কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। দিন দিন বাড়ছে চাষের পরিধি। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তারা। মৌসুম শুরুর তুলনায় এখন লাউয়ের দামও বাড়তি, ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দাউদকান্দি উপজেলায় এবার প্রায় ১২০ একর জমিতে হাইব্রিড ও দেশি জাতের লাউ চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০০ পিস। হিসাব অনুযায়ী এসব লাউয়ের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি। চাষ বেশি হয়েছে কদমতলী, গোলাপের চর, হাসানপুর, বিটেশ্বর, রায়পুর, গোয়ালমারী, মালিগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামে।
কৃষকরা জানান, অন্যান্য সবজির তুলনায় লাউ এখন বেশি লাভজনক। মৌসুমি সবজি হলেও লাউয়ের উৎপাদন চলে সারা বছর। গাছে কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম, ফলে কীটনাশকের ব্যবহারও কম হয়। শ্রম ও সারের খরচও তুলনামূলকভাবে কম। বাড়ির নারীরাও সহজে লাউ সংগ্রহ করতে পারেন, এতে শ্রম ব্যয়ও কমে যায়। ফলে উৎপাদন ও বিক্রি- দুটিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন চাষিরা।
কদমতলী গ্রামের কৃষক খোকন ব্যাপারী বলেন, ‘আমি প্রায় তিন কানি বা ৯০ শতক জমিতে হাইব্রিড ও দেশি জাতের লাউ চাষ করেছি। উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন বাজার ছাড়াও পাশের উপজেলার বাজারগুলোতেও লাউ বিক্রি করি। জমি থেকে তোলার পর পিকআপভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিটি লাউ খুচরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর পাইকারিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রায় ১৫ বছর ধরে লাউ চাষ করি। প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার লাউ ও শাক বিক্রি হয়।’
গোলাপের চর গ্রামের কৃষক মো. মহাসিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। এ পর্যন্ত ২ লাখ টাকার বেশি লাউ বিক্রি করেছি। আরও প্রায় ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারব। শুরুতে ভালো দাম পাইনি, কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভালো দাম পাচ্ছি। আশা করছি, খরচের তুলনায় তিনগুণ বেশি লাভ হবে।’
কুশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘এ বছর ৬০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই চাষ করছি। এবারও মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে আরও কয়েক শতাংশ জমিতে লাউ চাষ বাড়াব।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ উপজেলায় প্রায় ১২০ একর জমিতে লাউ আবাদ হয়েছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। আগামীতে চাষ আরও বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হিসেবে লাউ চাষে প্রণোদনা নেই, তবে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
কৃষকরা বলছেন, সরকারি নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।