ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত
Nagad desktop

কলকাতায় নানা আয়োজনে চেতনার কবি নজরুলকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
কলকাতায় নানা আয়োজনে চেতনার কবি নজরুলকে স্মরণ
সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দের নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গানে, কবিতায় কবিকে স্মরণ করেন কলকাতার নজরুলপ্রেমীরা।

ছায়ানট কলকাতা’র সংগ্রহ থেকে নজরুল-বিষয়ক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ নজরুলকে 'বিদ্রোহী' কবির পাশাপাশি 'প্রেমিক' কবি হিসেবে তুলে ধরেন। নজরুলের লেখা 'কবি-রানি' কবিতাটি তিনি বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন। তার কণ্ঠে এই কবিতা শুনে কলকাতার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন।

বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় নজরুল। দুই মনীষীকে স্মরণ করে বিশিষ্ট রুশ ইতিহাসবিদ নাতালিয়া গেরাসিমোভার লেখা কবিতা বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন ম্যাক্সিম কোজলভ। কলকাতায় রুশ দূতাবাসের ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা বাংলায় এবং রুশ ভাষায় পাঠ করেন নজরুলের লেখা স্বল্পশ্রুত কবিতা 'ভীরু'। গোর্কি সদনের রুশ ভাষা শিক্ষা বিভাগের ছাত্রীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। তাদের কণ্ঠে শোনা যায় ২টি জনপ্রিয় নজরুল-সঙ্গীত 'আমি যার নূপুরের ছন্দ' এবং 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু'।

কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ ও ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা অনুষ্ঠানে আলোচনা করছেন। ছবি: সংগৃহীত

সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ সমবেতভাবে নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। 'মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম', 'নবীন আশা জাগলো যে রে আজ', 'চল্ চল্ চল্', 'কারার ওই লৌহ কপাট' -গানগুলির সঙ্গে দর্শকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে গলা মেলান।

এরপর ইন্দ্রাণী চৌধুরী নজরুলের লেখা 'বিজয়িনী' কবিতাটি পাঠ করেন। পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় 'নজরুলের প্রাণপ্রিয় বুলবুল'। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে তার অকালপ্রয়াত দ্বিতীয় পুত্রের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। কবিতায় অংশগ্রহণ করেন রাজশ্রী বসু, তিস্তা দে এবং দেবলীনা চোধুরী। সোমঋতার কণ্ঠে শোনা যায় 'শূন্য এ বুকে পাখি মোর' গানটি,  নজরুলপ্রেমীদের চোখ আর্দ্র হয়ে ওঠে। নজরুল রচিত ২টি শ্যামা-সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠান শেষ হয় সোমঋতার কণ্ঠে 'আমি চিরতরে দূরে চলে যাব' গানটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। তার সাবলীল সঞ্চালনা এবং নজরুলকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে ছায়ানট কলকাতা’র পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছবি তুলে দেওয়া হয়। ছবিটির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে-রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত নজরুল রচনা-প্রকাশ অনুষ্ঠানে সোভিয়েত প্রতিনিধিদের মাঝখানে নজরুল (১৯৬৭)। কাজী নজরুল ইসলামের সুহৃদ মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ- এর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, "শুনেছি (চোখে দেখিনি) 'সাম্যবাদী' তখন রুশ ভাষায় তর্জমা করা হয়েছিল।" 'বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য' প্রবন্ধে নজরুল বিশ্বের মহান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির কথা উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত

গোর্কি সম্পর্কে নজরুল বলেছেন -"তারপর এল এই মহাপ্লাবনের ওপর তুফানের মতো - ভয়াবহ সাইক্লোনের মতো বেগে ম্যাক্সিম গোর্কি। চেকভের নাট্যমঞ্চ ভেঙে পড়ল, সে বিস্ময়ে বেরিয়ে এসে এই ঝড়ের বন্ধুকে অভিবাদন করলে। বেদনার ঋষি দস্তয়েভস্কি বললে : তোমার সৃষ্টির জন্যই আমার এ তপস্যা। চালাও পরশু, হানো ত্রিশূল! বৃদ্ধ ঋষি টলস্টয় কেঁপে উঠলেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলেন : That man has only one God and that is Satan. কিন্তু এই তথাকথিত শয়তান অমর হয়ে গেল, ঋষির অভিশাপ তাকে স্পর্শও করতে পারলে না। 

গোর্কি বললেন: দুঃখ-বেদনার জয়গান গেয়েই আমরা নিরস্ত হব না — আমরা এর প্রতিশোধ নেব। রক্তে নাইয়ে অশুচি পৃথিবীকে শুচি করব।" 

 ছায়ানট কলকাতা’র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। ছবি: সংগৃহীত

নজরুল গবেষক মাহবুবুল হকের নজরুল তারিখ অভিধান থেকে জানা যায়- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই খ্যাতনামা রুশ লেখক মক্সিম গোর্কির মৃত্যুতে (১৮ জুন, ১৯৩৬) প্রগতি লেখক সংঘের উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলের কমিটি রুমে যে শোক সভা হয় তার অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন নজরুল। নজরুল ছাড়াও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সতেন্দ্রনাথ মজুমদার, সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, বিবেকান্দ মুখোপাধ্যায়, খগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। এই সভা থেকেই নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তকে সভাপতি ও সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে সম্পাদক করে নিখিল বঙ্গ প্রগতি লেখক সংঘ গঠনের কথা ঘোষিত হয়। 

এইসব তথ্যের ভিত্তিতে সহজেই বলা যায় - রুশ বিপ্লব, রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন চেতনার কবি নজরুল। তাই নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গোর্কি সদনে তার স্মরণে ছায়ানট (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ১৮ বছর ধরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ছায়ানট (কলকাতা)। শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী কিংবা প্রয়াণ দিবস স্মরণ করা নয়, সারা বছর ধরেই তার সৃষ্টি নিয়ে চর্চা করাই ছায়ানটের উদ্দেশ্য। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নজরুলপ্রেমীদের অবগত করাও ছায়ানটের কার্যক্রমের অংশ।

ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত

ছায়ানট কলকাতা’র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক বলেন, "আমরা জানতে পারি, নজরুলের বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই বিশেষ ছবির সন্ধান পাই যা সত্যি আমাদের চমৎকৃত করে। সেই ছবিটি গোর্কি সদনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি গোর্কি সদনের প্রোগ্রাম অফিসার শ্রী গৌতম ঘোষের প্রতি, তার আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

আশা করি গোর্কি সদনের সংগ্রহশালায় যত্ন সহকারে প্রদর্শিত হবে এই ছবি, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষেরা এলে সহজেই দেখতে পাবেন। আজ এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাদের প্রাণের কবিকে স্মরণ করতে পেরে আমরা সত্যিই অভিভূত।"

এসএন/

বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান
মোহাম্মদ আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত

বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বারাকাহ ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। 

নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিচারপতি রউফ দেশ-জাতির কল্যাণে সবসময় বলিষ্ঠ কন্ঠ ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। 

দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই স্মারক গ্রন্থে লেখা, স্মৃতিচারণ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি ও তথ্য দিয়ে অংশ নিতে পারেন। নির্বাচিত লেখা ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। 

আগামি ৯ জুনের মধ্যে লেখা, ছবি ও তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 

ঠিকানা: দি বারাকাহ ফাউন্ডেশন, ১৮ শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার রেলগেট, ঢাকা-১২১৭ 
ই-মেইল: [email protected] 

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: ০১৩২১ ১৪৩৫২৮, ০১৩২১ ১৪৩৫২০ নাম্বারে তথ্য পাঠাতে পারেন।

 

এসএন/

১৪ সংগঠনের বিবৃতি নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’-রচনার শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার ও সাম্যবাদী চেতনার প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের প্যাডে ১৪টি সংগঠনের পক্ষে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে। 

সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত সংস্থা,  জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন; বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী উল্লেখ্যযোগ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন এবং এতে সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রথম গানটি গেয়ে শোনান।  পরবর্তীতে ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’ পত্রিকায় এর নজরুল-কৃত স্বরলিপি প্রকাশ পায়। 

১৯২৬ সালের জুন মাসেই নজরুল ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন।  
যৌথ বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিষ্ণুভাবে আঘাত হানছে। এসময় নজরুলের ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে।  এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দর্শকনন্দিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।

তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)- এর শিক্ষার্থী।

এর আগে শনিবার বিকেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধীতার কারণে জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'- এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিনেমাটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল সংগঠনটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরে প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার কারণে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করে কার্টুনিস্ট আদিব রেজা রঙ্গণ। তবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

প্রদর্শনীর আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ বলেন, আমাদের পারিবারিক একটি প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। ভোজ শেষে রাত ১১টায় সিনেমা প্রদর্শনীর কথা ছিল। এজন্য পর্দা এবং চেয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ আসে। ৫-৭ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানার ওসিও ছিলেন। তারা জানায় যে, সিনেমাটা নিয়ে জেলা শহরে বিতর্ক চলছে। সেজন্য এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওনাদেরকে আমি বুঝিয়েছি যে সিনেমাটাতে অশ্লীল কিছু নেই। বিতর্কের কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রদর্শন করতে দেয়নি।

তবে ৫-৭ গাড়ি পুলিশ নিয়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, আমাদের একজন অফিসার ও দুইজন কনস্টেবল এবং আমি ও এসিল্যান্ড গিয়েছিলাম। ৭ গাড়ি পুলিশ কোথায় পাব? এতো পুলিশ আমার থানাতেও নেই। সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি আছে কিনা- সেট জানার জন্যই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাই প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির বলেন, ওখানে রাতের বেলা একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মনে হয়। একজন অভিযোগ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর কিছু দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে ওনারাও বলেছেন যে এখানে কোনো আয়েজন নাই, সবকিছু সরিয়ে নিচ্ছি।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

নওগাঁয় ৫ দিনব্যাপী কত্থক নৃত্য প্রশিক্ষণ শুরু

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
নওগাঁয় ৫ দিনব্যাপী কত্থক নৃত্য প্রশিক্ষণ শুরু
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় ৫ দিনব্যাপী কত্থক নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

নওগাঁর নৃত্য বিষয়ক ঐতহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান "নৃত্য রং একাডেমী" এই উচ্চাঙ্গ নৃত্য (কত্থক) প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে।

শহরের প্যারীমোহন লাইব্রেরী মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক এস এম সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মনোয়ার হোসেন লিটন, হাতে খড়ি'র সম্পাদক নওরীন আকতার শারমিন, মানবাধিকার নেতা চন্দন কুমার দেব, পুতুল ব্যানার্জী নৃত্য রং একাডেমি'র পরিচালক সুলতান মাহমুদ ও লিজা সুলতান প্রমুখ।

৩০ জন শিশু ও কিশোরী অংশগ্রহণ করছে কর্মশালায়। এতে প্রশিক্ষণ দেবেন দেশের খ্যাতিমান কত্থক নৃত্য শিল্পী সাজু আহমেদ। আগামী ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এই কর্মযজ্ঞ। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া হবে।

এসএন/

কলকাতায় নানা আয়োজনে চেতনার কবি নজরুলকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
কলকাতায় নানা আয়োজনে চেতনার কবি নজরুলকে স্মরণ
সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দের নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গানে, কবিতায় কবিকে স্মরণ করেন কলকাতার নজরুলপ্রেমীরা।

ছায়ানট কলকাতা’র সংগ্রহ থেকে নজরুল-বিষয়ক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ নজরুলকে 'বিদ্রোহী' কবির পাশাপাশি 'প্রেমিক' কবি হিসেবে তুলে ধরেন। নজরুলের লেখা 'কবি-রানি' কবিতাটি তিনি বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন। তার কণ্ঠে এই কবিতা শুনে কলকাতার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন।

বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় নজরুল। দুই মনীষীকে স্মরণ করে বিশিষ্ট রুশ ইতিহাসবিদ নাতালিয়া গেরাসিমোভার লেখা কবিতা বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন ম্যাক্সিম কোজলভ। কলকাতায় রুশ দূতাবাসের ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা বাংলায় এবং রুশ ভাষায় পাঠ করেন নজরুলের লেখা স্বল্পশ্রুত কবিতা 'ভীরু'। গোর্কি সদনের রুশ ভাষা শিক্ষা বিভাগের ছাত্রীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। তাদের কণ্ঠে শোনা যায় ২টি জনপ্রিয় নজরুল-সঙ্গীত 'আমি যার নূপুরের ছন্দ' এবং 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু'।

কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ ও ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা অনুষ্ঠানে আলোচনা করছেন। ছবি: সংগৃহীত

সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ সমবেতভাবে নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। 'মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম', 'নবীন আশা জাগলো যে রে আজ', 'চল্ চল্ চল্', 'কারার ওই লৌহ কপাট' -গানগুলির সঙ্গে দর্শকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে গলা মেলান।

এরপর ইন্দ্রাণী চৌধুরী নজরুলের লেখা 'বিজয়িনী' কবিতাটি পাঠ করেন। পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় 'নজরুলের প্রাণপ্রিয় বুলবুল'। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে তার অকালপ্রয়াত দ্বিতীয় পুত্রের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। কবিতায় অংশগ্রহণ করেন রাজশ্রী বসু, তিস্তা দে এবং দেবলীনা চোধুরী। সোমঋতার কণ্ঠে শোনা যায় 'শূন্য এ বুকে পাখি মোর' গানটি,  নজরুলপ্রেমীদের চোখ আর্দ্র হয়ে ওঠে। নজরুল রচিত ২টি শ্যামা-সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠান শেষ হয় সোমঋতার কণ্ঠে 'আমি চিরতরে দূরে চলে যাব' গানটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। তার সাবলীল সঞ্চালনা এবং নজরুলকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে ছায়ানট কলকাতা’র পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছবি তুলে দেওয়া হয়। ছবিটির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে-রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত নজরুল রচনা-প্রকাশ অনুষ্ঠানে সোভিয়েত প্রতিনিধিদের মাঝখানে নজরুল (১৯৬৭)। কাজী নজরুল ইসলামের সুহৃদ মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ- এর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, "শুনেছি (চোখে দেখিনি) 'সাম্যবাদী' তখন রুশ ভাষায় তর্জমা করা হয়েছিল।" 'বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য' প্রবন্ধে নজরুল বিশ্বের মহান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির কথা উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত

গোর্কি সম্পর্কে নজরুল বলেছেন -"তারপর এল এই মহাপ্লাবনের ওপর তুফানের মতো - ভয়াবহ সাইক্লোনের মতো বেগে ম্যাক্সিম গোর্কি। চেকভের নাট্যমঞ্চ ভেঙে পড়ল, সে বিস্ময়ে বেরিয়ে এসে এই ঝড়ের বন্ধুকে অভিবাদন করলে। বেদনার ঋষি দস্তয়েভস্কি বললে : তোমার সৃষ্টির জন্যই আমার এ তপস্যা। চালাও পরশু, হানো ত্রিশূল! বৃদ্ধ ঋষি টলস্টয় কেঁপে উঠলেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলেন : That man has only one God and that is Satan. কিন্তু এই তথাকথিত শয়তান অমর হয়ে গেল, ঋষির অভিশাপ তাকে স্পর্শও করতে পারলে না। 

গোর্কি বললেন: দুঃখ-বেদনার জয়গান গেয়েই আমরা নিরস্ত হব না — আমরা এর প্রতিশোধ নেব। রক্তে নাইয়ে অশুচি পৃথিবীকে শুচি করব।" 

 ছায়ানট কলকাতা’র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। ছবি: সংগৃহীত

নজরুল গবেষক মাহবুবুল হকের নজরুল তারিখ অভিধান থেকে জানা যায়- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই খ্যাতনামা রুশ লেখক মক্সিম গোর্কির মৃত্যুতে (১৮ জুন, ১৯৩৬) প্রগতি লেখক সংঘের উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলের কমিটি রুমে যে শোক সভা হয় তার অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন নজরুল। নজরুল ছাড়াও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সতেন্দ্রনাথ মজুমদার, সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, বিবেকান্দ মুখোপাধ্যায়, খগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। এই সভা থেকেই নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তকে সভাপতি ও সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে সম্পাদক করে নিখিল বঙ্গ প্রগতি লেখক সংঘ গঠনের কথা ঘোষিত হয়। 

এইসব তথ্যের ভিত্তিতে সহজেই বলা যায় - রুশ বিপ্লব, রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন চেতনার কবি নজরুল। তাই নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গোর্কি সদনে তার স্মরণে ছায়ানট (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ১৮ বছর ধরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ছায়ানট (কলকাতা)। শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী কিংবা প্রয়াণ দিবস স্মরণ করা নয়, সারা বছর ধরেই তার সৃষ্টি নিয়ে চর্চা করাই ছায়ানটের উদ্দেশ্য। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নজরুলপ্রেমীদের অবগত করাও ছায়ানটের কার্যক্রমের অংশ।

ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত

ছায়ানট কলকাতা’র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক বলেন, "আমরা জানতে পারি, নজরুলের বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই বিশেষ ছবির সন্ধান পাই যা সত্যি আমাদের চমৎকৃত করে। সেই ছবিটি গোর্কি সদনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি গোর্কি সদনের প্রোগ্রাম অফিসার শ্রী গৌতম ঘোষের প্রতি, তার আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

আশা করি গোর্কি সদনের সংগ্রহশালায় যত্ন সহকারে প্রদর্শিত হবে এই ছবি, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষেরা এলে সহজেই দেখতে পাবেন। আজ এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাদের প্রাণের কবিকে স্মরণ করতে পেরে আমরা সত্যিই অভিভূত।"

এসএন/