শরীরের অঙ্গ ব্যবসার ঘটনা নতুন কিছু নয়। মানবপাচারকারীসহ অনেকে বিভিন্নভাবে অঙ্গ ব্যবসা করেন। বিশেষ করে দারিদ্র্যের কারণে কিডনি বিক্রি করার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। সেসব ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্বের বুকে এমন এক গ্রাম আছে যে গ্রামের প্রায় সবাই তাদের কিডনি বিক্রি করে দেয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালের সেই গ্রামের নাম হোকসে। তবে এখন গ্রামটিকে সবাই ‘কিডনি ভ্যালি’ নামেই চিনে থাকে।
নেপালের কাঠমান্ডুর পূর্বে ছায়াময় পাহাড়ের পাদদেশে হোকসে গ্রামটি অবস্থিত। এই গ্রামের একটি সাধারণ গ্রামীণ সম্প্রদায় বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। কয়েক দশক ধরে মাটির ইটের ঘরের গ্রামটি ‘কিডনি ভ্যালি’ নামে ভয়াবহ ডাকনাম অর্জন করেছে। কারণ, দারিদ্র্য এবং প্রতারণার কারণে এর অনেক বাসিন্দা তাদের একটি কিডনি কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। নেপালের কাভ্রেপালানচক জেলার হোকসে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলো দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক দুর্দশা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং নিম্ন কৃষি আয়ের সঙ্গে লড়াই করে আসছে। ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে অঙ্গ বিক্রির দালাল চক্র কিডনির অবৈধ ব্যবসা বিশ্বব্যাপী চালিয়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে কার্যক্রম বিস্তার করে। তারা দরিদ্র, নিরক্ষর গ্রামবাসীকে বোঝাতে শুরু করে যে একটি কিডনি ত্যাগ করলে তাদের আর্থিক সমস্যা সমাধান হবে অথবা এমনকি মিথ্যা দাবিও করেছিল যে, কিডনি পরে পুনরুজ্জীবিত হবে।
২০১০ সালে হোকসের ৩০০ জনেরও বেশি বাসিন্দা ভারতের কিডনি কালোবাজারিদের কাছে সামান্য অর্থের বিনিময়ে কিডনি বিক্রি করে দেয়। কিডনির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে তারা তাদের একটি কিডনি বিক্রি করেছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে গ্রামের একটি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্য কিডনি বিক্রি করেছিলেন।
অনেক গ্রামবাসী কিডনি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন এই আশায় যে, তারা বাড়ি তৈরি করতে, ব্যবসা শুরু করতে অথবা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে যথেষ্ট অর্থ পাবেন। তবে বাস্তবতা পুরোই ভিন্ন। কেউ কেউ প্রতিশ্রুত অর্থের খুব সামান্য অংশই পেয়েছিলেন এবং বাকি অর্থ ভ্রমণ, খাবার বা দালালদের মাধ্যমে আরোপিত খরচের জন্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিডনি বিক্রি করায় তাদের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। একটি কিডনি অপসারণের ফলে অনেক গ্রামবাসী বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হন। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা হ্রাস। ডাক্তাররা সতর্ক করে দিয়েছেন যে একটি কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আজীবন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, যা বেশির ভাগ গ্রামবাসীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
নেপালের আইনে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি কঠোরভাবে অবৈধ। তবু দালালরা আইনের ফাঁকফোকর গলে কিডনি বিক্রি করছেন। দরিদ্র গ্রামবাসী বিভিন্ন খপ্পরে পড়ে তাদের কিডনি বিক্রি করে, যা চরম দারিদ্র্য ও শোষণের এক নির্মম দৃষ্টান্ত।
তারেক/
.jpg)
.jpg)