কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরির রায়া দেবনাথ মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলার চিত্র গীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।
রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমের উদ্যোগে প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সে হিসেবে গত ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হলো বাংলা চিত্র গীতির এই আসর।
কলকাতা শহরের সঙ্গীতপ্রেমীরা গ্রামোফোনে পুরনো রেকর্ডের গান শোনার জন্য মিলিত হন।
শুধুমাত্র একসঙ্গে বসে গান শোনা নয়, তথ্য সমৃদ্ধ এক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকেন সংস্কৃতিপ্রেমী কলকাতাবাসী।
এই অভিনব উদ্যোগ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক সার্থক প্রচেষ্টা।
শতাব্দী প্রাচীন রামমোহন লাইব্রেরি বাংলার বহু মনীষীর পদধূলিধন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম সহ বাংলা ভাষার বরেণ্য সাহিত্যিকরা রামমোহন লাইব্রেরিতে বহু অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সেই পুণ্যভূমিতে বছরব্যাপী একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন রামমোহন লাইব্রেরি এন্ড ফ্রি রিডিং রুমের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র।
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উৎপল চৌধুরী। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন চন্দন চ্যাটার্জী ও অর্পন চ্যাটার্জি।
বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শ্রোতারা গানের অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানে গান নির্বাচন করেন উৎপল চৌধুরী। সেই সঙ্গে গানগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন।
কানন দেবীর কণ্ঠে ‘বিদ্যাপতি’ চলচ্চিত্রের ‘অঙ্গনে আওবে যব রসিয়া’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘ছুটি’ চলচ্চিত্রের ‘আমার হাত ধরে তুমি’, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘ভানু পেল লটারি’ চলচ্চিত্রের ‘পুতুল নেবে গো’, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ চলচ্চিত্রের ‘কে তুমি আমারে ডাক’, মান্না দের কণ্ঠে ‘এ্যান্টনী ফিরিঙ্গি’ চলচ্চিত্রের ‘আমি যে জলসা ঘরে’, শ্যামল মিত্র ও মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘দেয়া নেয়া’ চলচ্চিত্রের ‘দোলে দোদুল দোলে ঝুলনা’, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রের ‘আজ দুজনার দুটি পথ’সহ বেশ কিছু গান দর্শকদের অনুরোধে শোনানো হয়।
উৎপল চৌধুরীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে।
সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে রামমোহন লাইব্রেরির এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক- সঙ্গীতপ্রেমীদের এমনটাই প্রত্যাশা।
অমিয়/