেয়। রাতে আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কোনো শহরের দৃশ্য হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রীয় স্থাপত্যের প্রদর্শনী

মনুমেন্টাল অ্যাক্সিসের দুই পাশে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো Esplanada dos Ministérios, যেখানে দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভবন অবস্থিত।

এছাড়া রয়েছে Cathedral of Brasília, Praça dos Três Poderes, Brasília TV Tower, Estádio Nacional Mané Garrincha. এসব স্থাপনা আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

ইউনেসকোর স্বীকৃতি

পরিকল্পিত আধুনিক রাজধানী হিসেবে ব্রাজিলিয়া বিশ্বে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৭ সালে ইউনেসকো শহরটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি ছিল বিংশ শতাব্দীতে নির্মিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রথম নগর, যা এই স্বীকৃতি অর্জন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলিয়া এবং মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস আধুনিকতাবাদী নগর পরিকল্পনার অন্যতম সফল উদাহরণ। প্রশস্ত রাস্তা, খোলা সবুজ এলাকা এবং পরিকল্পিত প্রশাসনিক বিন্যাস শহরটিকে অন্য যেকোনো রাজধানী থেকে আলাদা করেছে।

কিছু সমালোচনা

তবে এই বিশাল সড়ক ও গাড়িকেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও আছে। অনেক নগরবিদের মতে, শহরটি পথচারীবান্ধব নয়। বিশাল দূরত্ব এবং প্রশস্ত সড়ক শহরটিকে মানুষের হাঁটার চেয়ে গাড়িনির্ভর করে তুলেছে। ফলে নগরজীবনের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা কম বলে মত দেন সমালোচকরা।

তবু মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস আজও বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় নগর পরিকল্পনার নিদর্শন। এটি কেবল ব্রাজিলের প্রশাসনিক শক্তির প্রতীক নয়; বরং আধুনিক স্থাপত্য, নান্দনিকতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বপ্নেরও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

তারেক/

তারার দেশে সাইকেল যাত্রা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
তারার দেশে সাইকেল যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

রাতের নিস্তব্ধতায় আপনি সাইকেল চালিয়ে এগিয়ে চলেছেন। চাকার নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার জ্বলজ্বলে নক্ষত্র। আপনার চারপাশে এক মায়াবী নীল আভা। মনে হবে, ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের কালজয়ী সৃষ্টি ‘দ্য স্টারি নাইট’ (The Starry Night) বুঝি আকাশ থেকে নেমে এসে আশ্রয় নিয়েছে আপনার পায়ের তলায়। তবে এটি কোনো অলীক কল্পনা নয়। এটি নেদারল্যান্ডসের আইন্দহোভেন শহরের এক বাস্তব ও জাদুকরী সাইকেল পথ–যার নাম ‘ভ্যান গগ-রুসেগার্ড সাইকেল পথ’।

এই অনন্য পথটি ডাচ ডিজাইনার ড্যান রুসেগার্ড এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হাইজম্যানসের যৌথ এক শিল্পকর্ম। রুসেগার্ড এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘টেকনো-পোয়েট্রি’ বা প্রযুক্তি ও কবিতার মেলবন্ধন। এই রাস্তার নির্মাণশৈলী সাধারণ পথের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে হাজার হাজার ছোট লুমিনেসেন্ট বা স্ব-আলোকিত পাথর। এই বিশেষ পাথরগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো দিনের বেলা তীব্র সূর্যালোক শুষে নিয়ে শক্তি জমা রাখে। আর যেইমাত্র অন্ধকার নামে, অমনি পাথরগুলো নীল ও সবুজ আভায় জ্বলতে শুরু করে। এটি কোনো কৃত্রিম বিদ্যুৎ বা তারের সংযোগ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে, যা একে বিশ্বের অন্যতম টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল

এ পথটি তৈরির পেছনে কেবল আধুনিকতার ছোঁয়া নেই, আছে গভীর ঐতিহাসিক আবেগ। নেদারল্যান্ডসের উত্তর ব্রাবান্টে অবস্থিত এই অঞ্চলটি শিল্পী ভ্যান গগের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, আইন্দহোভেন এবং নুইনেন এলাকার মাঝামাঝি ওপওয়েন এবং কোলেন ওয়াটারমিলের সংযোগস্থলে এই পথটি তৈরি। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে যে, ভ্যান গগ নিজে তার চিত্রকর্মে এই দুটি ওয়াটারমিলকে অমর করে রেখেছিলেন। ২০১৫ সালে শিল্পী ভ্যান গগের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। সেই মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে এই নান্দনিক পথটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

রাতের অন্ধকারে সাইকেল চালানো প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু রুসেগার্ডের এই উদ্ভাবন সেই ভয়ের জায়গাটিকে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় বদলে দিয়েছে। এটি তার উচ্চাভিলাষী ‘স্মার্ট হাইওয়ে’ (Smart Highway) প্রকল্পের একটি অংশ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো–আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ রাস্তাগুলোকে কেবল দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা থেকে নিরাপদ করে তোলা নয়, বরং সেগুলোকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নান্দনিক করে তোলা। সাইকেল আরোহী যখন এই পথ দিয়ে যান, তিনি কেবল গন্তব্যে পৌঁছান না, বরং এক অপার্থিব জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা পথে এক মায়াবী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।

সৃজনশীলতা এবং দূরদর্শী চিন্তার এই দারুণ সমন্বয় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি ডাচ ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড এবং অ্যাকসেঞ্চার ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের মতো বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয় করেছে। আজকের দিনে এটি কেবল নেদারল্যান্ডসের এক গর্বের জায়গা নয়, বরং সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে একটি ‘বাকেট লিস্ট’ গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের অনেক শহরই এখন এই মডেল অনুসরণ করে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার কথা ভাবছে।

ভ্যান গগ-রুসেগার্ড সাইকেল পথ আমাদের নতুন করে একটি বার্তা দেয়। আমরা প্রায়ই প্রযুক্তিকে দেখি যান্ত্রিকতা বা শীতল যন্ত্রের সমার্থক হিসেবে। কিন্তু এই পথটি প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সঙ্গে যদি শিল্পের ছোঁয়া থাকে, তবে তা ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে কতটা জীবন্ত করে রাখতে পারে। এটি আধুনিক সভ্যতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন, যেখানে প্রযুক্তি কেবল মানুষের প্রয়োজন মেটায় না, বরং মানুষের কল্পনাশক্তিকেও স্পর্শ করে।

নেদারল্যান্ডসের এই পথে সাইকেল চালানো মানে কেবল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া নয়; এটি যেন এক মহাজাগতিক যাত্রার অংশ হওয়া। যেখানে প্রতিটি প্যাডেলে চাকা ঘোরে, আর নিচে জ্বলে ওঠে এক টুকরো নক্ষত্র।

তারেক/

আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ভাঙা দুর্গ’
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গর্জন, খাড়া পাথুরে উপকূল আর প্রকৃতির অলৌকিক শিল্পকর্ম, সব মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা দান ব্রিস্টে (Dún Briste) যেন পৃথিবীর এক বিস্ময়। 

আইরিশ ভাষায় ‘Dún Briste’ শব্দের অর্থ ভাঙা দুর্গ। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এর জন্মের ইতিহাস, বিচ্ছেদের কাহিনি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলা প্রকৃতির নির্মম সৌন্দর্য।

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি মেয়র উত্তর উপকূলে অবস্থিত ডাউনপেট্রিক হেড এলাকায় এই বিখ্যাত সামুদ্রিক স্তম্ভ বা sea stack-এর অবস্থান। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০ মিটার দূরে আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাথুরে স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার বা ১৫০ ফুট। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সমুদ্রের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে এক রহস্যময় দুর্গের ধ্বংসাবশেষ।

আরো পড়ুন: মিলনের পরই গিলে খায় পুরুষ সঙ্গীকে!

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, দান ব্রিস্টের শিলাগুলো প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে গঠিত হয়েছিল। স্তরীভূত পাললিক শিলার এই গঠন প্রকৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের এক জীবন্ত সাক্ষী। কোটি কোটি বছর ধরে বাতাস, বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ উপকূলকে ক্ষয় করতে করতে একসময় এই অংশটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেয়।

ইতিহাস বলছে, ১৩৯৩ সালে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাকৃতিক পাথরের খিলানটি ধসে পড়ে। সেই ঘটনার পর থেকেই দান ব্রিস্টে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় কয়েকজন মানুষ সেখানে আটকা পড়েছিলেন। পরে দড়ির সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাস্তব হোক কিংবা লোককথা, এই গল্প এখনো স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে।

এই দান ব্রিস্টে ঘিরে রয়েছে ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনিও। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের সময় সেন্ট প্যাট্রিক এক অবাধ্য পৌত্তলিক সর্দারের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে তার লাঠি দিয়ে ভূমিতে আঘাত করেছিলেন। আর সেই আঘাতেই নাকি মূল ভূখণ্ডের অংশ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয় এই বিচ্ছিন্ন পাথুরে স্তম্ভ। যদিও এটি নিছক লোকগাথা, তবু দান ব্রিস্টের রহস্যময় আবহকে আরও গভীর করে তুলেছে এই কাহিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই এই পাথুরে দ্বীপটি মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮০ সালে একদল বিজ্ঞানী হেলিকপ্টারের সাহায্যে এর সমতল চূড়ায় অবতরণ করেন। সেখানে তারা প্রাচীন পাথরের নির্মাণ, দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ এবং মানব বসতির বিভিন্ন নিদর্শন খুঁজে পান। ধারণা করা হয়, বহু শতাব্দী আগে মানুষ এখানে বসবাস করত অথবা এটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

বর্তমানে দান ব্রিস্টে শুধু একটি ভূতাত্ত্বিক বিস্ময় নয়, এটি বহু সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলও। পাফিন, কিটিওয়াক, ফুলমারসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখি এখানে বাসা বাঁধে। মাঝে মাঝে আশপাশের সমুদ্রে সিলও দেখা যায়। ফলে এটি পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য।

প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ডাউনপেট্রিক হেডে ভিড় জমান শুধু এই বিস্ময়কর দৃশ্যটি একনজর দেখার জন্য। উপকূলে নির্মিত নির্দিষ্ট ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম থেকে দান ব্রিস্টেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় আটলান্টিকের সোনালি আলো যখন পাথরের গায়ে পড়ে, তখন পুরো দৃশ্যটি যেন জীবন্ত কোনো চিত্রকর্মে পরিণত হয়।

আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও নগর সভ্যতার বিস্তারের মধ্যেও দান ব্রিস্টে আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির শক্তি কতটা গভীর এবং সময় কতটা বিশাল। কোটি বছরের ইতিহাস নিজের শরীরে ধারণ করে আটলান্টিকের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ‘ভাঙা দুর্গ’ আজও নীরবে বলে যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, ধ্বংস আর পুনর্জন্মের গল্প।

তারেক/

কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
কোন দেশে কত পশু কোরবানি হয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু হিসেবে সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এবং উট ব্যবহৃত হয়। দেশ ও সংস্কৃতিভেদে কোরবানির পশুর ধরন এবং সংখ্যা ভিন্ন হয়। নিচে কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশে কোরবানির পশুর সংখ্যার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো–

বাংলাদেশ: বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মুসলিম বাস করে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১ কোটির বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে, যার মধ্যে গরু এবং ছাগলের সংখ্যা বেশি।

সৌদি আরব: সৌদি আরবে হজের সময় প্রচুর পশু কোরবানি হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সে বছর প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য প্রায় ১০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এর মধ্যে ভেড়া এবং ছাগলের সংখ্যাই বেশি। ২০২৫ সালেও সৌদি আরবে ১০ থেকে ১১ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। এছাড়া ঈদুল আজহার দিন সাধারণ সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে থাকা অন্য মুসলিমরা কয়েক লাখ পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুন: তিমির দুধ পানিতে মিশে না!

পাকিস্তান: পাকিস্তানে প্রায় ২৪ কোটি মুসলিম বাস করে, যা দেশটির জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ। এখানে কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ; যার মধ্যে গরু, ছাগল, ভেড়া এবং উট অন্তর্ভুক্ত। শীতপ্রধান অঞ্চলে দুম্বার কোরবানি বেশি প্রচলিত।

ইন্দোনেশিয়া: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২০ দশমিক ৩ কোটি) মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানির পশুর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ। এখানে গরু এবং ছাগল প্রধানত কোরবানি করা হয়।

ইরান ও তুরস্ক: এই দেশগুলোয় প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ পশু কোরবানি করা হয়। ইরানে গরু ও ভেড়া এবং তুরস্কে ভেড়া ও ছাগল বেশি জনপ্রিয়।

তারেক/