পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যানাকোন্ডা। দক্ষিণ আমেরিকার জলাভূমি ও নদীর গভীরে আছে এক সবুজ প্রজাতির অ্যানাকোন্ডা। এটিও আকারের দিক থেকে বেশ বড়। এই প্রজাতির স্ত্রী সাপগুলো পুরুষ সাপের তুলনায় বেশ বড় হয়। এরা ২৯ ফুটেরও বেশি লম্বা, ৫৫০ পাউন্ডেরও বেশি ওজন এবং ১২ ইঞ্চিরও বেশি ব্যাস ধারণ করতে পারে। স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা যত বড় হবে, সে তত বেশি সন্তান উৎপাদন করতে পারবে এবং গর্ভাবস্থায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার তত বেশি খাবারের প্রয়োজন হবে। তবে এই স্ত্রী অ্যানাকোন্ডার এক ধরনের অভ্যাস আছে। যা শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে সত্য। প্রজনন ঋতুতে মিলনের পর স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা তার পুরুষসঙ্গীকে খেয়ে ফেলে।
সঙ্গীকে খেয়ে ফেলার ঘটনা প্রাণিজগতে বিরল হলেও, স্ত্রী সবুজ অ্যানাকোন্ডার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। প্রজনন ঋতুতে একটি স্ত্রী সবুজ অ্যানাকোন্ডা ফেরোমোন নিঃসরণ করে, যা একাধিক পুরুষকে আকর্ষণ করে। কখনো কখনো এক ডজন পর্যন্ত প্রজনন বল তৈরি করে। এ সময় তারা পুরুষসঙ্গী খুঁজে বেড়ায়। একটি সবুজ অ্যানাকোন্ডা সাপ কয়েক ডজন বাচ্চা দিতে পারে। এতে সাত মাস গর্ভধারণ করতে হয়। কিন্তু মিলনের পর স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা তার পুরুষসঙ্গীকে টেনে নিয়ে যায় এবং খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক আলোকচিত্রী ও প্রাণিবিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি খেয়াল করেছেন।
নিজের জাতের প্রাণীকে খাওয়া বা নরমাংসভোজী প্রবণতা স্বাভাবিক নয়। তবে সবুজ অ্যানাকোন্ডাদের মধ্যে এটি ঘটে এবং এটি মূলত বেঁচে থাকার কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে একজন জীববিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করেছেন যে, গর্ভাবস্থার দীর্ঘ উপবাসের ঠিক আগে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করার ইচ্ছে থেকেই স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। স্ত্রী অ্যানাকোন্ডার শরীরের ত্রিশ শতাংশ শক্তি ব্যয় হয় বাচ্চা জন্মানোর জন্য। সে পর্যায়ে যাওয়ার আগে সাত-আট কেজি মাংস খায় স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা। এটি আকারে পুরুষ অ্যানাকোন্ডার তুলনায় বড় হওয়াও একটি কারণ হতে পারে।
তবে স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা যে সব সময় পুরুষসঙ্গীকে খায় এমন নয়। এমন ঘটনা খুব কম দেখা যায়। বরং এই ধরনের ঘটনাকে ব্যতিক্রম ধরা হয়। এ ধরনের ঘটনা খুব কমই দেখা যায় এবং বন্য অঞ্চলে বেঁচে থাকার অসুবিধার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তারেক/
.jpg)
.jpg)
.jpg)