পশ্চিমবঙ্গে ছায়ানট (কলকাতা)-এর উদ্যোগে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বিদূষী অনসূয়া মুখোপাধ্যায়।
সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টায় যোগেন চৌধুরী সেন্টার ফর আর্টস-এর চারুবাসনার উপেন্দ্রকিশোর সভাগৃহে (সাউথ সিটি মলের বিপরীতে) হবে এই অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় আছেন সোমঋতা মল্লিক।
অনুষ্ঠানে একক পরিবেশনায় অংশ নেবেন সুরজিৎ সেন, রাজশ্রী বসু, আশিসবরণ মল্লিক, সঞ্চিতা মিত্র, শর্মিষ্ঠা রায়, চিত্রা সোম বসু, তনুশ্রী অধিকারী, মিতালী ভট্টাচার্য্য, চয়নিকা চট্টোপাধ্যায়, ঐশানী মজুমদার, আর্যদ্যুতি ঘোষ এবং অর্ঘ্যদ্যুতি ঘোষ।
বিশেষ পরিবেশনায় থাকছেন শব্দবিহঙ্গের সুস্মিতা সেনগুপ্ত ও রাখী পাত্র নস্কর।
দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেবে বিষের বাঁশী, কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, নবমূর্ছনা, কাব্যার্পণ, রীতা মিউজিক একাডেমি এবং শ্রুতিশৈলী (মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর)।
অনুষ্ঠানে ‘নার্গিস ও নজরুল’ শীর্ষক একটি শ্রুতি নাটক পরিবেশিত হবে। শ্রুতি নাট্যরূপ দিয়েছেন তন্ময় দে বিশ্বাস, এবং সৃজনেও যুক্ত আছেন তন্ময় দে বিশ্বাস ও কাকলি ব্রহ্মচারী।
বিদূষী অনসূয়া মুখোপাধ্যায়
বিদূষী অনসূয়া মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ৭ ডিসেম্বর বিহারের জামশেদপুরে। সাত বছর বয়স থেকেই তাঁর সংগীত শিক্ষার সূচনা হয় গুরু শ্রী চন্ডীচরণ সরখেলের কাছে।
কলেজ জীবনে ১৯৬৩–৬৪ সালে তিনি দিল্লিতে ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের পর ১৯৬৮ সাল থেকে আকাশবাণী কলকাতায় খেয়াল, ভজন, রাগপ্রধান গান, নজরুল সংগীত, শ্যামাসংগীতসহ বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আকাশবাণী ও দূরদর্শনের একজন টপ-গ্রেড শিল্পী হিসেবে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন।
তিনি সংগীতের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বিদূষী মীরা বন্দ্যোপাধ্যায় (ক্লাসিক্যাল), পণ্ডিত নিহাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (লঘু সংগীত), শ্রী সুকুমার মিত্র এবং শ্রী বিমান মুখোপাধ্যায়ের কাছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তাঁদের কাছেই সংগীতচর্চা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
গান রেকর্ড
১৯৭৯ সালে সন্তোষ সেনগুপ্তের পরিচালনায় মিউজিক ইন্ডিয়া থেকে তাঁর প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর এইচএমভি থেকে একাধিক নজরুল সংগীতের রেকর্ড প্রকাশ পায়, যেখানে একপিঠে সুকুমার মিত্র অথবা অধীর বাগচীর গান থাকত। এ ছাড়াও শ্রী অমলেন্দু বিকাশ কর চৌধুরীর পরিচালনায় (নিজস্ব লেখা ও সুরে) বাংলা রাগপ্রধান গান তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালে এইচএমভি থেকে রেকর্ড করেন।
আকাশবাণীতে তিনি লোকাল অডিশন বোর্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নজরুল সংগীত শিক্ষার আসর পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি আকাশবাণী ও দূরদর্শনের অসংখ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে সংগীত শিক্ষা দিচ্ছেন, যাদের অনেকেই পরে আকাশবাণী ও দূরদর্শনের স্বীকৃত শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানানো যাচ্ছে। প্রয়োজনে ৯৮৩ ৬২৩ ৯০৩১ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
অমিয়/